Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : রবিবার, ১০ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ জুলাই, ২০১৬ ০০:২৩
জামায়াতকে ‘তুরুপের তাস’ করতে হবে কেন
কাজী সিরাজ
জামায়াতকে ‘তুরুপের তাস’ করতে হবে কেন

সরকার ও সরকারি দল রাজনৈতিক ও আদর্শিক চিন্তা-চেতনায় বিপরীতমুখী হতে পারে না। কখনো যদি তা হয়, দল ও দলীয় সরকারের দ্বন্দ্বে যে গভীর সংকট সৃষ্টি হয় তাতে দল যে কোনোভাবে টিকে থাকতে পারলেও সরকারের টিকে থাকা কষ্টকর হয়। আবার সরকারে দলীয় মিনিস্টার গ্রুপের সঙ্গে মন্ত্রিসভার বাইরে থাকা দলীয় নেতাদের রাজনৈতিক ও নীতিগত দ্বন্দ্বে মিনিস্টার গ্রুপ যদি জিতে যায়, তারা জেতেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নানাবিধ সুবিধা কাজে লাগিয়ে তথা ‘পতাকার জোরে’। সে জয় কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী হয় না, আলটিমেটলি সে দ্বন্দ্ব দল ও সরকার উভয়কেই খায়। দল ও সরকারের একসঙ্গে যখন স্খলন হয়, তখন খারাপ পরিবর্তনটা দ্রুত ও করুণ হয়। দৃষ্টান্ত খোঁজার জন্য দেশের বাইরে দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বর্তমান ক্ষমতাসীন লীগ সরকার ও সরকারি দল আওয়ামী লীগের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে কি কোনো দ্বন্দ্ব বা মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে? বেশ কিছুদিন সরকার (সরকার বলতে মন্ত্রী/মিনিস্টারদের  বোঝানো হচ্ছে) ও সরকারি দল সমবেত কণ্ঠে কোরাস গেয়েছে যে, জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হবে এবং তা সময়ের ব্যাপার। ২০১৫ সালের শেষ দিকে তো মনে হয়েছিল ২০১৬ সালের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আগেই তা সম্পন্ন হয়ে যাবে। আইনমন্ত্রীর বক্তব্যটি যদি আমরা স্মরণ করি, তা ছিল এমন যে, গত বছরের ডিসেম্বরেই এ-সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পেশ করার কথা এবং নতুন বছরের (২০১৬) প্রথম সংসদ অধিবেশনেই তা উত্থাপিত হওয়ার কথা। বর্তমান সংসদে শাসক দলের যে বিরাট সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে তাতে উত্থাপিত বিল পাস না হওয়ার কথা নয় বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল। পাঠক, এখন জুলাই চলছে। জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধকরণের ব্যাপারে সরকার কতটুকু এগিয়েছে আর কতটুকু পিছিয়েছে তা ব্যাখ্যা করার কোনো প্রয়োজন নেই। শাসক দলের লোকজন কিন্তু বলে চলেছেন জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হবে। দলের নেতাদের বয়ান বা ‘বাণী’ এবং সরকারের আচরণ কিন্তু সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আবার সরকার ও সরকারি দল এবং জোটের রহস্যময় আচরণটাও লক্ষণীয়। তারা একযোগে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী-প্রতিপক্ষ বিএনপির ওপর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ছাড়ার প্রবল চাপ অব্যাহত রেখেছে। দুটি বিষয়ে বিএনপিও এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং বেশ জোরালো অবস্থানই নিয়েছে বলতে হবে। এতদিন সরকার ও সরকারপক্ষ হত্যা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য বিএনপি-জামায়াতকে দোষারোপ করে আসছিল। মাস দুয়েক ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এসব অপরাধ সংঘটনের জন্য সরকারপক্ষকেই সরাসরি দায়ী করে চলেছেন। তিনি বলছেন, সরকারপক্ষই এসব করে বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য তারা এ কৌশল নিয়েছে যাতে এ উছিলায় মামলা-মোকদ্দমা, জেল-জুলুমের  মাধ্যমে বিএনপিকে হীনবল করা যায়। বিএনপিকে নির্মূল করার জন্যও সরকার চেষ্টা করছে বলে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করছেন। তারা বলছেন, প্রমাণহীন অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে জেলে ঢোকানো হয়েছে। মামলা-মোকদ্দমায় জড়ানো হয়েছে ৫০ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে। কারও কারও বিরুদ্ধে শতাধিক মামলাও রুজু করা হয়েছে। তারা বলছেন, তাদের দলকে জঙ্গি পৃষ্ঠপোষক বলে প্রচার করা হচ্ছে, ২০১৫ সালের জানুয়ারি-মার্চ তিন মাসের অবরোধে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পেট্রলবোমা, অগ্নিসংযোগ এবং মানুষ হত্যার অভিযোগ আনা হলেও আইন-আদালতে সরকার এখনো তা প্রমাণ করতে পারেনি। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলছেই। এ ব্যাপারে জনমতও বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এক অংশ মনে করছে সরকারপক্ষের কথা ঠিক, অন্য অংশ মনে করছে বিএনপির বক্তব্যই সঠিক। দ্বিতীয়ত, জামায়াতে ইসলামীর প্রশ্নেও সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে বিএনপি। বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার পরামর্শ বহুদিন ধরেই দিয়ে আসছে সরকারপক্ষ। বিএনপি বেশ কিছুদিন জামায়াতের সঙ্গে ‘ছাড়া ছাড়া’ ভাব দেখাচ্ছে। এককভাবেই বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে ওই দলের দণ্ডিত নেতাদের পক্ষে ঘোষিত কোনো কর্মসূচি বিএনপি সমর্থন করেনি। কিন্তু জামায়াত ছাড়ার ব্যাপারে বরাবরই তারা নীরব থেকেছে। তাদের আশঙ্কা ২০ দলীয় জোট ভেঙে দিলে সরকারপক্ষ জামায়াতকে কৌশলে নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করবে। জামায়াতও আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে হয়তো একই পথে হাঁটবে। এটা স্রেফ ভোটের হিসাবের আদর্শহীন এক নোংরা খেলা। বিএনপির বক্তব্য একদিকে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয় যে, তারা জোট ভেঙে দিলে বা ২০-দলীয় জোট ১৯-দলীয় জোট হয়ে গেলেই তো জামায়াত আর তাদের সঙ্গে থাকে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ যে জামায়াতকে সরাসরি দলে ঢুকিয়ে নিচ্ছে তার কী হবে? ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় কয়েক হাজার স্থানীয় জামায়াত নেতা-কর্মীর ধুমধামে আওয়ামী লীগে যোগদানের খবর বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা ওই সব যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং যোগদানকে তারা জাস্টিফাইও করেছেন। তার পরও সরকারপক্ষ বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার জন্য অনেকটা চাপেই রেখেছে। বিএনপি এখন সেই চাপকে পাত্তা না দিয়ে বলছে, জামায়াতকে নিয়ে সরকারপক্ষের অন্য কোনো খেলা আছে। তা না হলে জামায়াত নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে এত লম্বা লম্বা কথা বলার পরও এখন চুপসে গেল কেন? নির্বাহী আদেশে না হয় নিষিদ্ধ না করল, কিন্তু বর্তমান সংসদে তারাই তো সব, নিষিদ্ধ করছে না কেন? তারা জামায়াতে ইসলামীকে সংসদে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দিলেই তো নিষিদ্ধ দলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা যাবে না। তখন তো স্বাভাবিক ও আইনি প্রক্রিয়ায়ই বিএনপি-জামায়াত বিযুক্ত হয়ে যাবে। পরিস্থিতিটা এমন দাঁড়িয়েছে যে, সরকারের অবস্থান পরিষ্কার না হলে বিএনপি জামায়াত ছাড়বে বলে মনে হয় না। ভোটের রাজনীতিতে সেটা তাদের জন্য আত্মঘাতী হবে বলে তারা ভাবতে পারে। আদর্শের ব্যাপারটাকে সরকার বা সরকারি দল যদি তেমন গুরুত্বই দিত, জামায়াতে ইসলামীর লোকজনকে আওয়ামী লীগে বরণ করা হয় কী করে? আওয়ামী লীগ ও সরকার জামায়াত নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভোটের সমীকরণ এবং রাজনৈতিক একটা স্থায়ী সমাধানের চিন্তা করছে বলে ধারণা করছেন কেউ কেউ। নিষিদ্ধ করলে জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ হবে। এ নামে কোনো দল থাকবে না। কিন্তু জামায়াতের আদর্শে অবিচল লাখো নেতা-কর্মী কি নিষিদ্ধ হবেন? পরিচিত, চিহ্নিতদের রাজনৈতিক অধিকারও না হয় কেড়ে নেওয়া যাবে। কিন্তু তাদের দূর সমর্থক, ভোটার, যাদের কাগজ-কলমে কোথাও নাম নেই, পজিশন নেই তাদের কী করা যাবে? তাদের সংখ্যা ভোটার হিসাবে গত তিন-চারটি নির্বাচন করে যদি বিবেচনা করা হয়, তারা তো দেশের অন্যতম একটি বৃহৎ দল। এরা কি আওয়ামী লীগে যোগ দেবে সবাই অথবা বিএনপিতে? এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ-বিএনপির ক্ষেত্রে হয়তো অন্য দলে যোগদানের ব্যাপারে ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেওয়া যেত, জামায়াতের ক্ষেত্রে সহজে কি এমন উত্তর দেওয়া সম্ভব? রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রচার আছে যে, দল নিষিদ্ধ হলে জামায়াত তার করণীয় ঠিক করে রেখেছে। জামায়াত তার শক্তিকে রূপান্তরিত করবে অন্য কোনো নামে। এটা তাদের পক্ষে সম্ভব। হত্যা, সন্ত্রাস ও জঙ্গি তৎপরতার ব্যাপারে সরকার জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শক্তিকে নিউট্রালাইজ করার কোনো কৌশল হিসেবে দলটি নিষিদ্ধকরণের ব্যাপারে ‘সেকেন্ড থট’ দিচ্ছে বলে এখন কারও মনে হতেই পারে। শান্তির পক্ষে পৃথিবীতে এমন দৃষ্টান্ত বিরল নয়। এটি আওয়ামী সরকারের জন্য একটি কঠিন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সরকার যদি জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত বা চিন্তা থেকে ফিরে আসে, তাহলে জামায়াতের সঙ্গে ভোটের জোট বা আন্দোলনের জোট অব্যাহত রাখার ব্যাপারে বিএনপিও যদি সিদ্ধান্ত রিনিউ করে, দুই দলের কৌশলী সিদ্ধান্তের মধ্যে সংঘর্ষটা কোথায়?

গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় নিষ্ঠুর জঙ্গি তাণ্ডবের পর এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের বিষয়টি যখন সব মহল গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে, বিএনপি এ ক্ষেত্রে অনুকূল সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে সরকারকে অনেকটা ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। বিএনপি এ ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়ার পর সরকারপক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করতে হলে তাদের জামায়াত ছেড়ে আসতে হবে। বিএনপি কিন্তু জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যের প্রস্তাব দেয়নি, ২০-দলীয় জোটের পক্ষেও প্রস্তাবটি উত্থাপিত হয়নি। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বক্তব্য-বিবৃতি-সংবাদ সম্মেলনে তাদের দলের পক্ষ থেকেই জাতীয় ঐক্যের প্রস্তাব দিয়েছেন। এখানে জামায়াত ছাড়ার শর্তারোপ করা অবান্তর। এটি ঐক্যবিরোধী মনোভাবের প্রকাশ বলেই ধরে নিতে পারে কেউ। গুলশানের রক্তাক্ত তাণ্ডবের মতো ঘটনা আমাদের দেশে এই প্রথম। কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করি এটা হোক বাংলাদেশের এ ধরনের শেষ ঘটনা। যে ঘটনাটি সেদিন ঘটানো হয়েছে তা কোনো ব্যক্তি, দল বা সরকারের বিরুদ্ধে নয়, তা গোটা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, সমগ্র জনগণের বিরুদ্ধে। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মতো প্রবীণ রাজনীতিবিদরা একে সরকার উত্খাতের ঘটনা বলে কেন সরলীকরণ করছেন বোঝা মুশকিল। এটি কি অপরিহার্য জাতীয় ঐক্যের দাবিকে দুর্বল করার সূক্ষ্ম কোনো কৌশল বলে বিবেচনা করা যেতে পারে না? বিএনপি সরকারের প্রতি ঐক্য উদ্যোগ গ্রহণের যে আহ্বান জানিয়েছে সর্বত্র প্রশংসা পেয়েছে সেজন্য। কিন্তু হঠাৎ করে ৭ জুলাই জঙ্গি দমনে ব্যর্থতার দায়ে সরকারকে সরে গিয়ে আশু জাতীয় নির্বাচনের দাবি তোলায় আবার সমালোচনার মুখে পড়েছে। ঘরে আগুন লেগেছে, এ অবস্থায় সবাই মিলে তো আগুন নেভাবেন আগে। আগুন নেভানোর জন্য কে পানি ঢালতে পারবে আর কে পারবে না এ প্রশ্ন উত্থাপন যেমন অসমীচীন, তেমন আগুন না নিভিয়ে ঘরের আকর্ষণীয় কক্ষটা দখলের চিন্তা অসুস্থ বলেই বিবেচিত হবে। জামায়াত ইস্যুতে এই সময়ে অতি জরুরি জাতীয় ঐক্যের দাবি যদি পূরণ না হয় তা হবে দুর্ভাগ্যের। সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে না তুললে জঙ্গি তত্পরতা রোধ করা কি সম্ভব হবে? সরকার কি গ্যারান্টি দিতে পারে যে তারা একাই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে? বিএনপি কি গ্যারান্টি দিতে পারবে যে, আশু একটি নির্বাচন হলেই জঙ্গি তত্পরতা বন্ধ হয়ে যাবে! যদি ক্ষমতায় যেতে পারে, বিএনপিও কি একা পারবে এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সামাল দিতে? উভয়ের জবাবই যদি ‘না’ সূচক হয়, তাহলে ঐক্যের পথে অন্তরায় সৃষ্টিতে জামায়াতে ইসলামী ফ্যাক্টর হবে কেন? দুই দলই জামায়াতকে ‘তুরুপের তাস’ হিসেবে ব্যবহার করবে কেন?

১ জুলাই গুলশানের রক্তাক্ত তাণ্ডবের পর যে পাঁচ জঙ্গির পরিচয় পাওয়া গেছে তাতে স্পষ্ট যে, এরা চারজন সম্পূর্ণ আধুনিকমনস্ক সচ্ছল পরিবারের সন্তান। একজন সুপরিচিত এক আওয়ামী লীগ নেতার সন্তান। অসহায় পিতার কান্না এবং আর্তনাদ সবার হৃদয়কেই স্পর্শ করেছে। প্রমাণ হয়েছে এ ধরনের জঙ্গি তৈরিতে দেশি-বিদেশি অন্য কোনো শক্তিশালী হাত জড়িত আছে। উল্টাপাল্টা জায়গায়               ঢিল ছুড়লে সংকট নিরসন হবে না। সরকার জামায়াতকে জঙ্গি তৈরির উৎসস্থল বিবেচনা করে যদি তাদের বিপথগামিতা থেকে ফেরানোর উদ্দেশ্যে একটা রাজনৈতিক সমাধানের চিন্তা করে তাকে তাত্পর্যহীন বলে উড়িয়ে           দেওয়া ঠিক হবে না। এ রকম ক্ষেত্রে আবেগ তো সংবরণ করতেই হয়।   বর্তমান পরিস্থিতিতে সময়ের দাবি হচ্ছে জাতীয় ঐক্য। কোনো বিষয়, কোনো উছিলা, শর্তারোপ বা কোনো রাজনৈতিক চাল যেন এ ঐক্য গড়ার পথে অন্তরায় না হয়।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট

ই-মেইল : kazi.shiraz@yahoo.com

এই পাতার আরো খবর
up-arrow