Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : রবিবার, ১০ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ জুলাই, ২০১৬ ০০:২৬
ইসলাম সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ডের বিরোধী
মাওলানা মুহাম্মাদ আশরাফ আলী

ইসলাম সব ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিপনার সঙ্গে শান্তির ধর্ম ইসলামের দূরতম সম্পর্ক নেই। যারা শোলাকিয়া ইদগাহ কিংবা মসজিদে নববীতে হামলা চালাচ্ছে তারা সুনিশ্চিতভাবে ইসলামবিরোধী।

রসুল (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলমানের হত্যাকাণ্ড আল্লাহর কাছে সারা দুনিয়া ধ্বংসের চেয়েও অধিক মারাত্মক। তিনি বলেছেন, আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা ও মানুষ হত্যা হলো জঘন্য কবিরা গুনা। সূরা আন নিসার ৯৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহর ঘোষণা : ‘যে লোক ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বিশ্বাসী মুমিনকে খুন করবে, তার পরিণাম হবে চিরকালীন দোজখবাস। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হন, তাকে অভিশাপ দেন এবং তার জন্য ভয়ঙ্কর শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন। ’ সূরা আল মায়েদার ৩২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করেন : ‘এ কারণেই আমি বনি ইসরাইলের প্রতি লিখে দিয়েছি যে কেউ কোনো হত্যার বিনিময়ে অথবা পৃথিবীতে গোলযোগ সৃষ্টি করার অপরাধ ছাড়া কাউকে হত্যা করল, সে যেন সমগ্র মানবকুলকে হত্যা করল, আর যে কারও জীবন বাঁচাল সে যেন সমগ্র মানবকুলের জীবন বাঁচাল। ’

সূরা আল ফুরকানের ৬৮-৭০ আয়াতে আল্লাহ আরও ঘোষণা দেন : ‘আর যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো প্রভুকে আহ্বান করে না, আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ প্রাণকে যথার্থ কারণ ছাড়া হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না (আল্লাহর প্রিয় বান্দা তারাই), আর যারা এসব করে তারা মহাপাপী। বিচার দিবসে তাদের শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং সেথায় তারা অপমানিত হয়ে চিরকাল অবস্থান করবে। কিন্তু যারা তওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নেক আমল করে তারা উক্ত আজাব থেকে পরিত্রাণ পাবে। ’

রসুল (সা.)-এর হাদিসে বলা হয়েছে : “এক লোক রসুল (সা.) সমীপে নিবেদন করল, আল্লাহর কাছে কোন পাপটি সবচেয়ে জঘন্য। তিনি বললেন, ‘কাউকে আল্লাহর সমান মনে করা, অথচ তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন। ’ লোকটি বলল, তারপর কোনটি? তিনি উত্তর দিলেন, ‘তোমার জীবিকায় অংশীদার হবে এ ভয়ে তোমার সন্তানকে মেরে ফেলা। ’ সে আবার আরজ করল, তারপর কোনটি? তিনি জবাব দিলেন, ‘পড়শির স্ত্রীর সঙ্গে জিনায় লিপ্ত হওয়া’। ” অনন্তর এর সমর্থনে আল্লাহর ঘোষণা : ‘যারা আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদের ইবাদত করে না, আল্লাহর নিষিদ্ধকৃত প্রাণ হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না (তারাই প্রকৃত ঈমানদার)। ’ সূরা আল ফুরকান ৬৮। যারা হত্যা এবং ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেয় তাদের পরিণাম সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাদের শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। হত্যা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের পরিণাম কখনো ভালো হয় না। তারা সত্যিকার অর্থেই অভিশপ্ত। তাদের পরিণতি দেখলে স্পষ্ট হয় আল্লাহর বিধান কতটা অলঙ্ঘনীয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে অসত্য পথ থেকে দূরে থাকতে এবং শান্তি ও কল্যাণের পথে চলার তৌফিক দিন। হত্যা,  ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী হামলার  শিকার হয়ে যারা প্রাণ হারাচ্ছেন  সেসব মজলুমকে আল্লাহ জান্নাতবাসী করুন। আমিন।

লেখক : ইসলামী গবেষক

এই পাতার আরো খবর
up-arrow