Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৩১
জঙ্গিবাদের অর্থায়ন
অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে

জঙ্গি অর্থায়ন জঙ্গিবাদের উত্থানে ভূমিকা রাখে এবং দুনিয়ার সব দেশের জন্য তা এক সাধারণ সত্যি। বাংলাদেশেও জঙ্গিবাদের ভূত নোংরা কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে পারছে আর্থিক মদদের কারণে। এ বাস্তবতাকে মনে রেখেই জঙ্গি অর্থায়নের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থান নিয়েছে সরকার। মুদ্রা পাচার ও চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন হচ্ছে এটি একটি ওপেন সিক্রেট। সিএসআরের নামে বিভিন্ন জিহাদি প্রকল্পে অর্থায়নের অভিযোগও রয়েছে। জঙ্গি অর্থায়নে ব্যাংক-বীমা ও এনজিও খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের অর্থ যাতে জঙ্গি এবং সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয় না হয় তা নিশ্চিত করতে নজরদারি চালাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের হুঁশিয়ারি করে বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে তাদের দেওয়া নির্দেশনা পালনে ব্যত্যয় ঘটলে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসের অর্থায়নবিরোধী আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশের বেশ কিছু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ধর্মীয় উগ্রবাদ তথা জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ভূমিকা পালনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কোনো কোনো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিম্নস্তর থেকে সর্বোচ্চস্তর পর্যন্ত যারা কর্মকর্তা-কর্মচারী পদে নিয়োগ পেয়েছেন তারা জঙ্গিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষ মতাদর্শের অনুসারী বলে মনে করা হয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান শুধু নয়, হাসপাতাল ক্লিনিক ইত্যাদি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানকেও জঙ্গি কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আমরা আশা করব জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধে সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে শুধু নির্দেশনা জারি নয়, তা প্রতিপালিত হচ্ছে কিনা সে বিষয়েও নজরদারি করা হবে। জঙ্গিবাদ এ মুহূর্তে মানব সভ্যতার জন্য এক বড় হুমকি। দেশি-বিদেশি অপশক্তি এ মানবতাবিরোধী মতবাদের বিকাশ ঘটিয়ে সভ্যতার কণ্ঠনালী টিপে ধরতে চায়। এই নোংরা ভূত ইতিমধ্যে আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়ামেন, সোমালিয়া এবং পাকিস্তানসহ আরও বেশ কিছু দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন করে ফেলেছে।   গণতন্ত্র মুক্তচিন্তা ও মানবাধিকারের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত জঙ্গিবাদকে ঠেকাতে এর অর্থায়ন বন্ধে আরও কড়াকড়ি পদক্ষেপ নিতে হবে।

up-arrow