Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ জুলাই, ২০১৬ ০০:০৯
মুসা-দাউদ (আ.)সহ বিভিন্ন নবীর যুগেও এতেকাফের প্রচলন ছিল
মাওলানা মাহ্মূদুল হাসান

আত্মশুদ্ধির জন্য রোজার মতোই প্রাক-ইসলামী যুগেও এতেকাফের প্রচলন ছিল। কিন্তু পূর্বেকার নবীদের যুগে এতেকাফের কি নিয়ম-বিধান ছিল, সেই সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো কিছু বলা মুশকিল। তবে হজরত দাউদ (আ.) ও হজরত মূসা (আ.)সহ বিভিন্ন নবী ও তাদের উম্মতের জীবনী থেকে এতেকাফের মোটামুটি সন্ধান পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, বিধর্মীদের মধ্যেও এতেকাফের নিয়ম ছিল বলে বুখারি ও মুসলিমসহ হাদিসের বিভিন্ন কিতাবে সন্ধান পাওয়া যায়। হজরত ওমর ফারুক একদিন রসুলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, ইয়া রসুলাল্লাহ! আমি জাহেলি যুগে ‘মাসজিদুল হারামে’ এক রাত এতেকাফের মান্নত করেছিলাম। রসুলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, তোমার মান্নত পূরণ করে নাও। এ হাদিস দ্বারা বোঝা যায় যে, হজরত ওমর অমুসলিম থাকা অবস্থায় এতেকাফের মান্নত করেছিলেন এবং এতেকাফের এই নিয়ম তাদের মধ্যে চালু ছিল। পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘তাওয়াফ ও এতেকাফকারীদের জন্য আমার ঘর পাক কর’— এই আয়াত থেকেও পূর্বকালে এতেকাফের সন্ধান পাওয়া যায়। তবে সে এতেকাফ ছিল অন্য ধরনের এবং অন্য উদ্দেশ্যে। ইসলাম এতেকাফকে প্রথাগত বিষয় হিসেবে চালু রেখে খালেছ ইবাদতে পরিণত করেছে এবং অন্যান্য ইবাদতের মতোই এতেকাফের জন্য বিভিন্ন ধরনের শর্তাবলী আরোপ করেছে। ইসলামে এতেকাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এ জন্যই রসুলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে অতি পাবন্দী ও আগ্রহের সঙ্গে এতেকাফ করেছেন এবং সাহাবাদেরও এতেকাফ করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন হজরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) বলেন : ‘প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন। অতঃপর রসুলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণও এতেকাফ করতেন। ’ বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ পালন করতেন। কিন্তু যে বছর রসুলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাত হয়, সে বছর তিনি ২০ দিনের এতেকাফ পালন করেন। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, প্রতি বছর রমজানে রসুলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর একবার পবিত্র কোরআন পেশ করা হতো কিন্তু ওফাতের বছর দুবার পেশ করা হয়েছে। আর প্রতি রমজানে তিনি দশ দিন এতেকাফ করলেও  ওফাতের বছর ২০ দিন এতেকাফ করেছেন।

লেখক : ইসলামী গবেষক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow