Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৪ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৩৯
পর্যটনে মরণঘাত
বিশ্বাসঘাতকদের বিরুদ্ধে এক হতে হবে

গুলশান ও শোলাকিয়ার জঙ্গি হামলা দেশের পর্যটন খাতের ওপর মরণাঘাত হেনেছে। এই দুই ঘটনার পর গত দুই সপ্তাহে প্রায় ২৩ হাজার বিদেশি পর্যটক তাদের বুকিং বাতিল করেছেন। চলতি বছরের জন্যই শুধু নয়, আগামী বছর যারা বাংলাদেশ সফর করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন তাদের অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। চলতি বছরকে পর্যটন বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল সরকারের পক্ষ থেকে। আশা করা হচ্ছিল এ বছর ১০ লাখ বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশ সফর করবে। এর ফলে পর্যটন খাতেই শুধু দেশের আয় বৃদ্ধি পাবে না, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও অনুকূল অবস্থার সৃষ্টি হবে। কিন্তু গুলশান ও শোলাকিয়ার জঙ্গি হামলা বিদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার জন্ম দিয়েছে। দেড় বছর আগে বিএনপি-জামায়াত জোটের পেট্রলবোমা ও ককটেলনির্ভর আন্দোলনে ভাবমূূর্তির সংকটে পড়েছিল বাংলাদেশ। পোশাক শিল্পের ক্রেতারা বাংলাদেশে আসতে আতঙ্কবোধ করতেন। ঠিক একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে গুলশানের জঙ্গি হামলার পর। জঙ্গি নামের নৃশংস, বর্বর দানবরা বিদেশি জিম্মিদের গুলি ও জবাইয়ের মাধ্যমে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, লাশের ওপরও তাদের পৈশাচিকতার প্রকাশ ঘটিয়েছে। ফলে বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এখন অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ। বিদেশিদের বাংলাদেশ সফর হ্রাস পাওয়ায় পর্যটন খাতে গড়ে দৈনিক ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। এর মধ্যে হোটেল রিসোর্টের ক্ষতির পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা। গুলশান হত্যাকাণ্ডের পর হোটেল রিসোর্টের নিরাপত্তায় বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও আস্থার সংকট থেকেই যাচ্ছে। বাংলাদেশের পর্যটন খাতে ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল ছিল বাম্পার বছর। ২০১৫ সাল থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। পেট্রলবোমা ও ককটেলনির্ভর রাজনীতির ক্লেদ ধুয়ে পর্যটন খাত যখন এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ঠিক তখনই গুলশান ও শোলাকিয়া কাণ্ড তাতে সর্বনাশা ছোবল হেনেছে। বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ৮০ ভাগ হ্রাস পেয়েছে দুটি ঘটনায়। মনে করা হয় বাংলাদেশের অগ্রগতি রোধ করতেই বিদেশি অপশক্তি নানা অস্থিতিশীলতায় মদদ জোগাচ্ছে।   তাদের ষড়যন্ত্র রোধ করতে হলে জঙ্গি নামের বিশ্বাসঘাতক চক্রের সদস্যদের শেকড় উৎপাটনে সারা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow