Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : সোমবার, ১১ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ জুলাই, ২০১৬ ০০:০৭
হানাহানি ও রক্তপাত ইসলাম নয় জাহেলি যুগের বৈশিষ্ট্য
মাওলানা মুহম্মাদ সাহেব আলী

হানাহানি অকারণে রক্তপাত ছিল ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগের বৈশিষ্ট্য। নিরপরাধ মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করাকে জাহেলি যুগের লোকেরা কর্তব্য বলে ভাবত। অকারণ যুদ্ধ হানাহানি রক্তপাতে জড়িত ছিল তারা। গোত্রগত সংঘাত বিরাজ করত যুগ যুগ ধরে। ইসলামের মহান প্রবর্তক হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হানাহানি ও রক্তপাতের অশুভ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন। বিদায় হজের ভাষণে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করলেন : হে মানবমণ্ডলী তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ এই দিন ও এই মাসের মতো তোমাদের ওপর নিষিদ্ধ ও পবিত্র তোমাদের প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাতের দিন পর্যন্ত। পবিত্র কোরআনে অকারণ রক্তপাত ও হানাহানির বিরোধিতা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ অন্যায়ভাবে হত্যা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপরাধ সম্পর্কে ইরশাদ করেন— ‘যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করল সে যেন দুনিয়ার সব মানুষকেই হত্যা করল, আর কেউ কারও প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন সব মানুষের প্রাণ রক্ষা করল (৫:৩২)। ’ ইসলামে যে কোনো ধরনের হত্যাকাণ্ড এবং রক্তপাত কবিরা গুনাহ। যারা এ ধরনের অপকর্মে লিপ্ত তাদের পরিণাম সম্পর্কে ঐশীগ্রন্থে হুঁশিয়ারি করে দেওয়া হয়েছে। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন— কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম, সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন, তাকে লা’নত করবেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত রাখবেন (৪:৯৩)। শুধু মুমিনদের হত্যাকাণ্ডকেই ইসলাম নিষিদ্ধ করেনি, কেউ কোনো অমুসলিমকে হত্যা করলেও তাকে আখেরাতের জীবনে কঠিন পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে কোনো অমুসলিম নাগরিককে খুন করবে সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। যদিও জান্নাতের ঘ্রাণ চল্লিশ বছরের পথের দূর থেকেও পাওয়া যায়। ইসলাম কোনোভাবেই অন্যের জানমালের ক্ষতিসাধন সমর্থন করে না। যারা মানুষের জানমালের ক্ষতি করে ইসলাম তাদের প্রকৃত মুমিন বলে স্বীকৃতি দেয় না। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন— ‘প্রকৃত মুমিন সে ব্যক্তি যার মুখ ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে। ’ সুতরাং একজন সত্যিকারের মুসলমান কখনো অন্য মুসলমানের জানমালের ক্ষতি করতে পারে না। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করেছেন ‘আমার পরে তোমরা পরস্পরে হত্যাকারী কাফেরদের অনুরূপ হয়ে যেও না। ’ যারা হত্যাকে ইসলামী বিধান বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, তারা ইসলাম নয়, জাহেলি যুগের প্রতিনিধিত্ব করছে। আল্লাহ তাদের ষড়যন্ত্র থেকে আমাদের হেফাজত করুন।

লেখক : ইসলামী গবেষক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow