Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৭

প্রকাশ : শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ জুলাই, ২০১৬ ০০:০৮
ইস্তাম্বুলে জঙ্গি হামলা
দুধ কলা দিয়ে সাপ পোষার পরিণতি

সাপ পুষলে সাপের ফণায় জীবন দিতে হয়— এটা শুধু কবিতার পঙিক্তই নয়, বাস্তবও বটে। তুরস্কের ইস্তাম্বুল আতাতুর্ক বিমানবন্দরে জঙ্গি হামলায় প্রায় তিনশ জনের হতাহতের ঘটনা সে সত্যকেই তুলে ধরেছে। সবারই জানা ইরাক ও সিরিয়ায় জঙ্গি উত্থানে মদদদাতার ভূমিকা পালন করেছে তুরস্কের বর্ণচোরা মৌলবাদী সরকার। দুনিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে জঙ্গিরা আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় জমা হয়েছে তুরস্কের ভূখণ্ড ব্যবহার করে। শুধু ইরাক-সিরিয়ার জঙ্গি নয়, দুনিয়ার অন্যান্য দেশের জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের জন্য তুরস্কের দরদ চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির ঘটনায় পাকিস্তানের চেয়েও এককাঠি সরেশ ভূমিকা পালন করে এই দেশটি। তারা তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার ও বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার সমালোচনা করার ধৃষ্টতাও দেখায়। সিরিয়া ও ইরাকের জঙ্গিদের তুরস্ক মদদ জুগিয়েছিল প্রতিবেশী দুই দেশে নিজেদের রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য। একদিকে ইসরাইল ও পশ্চিমা দুনিয়ার সঙ্গে মিতালী, অন্যদিকে ইসলামের নামে চরমপন্থার চর্চা এই দ্বৈত ভূমিকা এক পর্যায়ে সম্ভবত পশ্চিমা মিত্রদের কাছেও ধরা পড়ে। তাদের চাপে শেষ পর্যন্ত তুরস্ক সিরিয়া-ইরাকের আইএসের বিরুদ্ধে অভিযানে নামতে বাধ্য হয়। ইস্তাম্বুলের ব্যস্ত আতাতুর্ক বিমানবন্দরে সংঘটিত জঙ্গি হামলাকে তাই তুরস্কের দুধ কলা দিয়ে পোষা সাপের ছোবল বলেই ভাবা হচ্ছে। তুর্কি কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে, আইএসের হামলার সঙ্গে বিমানবন্দরে জঙ্গি হামলার মিল রয়েছে। তুরস্কের মদদে এক সময় আইএস জঙ্গিরা লালিত-পালিত হলেও তাদের দৃষ্টিতে আঙ্কারার এরদোগান সরকার পশ্চিমা ঘেঁষাই শুধু নয়, অনৈসলামিক। মাত্র তিনজন জঙ্গি ট্যাক্সি করে বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল লাউঞ্জে প্রবেশ করে নির্বিচারে গুলি করতে শুরু করে। পুলিশ পাল্টা গুলি চালানো শুরু করলে জঙ্গিরা সঙ্গে থাকা বোমা ফাটিয়ে নিজেদের উড়িয়ে দেয়। যা ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।   ইস্তাম্বুলের আতাতুর্ক বিমানবন্দরে জঙ্গি হামলায় যারাই জড়িত থাকুক তাদের একটিই পরিচয়— তারা মানবতার শত্রু। এ শত্রুরা কামাল আতাতুর্ক প্রতিষ্ঠিত আধুনিক তুরস্কের অস্তিত্বের জন্যও হুমকি সৃষ্টি করছে।   শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম ইসলামকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টায়ও তারা নিয়োজিত। মুসলিম বিশ্বের উচিত হবে নিজেদের স্বার্থেই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow