Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৮ জুন, ২০১৬ ০০:০৯
বিচিত্রিতা
ফিনিসীয় জাতি

ফিনিসীয়রা সেমিটিক জাতিরই একটি শাখা। তারা ভূমধ্যসাগর ও লেবানন পর্বতের মধ্যবর্তী অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে ফিনিসীয় সভ্যতা গড়ে তোলে। ফিনিসীয়রা অ্যাসিরীয় ও ব্যাবিলনীয় জাতির মতো একক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। তারা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নগররাষ্ট্রে বাস করত। রাজা ও পরিষদ কর্তৃক এসব নগররাষ্ট্র শাসিত হতো। নগররাষ্ট্রের মধ্যেই সিডন ও টায়ার অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ছিল। কিন্তু সমুদ্রতীরে অবস্থিত এ দুটি শহর সামরিক দুর্বলতার জন্য প্রায়ই বিদেশিদের আক্রমণের শিকার হতো এবং শেষ পর্যন্ত তারা তাদের স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারেনি। ফিনিসীয়রা নানা দেবদেবীর পূজা করত। সূর্য-দেবতা বা আল ও চন্দ্র-দেবতা অ্যাসটোরেক সবচেয়ে শক্তিশালী  দেবতা বলে ভাবা হতো। দেবতার সন্তুষ্টির জন্য ফিনিসীয়রা অনেক সময় নিজেদের সন্তানকেও বলি দিত। ফিনিসীয়রা ব্যবসায়-বাণিজ্য করে জীবিকা অর্জন করত। জলপথে স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, নরওয়ে এবং স্থলপথে আরব, পারস্য অ্যাসিরিয়া মধ্য এশিয়া ও ককেশীয় অঞ্চলের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য সম্পর্ক ছিল। শিল্প ও সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিসীয়দের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য অবদান হলো উন্নত লিখন পদ্ধতি ও লেখার কাগজ পেপাইরাসের প্রবর্তন। তারা মিসর ও ব্যাবিলনের ৬০০ অক্ষরকে ২২টিতে হ্রাস করে লিখন পদ্ধতিকে সহজ করে। তাদের এ পদ্ধতি রোমান ও গ্রিকরা ইউরোপে প্রচার করে। ইউরোপের শিক্ষা ও সভ্যতার প্রসারে ফিনিসীয়দের অবদান অস্বীকার করা যায় না। লিখন পদ্ধতি, তথা জ্ঞান বিস্তারের ক্ষেত্রে অক্ষরের বিজ্ঞানসম্মত ব্যবহার এবং ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক উন্নত ধরনের ওজন ও পরিমাপ ব্যবস্থার প্রবর্তনে তারা মূল্যবান অবদান রেখে গেছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow