Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৭

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০২
সময় নেই, জনগণকে মালিকানা দিন
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম
সময় নেই, জনগণকে মালিকানা দিন

এবারের ঈদ সবার জন্য কেমন গেছে জানি না। কিন্তু আমার জন্য খুব একটা ভালো যায়নি। মুক্তিযুদ্ধের সময় রোজার ঈদ ছিল ২০ নভেম্বর। মা কোথায়, বাবা কোথায়, ভাই-বোনেরা কোথায়, জানা ছিল না, ছিল না জীবনের কোনো নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। এবার যদিও ঈদের জামাতে শরিক হয়েছি কিন্তু সেবার তাও হতে পারিনি।

আমার ছোট্ট পরিবার, এক ছেলে, দুই মেয়ে আমরা স্বামী-স্ত্রী। আমাদের তিন সন্তান, তার মধ্যে একজন কুঁড়ি লন্ডনে। দীপ, কুঁড়ি, কুশি আমার প্রাণ। তার এক খণ্ড লন্ডনে তাই সব কেমন যেন এলোমেলো শূন্যতায় ভরা। কুঁড়ির ’৯০-এর ফেব্রুয়ারিতে জন্মের পর পরই দীর্ঘ নির্বাসন থেকে দেশে ফিরেছিলাম। তাই সব সময় মনে হতো ওর জন্যই নির্বাসনের অবসান। এতটা বছর মেয়েটা কখনো দূরে থাকেনি। এই প্রথম তাকে ছাড়া ঈদ। খাবার নিয়ে বসলেই চোখে পানি। আমরা কত কিছু খাচ্ছি, কত লোক কত জন কত আয়োজন। ওকে খাওয়ায় কে? লন্ডনের মতো শহরে পানি এগিয়ে দেওয়ার কেউ নেই, সব নিজেকে করতে হয়। তাই শত চেষ্টা করেও হু হু করা বুকফাটা কান্না থামতে চায় না। মায়ের পেট থেকে নাড়ি কেটে সন্তান আলাদা করা হয়। কিন্তু পিতার নাড়ি কাটে কীভাবে? সন্তান পিতা-মাতার কত প্রিয় কাছে থাকলে হয়তো বোঝা যায় না। দূরে গেলে বোঝা যায়। ছোট ভাই বেল্লাল এখন লন্ডনে, সে-ই মোটামুটি মেয়েটাকে দেখাশোনা করে এই যা ভরসা। ওর চাচি খুকু, বোন শার্লিন, সানিয়া ও ভাই স্যামসন খোঁজখবর নেয় তাই কিছুটা স্বস্তি। তবে আশার কথা, কুঁড়ি লন্ডনে যাওয়ায় এই কয় মাসে কুশি যেন অনেক বড় হয়ে গেছে। তার আচার-আচরণ আগের চেয়ে অনেক পরিণত, ডাকার আগেই কাছে আসে, কোলে বসে জড়িয়ে ধরলে অনাবিল আনন্দে বুক ভরে যায়। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি দয়াময় প্রভু যেন দুনিয়ার সব সন্তানের সঙ্গে আমার দীপ, কুঁড়ি, কুশিকেও হেফাজত করেন।

কী বলব, চারদিকে এক অশুভ অশনিসংকেত পবিত্র মক্কা-মদিনায় বোমা, আমাদের ঈদের জামাতে হামলা এও কি ইসলামী কাজ? আমার তো তেমন মনে হয় না। রসুলের মাজারের কাছে কোনো মুসলমান বেআদবি করতে পারে? ভাবা যায়? পবিত্র মক্কায় বোমা ফেলা কোনো ইমানদারের কাজ হতে পারে? রসুলের জন্মের বছর বা দিন ইয়েমেনের খ্রিস্টান শাসক আবরাহা মক্কা আক্রমণ করেছিলেন। আবরাহা তার সাম্রাজ্যে শ্রেষ্ঠ ভজনালয় বা ভীর্থক্ষেত্র বানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মক্কার কাবার জন্য তার সেই মন্দির তেমন প্রসার বা প্রচার পাচ্ছিল না। সেজন্য কাবাকে তিনি ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন। সেই উদ্দেশ্যে একদিন মক্কা আক্রমণ করেছিলেন। কাবার কাছে শিবির স্থাপন করলে তখনকার কাবার খাদেম আবদুল মুত্তালিব আবরাহার সঙ্গে দেখা করতে যান। আবরাহা ভেবেছিলেন কাবাঘরের খাদেম বা সেবক যেহেতু তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন তাই কাবা নিয়ে কোনো সন্ধির কথা বলবেন কিন্তু মুত্তালিব যখন আবরাহাকে বলেন আপনার লোকেরা আমার কতগুলো উট আটক করেছে, সেগুলো মেহেরবানি করে ছেড়ে দিন। আবরাহা অবাক হয়ে আবদুল মুত্তালিবকে তিরস্কার করে বলেছিলেন, আপনি বেকুব নাকি? আপনি যে কাবার দেখাশোনা করেন আমি সেই কাবা ধ্বংস করে দিতে এসেছি, সে বিষয়ে কোনো কথা না বলে সামান্য উটের কথা বলতে এসেছেন! হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দাদা আবদুল মুত্তালিব দৃঢ়তার সঙ্গে আবরাহাকে বলেছিলেন, কাবা আল্লাহর ঘর ওটা রক্ষা করা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই, কাবার মালিক আল্লাহ ওটা আল্লাহ রক্ষা করবেন। উটের মালিক আমি, তাই আমি উট চাইতে এসেছি। পরদিন আবরাহা কাবা আক্রমণ করেছিলেন। আশপাশের মক্কাবাসী কোরাইশরা ঘরবাড়ি ছেড়ে দূরে পর্বতে পালিয়েছিল। আবদুল মুত্তালিব কাবাঘরে গিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, ‘হে আল্লাহ! আমরা দুর্বল তোমার কাবা তুমি রক্ষা কর। ’ আবরাহার সৈন্যরা যখন কাবার দিকে যাচ্ছিল তখন হাতিগুলো একপর্যায়ে আর এগোতে চাচ্ছিল না। মাটিতে বসে পড়েছিল। ডানে-বাঁয়ে চালালে তারা চলছিল কিন্তু কাবার দিকে এক পাও এগোচ্ছিল না। এ সময় আল্লাহর কুদরতে হাজার হাজার লাখ লাখ আবাবিল পাখি ঠোঁটে ছোট্ট ছোট্ট পাথর নিয়ে আবরাহার হাতি, ঘোড়া, সৈন্যদের ওপর ছুড়ছিল। এতে আবরাহার অধিকাংশ হাতি, ঘোড়া, সৈন্য ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, তিনি পরাজিত হয়ে দেশে ফিরেছিলেন। আল্লাহর ঘর মক্কা, রসুলের মাজার মদিনা মনোয়ারায় যারা হামলা করে তাদের ধ্বংস অনিবার্য। অনেক রক্ত দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা বাংলাদেশ, সেই বাংলাদেশ রক্ষায় কোনো দল-গোষ্ঠী বা ব্যক্তির প্রয়োজন হবে না। বাঙালির রক্তই বাংলাদেশকে হেফাজত বা রক্ষা করবে।

আমার মনে প্রশ্ন জাগে কোনো মুসলমান কি মক্কা-মদিনায় আক্রমণ করতে পারে? কিশোরগঞ্জের ঈদের জামাতে হামলা করতে পারে? এরা জঙ্গি হতে পারে কিন্তু মুসলমান হতে পারে না। অযথা আমরা মুসলমান জঙ্গি বলছি। এরা খ্রিস্টানও হতে পারে, ইহুদি হতে পারে, রাজনৈতিক ক্যাডার হতে পারে, কেন আমরা ইসলামী জঙ্গি বলে মুসলমানদের গালমন্দ করার চেষ্টা করছি। নিজেরাই অপবাদ মাথায় নিচ্ছি? এতকাল মাদ্রাসার ছাত্ররা নাকি এসব হামলা করত এবার তো ইংরেজি পড়া ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথের ছাত্ররা করল এখন কী বলা হবে? গুলশানের হামলা জঙ্গি হামলা কিন্তু ইসলামী নয়, ইসলাম কায়েমের জন্যও নয়। সরকারকে দুর্বল বা উত্খাত করার প্রয়াস। আজ যদি গুলশান হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার হয়, কিশোরগঞ্জের ঈদগাহে হামলাকারীদের খুঁজে বের করা হয়, তাহলে ’৭৪-এ কুষ্টিয়ার খোকসার ঈদের জামাতে সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া হত্যার কেন বিচার হবে না? এটাও যেমন সরকারকে দুর্বল বা উত্খাত করার অপচেষ্টা সেটাও ছিল একই প্রচেষ্টা। তখনো যেসব জ্বালাও-পোড়াও, হত্যা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর সরকারকে দুর্বল ও নাজুক করার জন্য হয়েছে। এখন যেমন হচ্ছে। যে যাই বলুন আজ হোক আর কাল গণবাহিনীর সেসব হত্যার বিচার অবশ্য অবশ্যই হবে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধীরা বিনা কারণে যাকে তাকে রাস্তাঘাটে হত্যা করেছে। কিন্তু স্বাধীনতার পর গণবাহিনী বেছে বেছে মুক্তিবাহিনী এবং বঙ্গবন্ধুপ্রেমীদের হত্যা করেছে। হিন্দি ফিল্মের মতো চুন চুনকে সবকো মার ডালা। যেন সরকারের সবাইকে বেছে বেছে মেরে ফেলা। তাদের যদি বিচার না হয়, বরং তারা যদি সরকারের আশ্রয় পায় সেটা হবে এক মারাত্মক মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধ।

বাংলাদেশের জন্মের পর এবার ছিল সবচেয়ে লম্বা সরকারি ছুটি। ১ জুলাই থেকে অসংখ্য মানুষ হেসেখেলে বাড়ি ফিরছিল। তাই ভেবেছিলাম সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে একটা ভালো রকম ধন্যবাদ দেব। আমরা সপরিবারে বাড়ির পথ ধরেছিলাম ৪ তারিখ ৪টার পর। মোহাম্মদপুর থেকে সাভার পৌঁছতে আড়াই ঘণ্টা লেগেছিল। সাধারণত আমি মহাসড়কে যাতায়াত পছন্দ করি। ছোটবেলা থেকেই আমার নীতি তাড়াতাড়ি যাবে তো ঘুরে যাও। তাই যানজট থেকে বাঁচতে খুব একটা আশপাশের গলিপথ ধরি না। সেদিনও নবীনগর স্মৃতিসৌধের কাছে পৌঁছে চিন্তা করছিলাম কোন পথে যাব। ফরিদ বলছিল কালামপুর হয়ে যেতে, সোহেলেরও তাতে মত ছিল। আমি একবার ভাবছিলাম চন্দ্রার পথ ধরি, আবার কালামপুর। বেগম বললেন আমরা কয়েকবার কালামপুরের পথে ঈদে বাড়ি ফিরেছি, বেশ ভালোই লেগেছে। তাই শেষ পর্যন্ত কালামপুরের পথ ধরেছিলাম। স্মৃতিসৌধ থেকে নয়ারহাট প্রচণ্ড যানজট। তারপর যদিও কিছুটা হালকা, তবে মানিকগঞ্জের পুরোটাই ছিল গাড়ি আর গাড়ি। ইফতার করেছিলাম কালামপুরে গাড়িতে বসে। দু-তিন রকমের ইফতারি বিশেষ করে সৌদি অ্যাম্বাসির ভালো খেজুর ছিল আমাদের কাছে, সোহেল আর ফরিদ কোথা থেকে বেগুনি এবং চপ এনেছিল। সেগুলো গরম এবং বেশ সুস্বাদু ছিল। খেয়ে স্বাদ পেয়েছিলাম। কিন্তু পরদিন কেমন যেন পেটে যন্ত্রণা হয়েছিল। রাস্তার খাবার দু-চার-দশ বছরে কখনো খাওয়া হয়নি, রাস্তার খাবার স্বাদের হয়, তা না হলে কেউ খেত না। কিন্তু জীবাণুমুক্ত হয় না, এই যা সমস্যা। কালামপুর, ধামরাই, পাকুটিয়া, কেদারপুর, লাউহাটি, দেলদুয়ার হয়ে ৬-৭ ঘণ্টায় টাঙ্গাইল পৌঁছেছিলাম, যেখানে ২ ঘণ্টা লাগার কথা। কিন্তু যারা চন্দ্রার পথ ধরেছিল তারা পরদিন দুপুরেও পৌঁছতে পারেনি। ঠিক রাস্তা ধরতে পারায় আল্লাহকে হাজারো শুকরিয়া জানিয়েছিলাম। এরপর আর কী ধন্যবাদ দেব ওবায়দুল কাদেরকে? আবার এও বুঝি একজন রাজনৈতিক মানুষ হিসেবে তিনি তার চেষ্টার ত্রুটি করেননি। এত অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন নিয়ে তার তেমন কিছু করার নেই। ঈদ তো গেছে, এবার ফেরার পালা। মানুুষ যদি একটু নির্বিবাদে বিনা কষ্টে ফিরতে পারে সেই হবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর জন্য আল্লাহর দান। তবুও তার আন্তরিকতার জন্য তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

ঈদের আগের বিকালে বসেছিলাম। গেটের পাশে বৈঠকখানা, কেউ এলে বোঝা যায়। না হলেও ২০ বছর একজন লোক নিয়মিত আসেন, হাত পাতেন, হাত ভরে দিতে না পারলেও নিয়মিত কিছু দেওয়া হয়। যার হাত ঝেড়ে দেওয়ার কথা সে তখন ছিল না। কিন্তু লোকটি অনবরত চিৎকার করে চলেছিল। তার হাঁকডাক অনেকটা সহ্যের বাইরে চলে গিয়েছিল। কেন যেন মুখ বের করে বলেছিলাম, অমন করছ কেন? বিরক্ত করো না, চলে যাও। বসে বসে বিশ্বনবী পড়ছিলাম। রোজা রেখে ওভাবে একজন অসহায়ককে রূঢ় কথা বলে খুব একটা স্বস্তি পাচ্ছিলাম না, ভিতরে ভিতরে উত্তেজনা কাজ করছিল, অস্বস্তি লাগছিল, শরীর ঘামছিল, বার বার মনে হচ্ছিল রোজা থেকে কাজটা কি ভালো করলাম? লোকটাকে কীই বা দিতাম, খালি হাতে ফিরিয়ে দিলাম। শেষ বিচারে আল্লাহ যদি জিজ্ঞাসা করেন কতজন তোমায় কত টাকা দেয়, লাখ লাখ টাকায় তোমার গাল ভরে না, আর তোমার দরজা থেকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিলে? কত আর হবে ৭-৮ মিনিট, আর বসে থাকতে পারছিলাম না। উঠে উঁকি দিয়ে দেখি লোকটি যায়নি। গেটের উল্টা পাড়ে বসে আছে। আল্লাহকে হাজার শুকরিয়া জানালাম। কাকে যেন ডেকে তাড়াতাড়ি কিছু গুঁজে দিলাম মনে হলো কিছুটা শান্তি পেলাম, অস্বস্তি কেটে গেল। কিছুক্ষণ পর ইফতারের সাইরেন বাজল। তারপর সুখবর খুশির ঈদ।

প্রতি রাতে সাহরি খেতে ঘুমে উলট-পালট হতো, ব্যাঘাত ঘটত। কিন্তু সে রাতে তেমন হয়নি। ঘুম ভেঙেছিল আজানের একটু পর। ফজরের নামাজ আদায় করে গোসল সেরে স্ত্রীর হাতের বানানো জর্দা মুখে দিয়ে ছেলে এবং সঙ্গীদের নিয়ে ঈদের মাঠের দিকে পা বাড়িয়েছিলাম। গেট খুলতেই এক মহিলা হাত বাড়িয়েছিল তার হাতে ৫০ টাকা দিয়েছিলাম, দিতে যত সময় লেগেছিল ফেলতে তত লাগেনি। টাকাটা ফেলে দিয়ে জীর্ণশীর্ণ মহিলা বলেছিল, রাস্তাঘাটে কত শুনি দেশ স্বাধীন করেছেন, আপনি দেন ৫০ টাকা! এটা কোনো কথা হয়? আপনি দেবেন পাঁচশ, হাজার। কত লোক কত টাকা দেয় আপনার এই টাকা নেব না। আগের দিন গেটে যে ঘ্যান ঘ্যান করেছিল তার প্রতি রাগ হলেও মহিলার প্রতি কোনো রাগ বা ক্ষোভ হয়নি। তাকে আবার বলেছিলাম আপনি নেন। আমি আমার সামর্থ্যমতোই দিয়েছি। কেন যেন মহিলা টাকাটা নিয়ে গজগজ করতে করতে চলে গেল। টাকা দেওয়ায় যে পরিমাণ অসন্তুষ্টি হয়েছিল না দিলে হয়তো তেমনটা হতো না। মাঝে মাঝে ভাবী, দয়াময় প্রভু আমায় কোথায় রেখেছেন। ঢাকা শহরে ফকির-মিসকিনরা আমার কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করে, শুধু পকেটে হাত দেয় না, এই যা। একবার ফার্মগেটে খামারবাড়ির সামনে একজনকে ২০ টাকা অন্যজনকে ১০ টাকা দিয়েছিলাম। যাকে ২০ টাকা দিয়েছিলাম সে হন হন করে চলে গিয়েছিল কিন্তু ১০ টাকা হাতে নিয়ে সে যে কী অভিসম্পাৎ। তার প্রথম কথাই ছিল দেখতে শুনতে তো ভদ্রলোকের মতোই দেখা যায়, এইটা আপনার বিচার? এইটা আপনার ইনসাফ? একজনকে ২০ টাকা আমাকে ১০ টাকা। আমার বুকে আগুন জ্বালিয়ে দিলেন। আপনারাই তো দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেন। সেদিন সত্যি একটা মারাত্মক শিক্ষা পেয়েছিলাম, যা কোনো দিন ভুলব না।

     লেখক : রাজনীতিক

এই পাতার আরো খবর
up-arrow