Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৯ জুন, ২০১৬ ২৩:৩৮
বেপরোয়া চাঁদাবাজি
ব্যবসা বাণিজ্য ও পরিবহন খাতে অস্বস্তি

ঈদকে সামনে রেখে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। বস্তি থেকে ফ্ল্যাট, ফুটপাথ থেকে বিপণি বিতান, কাঁচাবাজার থেকে অফিস আদালত— কোথাও নিস্তার নেই চাঁদাবাজদের হাত থেকে। নীরব বা সরব চাঁদাবাজি অস্থির করে তুলছে নাগরিক জীবনকে। কোথাও চাঁদাবাজিতে শামিল হচ্ছে পুলিশ সদস্যরা। তল্লাশির নামে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। কোথাও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মোবাইল ফোনে চলছে চাঁদাবাজির পাঁয়তারা। পুলিশ ও সন্ত্রাসী যেন এ ক্ষেত্রে বাঁধা পড়ছে একসূত্রে। রাস্তায় বাঁশ ফেলে পরিবহন আটকে যাত্রীদের কাছ থেকে চাঁদা তোলা হচ্ছে মসজিদ-মাদ্রাসার নামে। পথচারীদের সাপ দেখিয়ে সাপুড়েদের চাঁদাবাজি যেমন বেড়েছে, তেমনি হিজড়ারাও চাঁদা তুলছে নানা হুমকি দিয়ে। ঈদকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এখন যে অবিরাম চাঁদাবাজি চলছে, তার কাছে অসহায় হয়ে পড়ছে সর্বস্তরের মানুষ। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ যখন ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখন সশস্ত্র চাঁদাবাজদের বেপরোয়া দৌরাত্ম্যে সেই খুশি উবে যাচ্ছে।

কখনো কখনো তা আতঙ্কে পরিণত হচ্ছে। এ বিষয়ে ঢাকায় বেশ কয়েকটি থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। ডিবি, র‌্যাব ও পুলিশের বিভিন্ন দফতরে অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অনেকেরই চাঁদা দিতে দিতে পুঁজিতে টান পড়ার উপক্রম। রেহাই নেই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদেরও। তারাও হাঁপিয়ে উঠেছেন চাঁদার টাকা গুনতে গুনতে। ভুক্তভোগী কোনো কোনো ব্যবসায়ী নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অনেকে মোবাইল ফোনের সুইচও বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এ দুর্বৃৃত্তদের কবল থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষার যেন কেউ নেই। নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের ট্যাক্সের টাকায় পোষা হয় পুলিশ। সেই পুলিশ সদস্যরা নিজেরাই জড়িয়ে পড়ছে চাঁদাবাজিতে। ঈদকে সামনে রেখে ছাত্র ও যুব সংগঠন নামধারীদের দুর্বৃত্তপনাও চরমে। চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবহন খাতে। প্রত্যক্ষ শিকার ব্যবসায়ীরা হলেও পরোক্ষ শিকার সাধারণ মানুষ।   সভ্য সমাজের বাসিন্দা বলে নিজেদের ভাবতে হলে চাঁদাবাজ নামের দুর্বৃত্তদের রুখতেই হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow