Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৩৩
বিচিত্রিতা
হিব্রু জাতি

সেমিটিক জাতির যে শাখা সিরিয়া ও প্যালেস্টাইনে গিয়ে প্রভুত্ব বিস্তার করেছিল, তারা কালক্রমে ফিনিসীয়, আরামীয় ও হিব্রু— এ তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। প্রাচীন ইসরায়েলিরা ইতিহাসে হিব্রু বা ইহুদি জাতি হিসেবে পরিচিত। হিব্রু জাতি দাবি করে যে, তাদের আদি পুরুষ আব্রাহাম (হজরত ইবরাহীম)। গোড়াতে ইহুদিরা যাযাবর ছিল এবং জমির সন্ধান করতে করতেই একদিন আরবের মরুভূমি ছেড়ে কেনানে (পরবর্তীকালে প্যালেস্টাইন বলে অভিহিত) এসে বসতি স্থাপন করে (খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০-১২০০)। তাদের একটি শাখা মিসরে গিয়ে বাদশাহ ফেরাউনের দাসত্ব গ্রহণ করে। পরবর্তী সময়ে হজরত মুসার (আ.) সাহায্যে তারা ফেরাউনের দাসত্ব হতে মুক্তিলাভ করেন। হজরত দাউদের নেতৃত্বে হিব্রু জাতি একটি সাম্রাজ্যের পত্তন করে। তার ৪০ বছরব্যাপী রাজত্বকালে হিব্রু জাতির ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায়। হজরত দাউদের পুত্র ও উত্তরাধিকারী হজরত সুলায়মানের (৯৬১-৯২২ অব্দ) শাসনাধীনে হিব্রু সাম্রাজ্য গৌরবের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করে। দশের জন্য হজরত সুলায়মান বহু কল্যাণকর কাজ করে গেছেন। তিনি হিব্রু সাম্রাজ্যের রাজধানী জেরুজালেম নগরে বৃহৎ সুরম্য ভবন নির্মাণ করেন। তার সময়ে হিব্রু জাতির খ্যাতি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু হজরত সুলায়মানের মৃত্যুর পর হিব্রু সাম্রাজ্যের পতন শুরু হয়। দুভাগে বিভক্ত হিব্রু সাম্রাজ্যের উত্তরাংশ ইসরায়েল ও দক্ষিণাংশ জুডাহ্ নামে অভিহিত হতো। খ্রিস্টপূর্ব ৭২২ অব্দে অ্যাসিরীয়রা ইসরায়েলি রাজ্য দখল করে নেয়। কালদিয়ার রাজা নেবুচাডন্যাজার খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৬ অব্দে জুডাহ্ অধিকার করেন।

     —শাহাবুদ্দীন

up-arrow