Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৭

প্রকাশ : সোমবার, ৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:০৯
রোজাদারের জন্য আসছে খুশির ঈদ
মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন

দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পর রোজাদারের জন্য ঈদ আসে আনন্দের বার্তা নিয়ে।   খুশির জোয়ার নিয়ে। পরম সুখ, অনাবিল শান্তি ও সম্প্রীতির পয়গাম নিয়ে। এ দিনে মহান আল্লাহ প্রিয় বান্দাকে পুরস্কার দেন। দীর্ঘ এক মাস কষ্টের পর তাকে উপযুক্ত বদলা দেন। যথাযথ পারিশ্রমিক দেন। করুণাময় আল্লাহ আদরের বান্দাকে কাছে টেনে নেন। তাকে ক্ষমা উপহার দেন। সব গুনাহ মাফ করে দেন। গুনাহগুলোকে নেকি দ্বারা পরিবর্তন করে দেন। মহান পালনকর্তা ফেরেশতাদের কাছে এই বান্দাকে নিয়ে অহঙ্কার করেন। ঈদ ধনী-দরিদ্র, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ছোট-বড় সবার মাঝে আনন্দের বৃষ্টি বর্ষণ করে। তবে ঈদের খুশি প্রকৃতপক্ষে তাদের জন্য যারা পুরা রমজান মাস রোজা রেখেছে। কষ্ট করে তারাবির নামাজ পড়েছে। কোরআন তেলাওয়াত করেছে। একমাত্র আল্লাহর ভয়ে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রোজা ভাঙেনি। আর যারা রোজা রাখেনি, ইবাদত-বন্দেগীতে গাফেল ছিল, তাদের জন্য ঈদের খুশি যথাযথ নয়। কারণ, তাদের মহান আল্লাহ ক্ষমা করেন না। গুনাহ মাফ করেন না। গুনাহগুলো নেকি দ্বারা পরিবর্তন করা হয় না। তাই খুশির ঈদে তাদের মানায় না। রোজাদারের জন্য ঈদের আনন্দের বিষয়টি হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে। প্রিয় নবীজীর প্রিয় সাহাবি হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, ‘শবে কদরে জিবরাইল (আ.) ফেরেশতাদের একটি জামাতসহ অবতরণ করেন। যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে, বসে আল্লাহর জিকির করতে থাকে বা ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকে তার জন্য রহমতের দোয়া করেন। অতঃপর যখন ঈদুল ফিতরের দিন আসে তখন আল্লাহতায়ালা ফেরেশতাদের সামনে বান্দাদের ইবাদত বন্দেগি নিয়ে গর্ব করেন। কারণ, ফেরেশতারা মানুষকে দোষারূপ করেছিল (অর্থাৎ পৃথিবীতে মানুষ প্রেরণকালে আপত্তি জানিয়েছিল)। অতঃপর আল্লাহতায়ালা জিজ্ঞাসা করেন, হে ফেরেশতারা! যে মজদুর নিজ দায়িত্ব পুরাপুরি পালন করে তার বদলা কী হতে পারে? ফেরেশতারা আরজ করেন, হে আমাদের রব! তার বদলা এই যে, তার পারিশ্রমিক তাকে পরিপূর্ণ দিয়ে দেওয়া হোক। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, হে ফেরেশতারা! আমার বান্দা-বান্দিরা আমার ফরজ হুকুম (রমজান মাসের রোজা) পালন করেছে। এরপর তারা ঈদগাহের দিকে যাচ্ছে। আমার ইজ্জতের কসম, আমার প্রতাপের কসম, আমার দানশীলতার কসম, আমার বড়ত্বের কসম, আমার সুউচ্চ মর্যাদার কসম! আমি তাদের দোয়া অবশ্যই কবুল করব। তারপর আল্লাহতায়ালা বান্দাদের প্রতি লক্ষ্য করে বলেন, যাও!  আমি তোমাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দিলাম এবং তোমাদের গুনাহগুলোকে নেকি দ্বারা পরিবর্তন করে দিলাম। অতঃপর তারা ঈদগাহ থেকে নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে। ’  বায়হাকি।   

লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow