Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৭

প্রকাশ : শনিবার, ২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০৮
ডাইনে তাহার শনির দশা! বাঁয়ে আছে রাহুগ্রাস!
গোলাম মাওলা রনি
নিজস্ব প্রতিবেদক
ডাইনে তাহার শনির দশা! বাঁয়ে আছে রাহুগ্রাস!

নির্মম নিয়তি যেন অক্টোপাসের মতো আঁকড়ে ধরে আছে দেশের প্রধানতম রাজনৈতিক দল বিএনপিকে। প্রায় নয়টি বছর ধরে নানা দুর্বিপাক, চক্রান্ত, ঘরে-বাইরে দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং নিজেদের ব্যর্থতার কারণে বিএনপি ক্রমাগত দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়ে পড়েছে। দলটির কোটি কোটি কর্মী, সমর্থক, বন্ধু এবং শুভানুধ্যায়ীরা— দিনকে দিন ভগ্ন মনোরথ হয়ে নিজেদের ওপর বিশ্বাস এবং আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন।   দলের বর্তমান নেতৃত্বের কর্মকাণ্ড দেখে মনেই হয় না যে তারা তাদের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মনোবেদনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল আছেন অথবা সেসব মনোবেদনার ব্যাপারে তাদের সামান্যতম শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে। বিএনপির ক্রমাবনতির সঙ্গে বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনীতি জড়িত বিধায় দলটির কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও কম নয়। অন্যদিকে, বিএনপির দুর্বলতার কারণে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগও সমানতালে সম্ভবত একটু বেশি মাত্রায় দুর্বল, বিশৃঙ্খল এবং হতাশ হয়ে পড়েছে। ফলে পুরো রাজনৈতিক অঙ্গনকে এক ধরনের দুর্বোধ্য অনিশ্চয়তা, ঘনকুয়াশা, অস্থিরতা, অজানা ভয়-আতঙ্ক, শঙ্কা এবং অনিরাপত্তাবোধ গ্রাস করে ফেলছে। বিএনপির বর্তমান অবস্থানকে আমার কাছে এক ধরনের অধঃপতন এবং অভিশপ্ত পরিস্থিতি বলেই মনে হয়। বিএনপি নেতারা সামগ্রিক পরিস্থিতির জন্য প্রকাশ্যে সরকারকে এবং ১/১১-এর সময়কার মইনউদ্দিন-ফখরউদ্দীনকে দায়ী করে থাকেন। কিন্তু একান্ত ভাবনায় অথবা ঘরোয়া আলোচনায় তারা ঠিকই আত্মসমালোচনা করেন এবং বর্তমান দুর্ভোগ-দুর্দশার জন্য নিজেদের দলের দায়ী লোকজনকে অভিশম্পাত করেন। তবে এ কথা সত্য যে, বর্তমান সরকার সেই প্রথম দিন থেকেই অর্থাৎ ২০০৯ সালের শুরু থেকেই চেষ্টা-তদ্বির করে আসছে বিএনপিকে দুর্বল, অকার্যকর এবং অনুগত গৃহপালিত তথাকথিত বিরোধী দলে পরিণত করার জন্য। তারা হয়তো ঠিক জাতীয় পার্টির মতো বিএনপিকে বানাতে পারেনি কিন্তু বিএনপির যে দশা তারা করেছে তাতে দলটির অবস্থা জাতীয় পার্টির চেয়েও খারাপ হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে একটু খোলাসা করে বললেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

জাতীয় পার্টি সরকারের সঙ্গে সরাসরি লেগে থেকে তাদের স্বার্থ কড়ায় গণ্ডায় আদায় করে নিচ্ছে। মাঝে মধ্যে নিজেদের মধ্যে তথাকথিত দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টি করে তারা সরকারের কাছে নিজেদের দরদাম বাড়িয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির সঙ্গে সরকারের প্রকাশ্যে কোনো লেনদেন না থাকলেও দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেকের সঙ্গে সরকারের সমঝোতা রয়েছে বলে খোদ বিএনপির নেতা-কর্মীরা শত মুখে হররোজ সমালোচনা করছে। তাদের অভিযোগ, একশ্রেণির নেতা সরকারের সঙ্গে খায়খাতির রেখে নিজের আখের গুছিয়ে নিচ্ছে এবং বিএনপির সর্বনাশ ঘটাচ্ছে। জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রে দল, দলীয় কর্মী এবং দলীয় প্রধান সমান তালে সুযোগ নিচ্ছে। ফলে সরকারকে জাতীয় পার্টির দায় বহন করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, বিএনপির নেতাদের কাছ থেকে সরকার তার প্রয়োজন মিটিয়ে নিচ্ছে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ধমক এবং ভয়ভীতির মাধ্যমে। বিএনপির শাসনামলে যারা দুর্নীতির মাধ্যমে টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছিল সেসব নেতা সরকারি ধমকের চাকর হয়ে সরকারের পদতলে বিএনপির স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে। এর বাইরে বিএনপিতে কিছু নেতা রয়েছেন যারা সর্বাবস্থায় খাই খাই করেন এবং খুব অল্প পয়সাতেই বিক্রি হয়ে যান। সরকার বিএনপির সেসব খাই খাই পার্টিকে কারেন্ট জাল দিয়ে এমনভাবে বেষ্টন করে রেখেছে যে তাদের পক্ষে সরকারি ইচ্ছা-অনিচ্ছা থেকে একচুল সরে আসা সম্ভব নয়।

সরকার বিএনপির কতটা অন্দর মহলে ঢুকতে সক্ষম তা দলটির সাম্প্রতিক হালহকিকত দেখে বোঝা যায়। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের পারস্পরিক অবিশ্বাস, দ্বন্দ্ব সংঘাত এবং পরকীয়ার দুটি উদাহরণ দিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। চেয়ারপারসনের সঙ্গে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটির বৈঠকের পূর্বে সবার কাছ থেকে ব্যক্তিগত মোবাইল নিয়ে নেওয়া হয় এই কারণে যে— বৈঠকের আলোচিত বিষয়াদি বৈঠক শেষ হওয়ার পূর্বেই নাকি সরকারি মহলে পাচার হয়ে যায়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বিষয়ে যদি দলের ধারণা এরূপ হয় তবে অন্যদের ব্যাপারে কী হতে পারে তা সহজে অনুমেয়। দ্বিতীয় নমুনা পাওয়া যাবে সাংবাদিক শফিক রেহমান এবং বিএনপি নেতা আসলামের গ্রেফতারের ঘটনার মধ্যে। জনাব শফিক রেহমান বেগম জিয়ার ভাষণের যেসব খসড়া প্রস্তুত করে দিয়েছিলেন তা বেগম জিয়ার হাতে পৌঁছানোর পূর্বেই সরকারের কাছে চলে গিয়েছিল। সাম্প্রতিককালে ফেসবুকেও সেসব গোপনীয় দলিলপত্রের অনুলিপি সবাই দেখতে পাচ্ছেন। অন্যদিকে মোসাদ কেলেঙ্কারিতে বিএনপি নেতা আসলাম গ্রেফতার হওয়ার ছয় মাস পূর্বেই সরকার তার কর্মকাণ্ডে নজর রাখার সুযোগ পেয়েছিল এবং তাকে গোয়েন্দা জালে জড়িয়ে ফেলেছিল। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপির সর্বস্তরের সাধারণ নেতা-কর্মীরা মনে করছেন— বিএনপির দুর্ভাগ্যের শনির দশা এবং রাহুগ্রাসের কারণসমূহ দলটির আশপাশেই রয়েছে।

দলটির বিপুল জনপ্রিয়তা এবং সরকারের অজনপ্রিয় কর্মকাণ্ডের কারণে বেগম জিয়া কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে সেখানে দর্শকদের ভিড় উপচে পড়ে। মিডিয়াগুলোও বিএনপির খবরাখবর বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে। এর ফলে বিএনপি সম্পর্কে সরকারের ক্রোধ বেড়ে যায়। অন্যদিকে বিএনপি নেতারা এক ধরনের আত্মতৃপ্তিতে আহ্লাদিত হয়ে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে গাফেল হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় সরকারি আক্রমণ হলে বিএনপির আত্মতুষ্টিতে ভোগা নেতৃবৃন্দ পেছনে ফিরে দেখেন— কেউ নেই। তখন আত্মতৃপ্তি পরিণত হয় চরম হতাশায়। তারা তখন বাধ্য হয়ে হয় জেলে ঢোকেন নতুবা পালিয়ে বেড়ান। বিএনপির বিপুল জনপ্রিয়তার সুফল ঘরে তোলার জন্য যে সাংগঠনিক শক্তি গড়ে তোলা দরকার এবং অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা দরকার তা দেশের অতি সাধারণ মানুষজন অনুধাবন করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা করছেন না। ফলে পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।

বর্তমানের বিএনপি একটি কার্যকর গণআন্দোলন গড়ে তোলা অথবা আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে সারা দেশে যে কোনো স্থানীয় অথবা জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ব্যাপক ভালো ফলাফল করার যোগ্যতা যে ক্রমাগতভাবে হারিয়ে ফেলছে তার প্রমাণ আমরা গত আড়াই বছরে দেখেছি। ৫ জানুয়ারির প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের পর বিএনপি যেসব রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে আসছে তা যেমন ধীরে ধীরে দুর্বল হতে হতে এখন শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে তেমনি নির্বাচনগুলোতেও বিএনপির ভরাডুবির হার প্রায় একই রকম। এই পরিস্থিতি দীর্ঘ মেয়াদে চলতে থাকলে বিএনপির অস্তিত্ব মুসলিম লীগ কিংবা ভাসানী ন্যাপের মতো হতে বাধ্য। এ অবস্থায় দেশের গণতন্ত্র, রাজনীতি এবং অর্থনীতি, বিএনপির অনুপস্থিতিতে মুখ থুবড়ে পড়বে এবং সর্বত্রই শুরু হবে শূন্যতা। আর সেই শূন্যতা পূরণের জন্য যে পরিস্থিতি আশঙ্কা করা হয় তার অতীত অভিজ্ঞতা আমরা বহুবার আস্বাদন করেছি সেই পাকিস্তান আমল থেকেই। আমাদের সেই অভিজ্ঞতা বড়ই নির্মম, রক্তাক্ত এবং হূদয়বিদারক। ফলে কোনো সুস্থ এবং বিবেকবান মানুষ কোনো দিন গণতন্ত্রের বিকল্প খোঁজে না।

বিএনপিকে যদি বাঁচতে হয় তাহলে প্রথমেই দরকার পড়বে তাদের ডানদিকের শনির দশা এবং বাম দিকের রাহুগ্রাস থেকে নিজেদের হেফাজত করা। যারা দিনের বেলায় পার্টি অফিসে থাকেন এবং রাত হলে অন্য দরবারে ধরনা দেন তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দলের দুর্নীতিবাজ নেতা-কর্মীদের কোনো অবস্থাতেই দায়িত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা যাবে না। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিরূপ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার মাধ্যমে আগামী দিনে সতর্ক হতে হবে। তাদের শাসনামলে যারা কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার মালিক বনে গিয়েছেন, ব্যাংক, বীমা, বাড়ি, গাড়ি, টিভি, রেডিও, সংবাদপত্র ইত্যাদির মালিক হয়েছেন। বিদেশে অর্থপাচার করেছেন, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত অথবা জেল খেটেছেন কিংবা সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন সেসব লোককে খুব দ্রুত খরচের খাতায় ফেলতে হবে। দলের মধ্যে যারা ধনবান অথচ রাজনীতি বোঝেন না— কিংবা রাজনীতির পরিবর্তে সুবিধার নীতি যাদের বেশি মুখস্থ হয় তাদেরও কোণঠাসা করে রাখতে হবে।

বিএনপিকে অনুধাবন করতে হবে যে, তাদের ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন কমিটি গঠন করতে গিয়ে কী পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়! বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির একটি পদ বিক্রির জন্য নিলামের ন্যায় প্রকাশ্যে দেনদরবার করে দরদাম হাঁকা হয়। দলের বড় বড় পদপদবিধারীরা কীভাবে সাধারণ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সারাক্ষণ দুর্ব্যবহার, চিৎকার চেঁচামেচি করে সে বিষয়েও দলটিকে জানতে হবে। শুধু দলীয় সভানেত্রীর সামনে চামচামি এবং লন্ডনে ভাইয়ার কাছে ফোনে খায়খাতির বজায় রাখাই যদি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির মূলমন্ত্র হয় তবে বিএনপির পতনের জন্য আওয়ামী লীগের কিছুই করতে হবে না।

বিএনপিকে অবশ্যই তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে গণমুখী কার্যক্রম বাড়াতে হবে। আওয়ামী লীগের একজন তৃণমূল পর্যায়ের ইউনিয়ন সভাপতি একটু চেষ্টা-তদ্বির করলে অনায়াসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কথা বলতে পারবেন। আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ শীর্ষ নেতাই অসাধারণ কর্মীবান্ধব এবং সাধারণ মানুষের জন্য নিজেদের দরজা সব সময় খোলা রাখেন। বিএনপির লোকদের চক্ষুশূল তিনজন আওয়ামী লীগ নেতা যথা অ্যাডভোকেট কামরুল, মাহবুবুল আলম হানিফ এবং ড. হাসান মাহমুদকেও যদি তারা ধর্তব্যে আনেন তবে দেখবেন এসব লোক ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সদালাপী, বন্ধুবৎসল, অতিথিপরায়ণ এবং নেতা-কর্মী, সাধারণ ভোটার— এমনকি বিরোধী শিবিরের লোকজনের প্রতি অত্যন্ত ধৈর্যশীল এবং উত্তম ব্যবহারকারী। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অফিসে এবং সভানেত্রীর অফিসে বিএনপির মতো জটিলতা নেই। আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর ঘাড়ের পেছনে কেউ দাঁড়িয়ে থাকা তো দূরের কথা— তার চৌহদ্দির মধ্যে প্রবেশ করে তার নাম বিক্রি করবে এমন দুঃসাহস দলটির মধ্যে কারও নেই। ওখানে যা কিছু হয় তা নেত্রীর নির্দেশে কিংবা তার ইচ্ছাতেই হয়। অন্যদিকে বিএনপি নেত্রীর অফিসে এবং তাকে কেন্দ্র করে কী হয় তা যদি দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন তবে তারা কী করে প্রতিদ্বন্দ্বীকে মোকাবিলা করবেন?

বিএনপিকে খুব দ্রুত মৌলিক কিছু কর্মে হাত দিতে হবে। তাদের জিয়াউর রহমান হত্যার পূর্বাপর ঘটনা, সেনাবাহিনীতে ৩/৪টি উপদল সৃষ্টির নেপথ্য কারণ— জিয়া গ্রুপ, মঞ্জুর গ্রুপ ও এরশাদ গ্রুপের দ্বন্দ্ব সংঘাতের ইতিহাস পর্যালোচনা করতে হবে। ১৯৯১ সালে সরকার গঠনের পর কেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে গ্রুপিং শুরু হয়েছিল। সিভিল সার্ভিস, ব্যাংক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কেন দলাদলির মাধ্যমে অনেকগুলো উপদল সৃষ্টি হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস কর্তৃক জেনারেল নাসিমের বহিষ্কারের ঘটনাও বিএনপিকে নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। ২০০৬ সালের পুলিশ বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং সিভিল সার্ভিসে বিএনপির কারা উপদল সৃষ্টি করে ১/১১-র ভয়ানক পরিণতি ডেকে নিয়ে এসেছিল তা খুঁজে বের করতে হবে। তাদের দলীয়করণ এবং উপদলীয়করণের পার্থক্যটাও বুঝতে হবে।

বিএনপিকে অবশ্যই হাওয়া ভবন, টোকাই সাগর, মুরগি মিলন, দাউদ ইব্রাহিম, ছোটা শাকিল, ছোটা রাজন, চৌধুরী আলম, ইলিয়াস আলী, নাসিরউদ্দিন পিন্টু, পিচ্চি হান্নান, কালা জাহাঙ্গীর, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, সারা দেশে একই দিনে সিরিজ বোমা হাললা, বাংলাভাইয়ের উত্থান, জেএমবির উত্থান, উদীচীর বোমা হামলা, সারা দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন ইত্যাদি প্রশ্নগুলোর গ্রহণযোগ্য উত্তর জোগাড় করতে হবে এবং দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে হবে যে ওসব ঘটনা পুনরায় ঘটবে না। অপারেশন ক্লিনহার্ট, র‌্যাব প্রতিষ্ঠা, আনুষ্ঠানিক ক্রসফায়ার চালু, তাঁবেদার নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা, তাঁবেদার দুর্নীতি দমন কমিশন সৃষ্টি, ভুয়া ভোটার তালিকাভুক্তকরণ, রাজনৈতিক দলগুলোকে সভা-সমিতি করার জন্য পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে পূর্বানুমতি গ্রহণের আইন, সন্ত্রাস দমন আইন ইত্যাদি বিষয়াদি সম্পর্কেও নতুন করে মূল্যায়ন করতে হবে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. বি. চৌধুরী, কর্নেল অলি আহমদ, মেজর মান্নান, রেদওয়ান আহম্মেদ প্রমুখ নেতা কেন দল ত্যাগ করে নতুন দল করেছিলেন এবং কেন তাদের ওপর তৎকালীন বিএনপি নির্মম ও নির্দয় আচরণ করেছিল তাও নতুন করে মূল্যায়ন করতে হবে। এরশাদের জাতীয় পার্টির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েন, নাজিউর রহমান মঞ্জুর অসন্তোষ, এরশাদের সঙ্গে বিদিশার তালাক, রওশন এরশাদের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কহানি এবং জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কের ইঁদুর-বিড়াল খেলার লম্বা ইতিহাসগুলোও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। জনতার মঞ্চ গঠন নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করতে হবে। তরপর সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে।   অন্যথায় বিএনপির বর্তমান ডানবামের শত্রুরা চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলে জলে, স্থলে এবং অন্তরীক্ষের নিরাপদ দূরত্বে থেকে দলটির প্রতি তাদের আক্রমণ দিন দিন বাড়াতেই থাকবে।

     লেখক : কলামিস্ট।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow