Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ১০ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ জুলাই, ২০১৬ ০০:২৫
যানবাহন চালকদের দায়িত্বশীলতা কাম্য

ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন মহাসড়ক চালুর কারণে চলতি বছর ঈদে ঘরে ফেরার ধকল গত কয়েক বছরের তুলনায় কম হয়েছে। এটি একটি আশাপ্রদ দিক। এ ব্যাপারে গত বছরের মতো এ বছরও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর দৌড়ঝাঁপ ও সক্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। ঈদের আগে মহাসড়কগুলো চলাচল উপযোগী রাখতে মন্ত্রী যে আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন তা প্রশংসার দাবিদার। তার পরও ঈদকে কেন্দ্র করে দুর্ঘটনা বা অঘটন খুব একটা কম নয়। সড়কপথের বিভিন্ন দুর্ঘটনায় বিপুলসংখ্যক মানুষ হতাহত হয়েছে। ঈদের আগে সড়কপথ মেরামতে সাফল্য দেখালেও বহু স্থানে যানজট দেখা দিয়েছিল ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তার মাঝে অচল হয়ে পড়ার কারণে। নৌপথে বাড়তি সতর্কতার কারণে এ বছর দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। যাত্রীরাও ছিল সতর্ক। কোনো লঞ্চ কিংবা নৌযানে যাতে বাড়তি যাত্রী নেওয়া না হয় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো নজর রাখার চেষ্টা করেছে। রেলপথে ঠাসা যাত্রী নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ট্রেন চলাচল করলেও কোনো ট্র্যাজেডির যে উদ্ভব ঘটেনি এটি একটি স্বস্তিদায়ক দিক। আপনজনদের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে যারা নাড়ির টানে আপন ঠিকানায় গিয়েছিলেন তারা অন্তত দুই সপ্তাহ ধরে ফিরবেন কর্মস্থলে। আগামী দুই সপ্তাহ পর্যন্ত রাজধানী কিংবা প্রধান প্রধান নগরমুখী যানবাহনে সাধারণ সময়ের চেয়ে যে বেশি ভিড় থাকবে তা সহজেই অনুমেয়। কোথাও কোথাও যানজটের আশঙ্কাও থাকছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার শিকারও হতে পারেন কর্মস্থলমুখী যাত্রীরা। আমরা আশা করব যানবাহন চালকরা এ সময়ে বাড়তি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন। যে কোনো দুর্ঘটনা মানেই শুধু যাত্রীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলা নয়, নিজের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেওয়া। এ কাণ্ডজ্ঞানহীনতা যাতে তাদের পেয়ে না বসে সে ব্যাপারে সচেতন থাকাই বাঞ্ছনীয়। এ ব্যাপারে ট্রাফিক পুলিশ বা হাইওয়ে পুলিশকে সক্রিয় হতে হবে। মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে পাল্লা দেওয়ার হঠকারিতা যাতে কাউকে না পেয়ে বসে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তায় রাখতে হবে তীক্ষ নজর। ঈদে ঘরে ফেরার পালায় সড়ক ও নৌপথে ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে সরকার যে সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে তা ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার ক্ষেত্রেও অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের যারা দায়িত্বশীল, তারা সতর্ক থাকলে যানবাহন চালকদের সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। হ্রাস পাবে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। সাধারণ মানুষের ঘরে ফেরার মতো কর্মস্থলে ফেরার যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে তারা সাধ্য অনুযায়ী অবদান রাখবেন আমরা এমনটিই দেখতে চাই।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow