Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ জুলাই, ২০১৬ ২৩:১৬
উলান বাটোর ঘোষণা
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার প্রশংসনীয়

সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস চরমপন্থার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই চালানোর অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলান বাটোরে এশিয়া ইউরোপ সম্মেলনের সমাপ্তি টানা হয়েছে। একের পর এক জঙ্গিবাদী হামলা যখন মানব সমাজের স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তখন এশিয়া ইউরোপ সম্মেলন (আসেম)-এর উলান বাটোর ঘোষণা তাত্পর্যের দাবিদার।

সম্মেলনে ১১টি দেশের প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৩টি দেশের প্রধানমন্ত্রী, ১৬টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ইউরোপীয় কাউন্সিল এবং ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি এবং আশিয়ানের মহাসচিব অংশ নেন। সম্মেলনে আসেম দেশগুলোর প্রতিনিধিরা ইউরোপ এশিয়ার মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে একত্রে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ঘোষণায় টেকসই উন্নয়নের জন্য নিরাপত্তা ও তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার, জাতিসংঘ সনদের নীতি অনুসরণ, আইনের শাসন, আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার, দুর্নীতিরোধ, অভিবাসন-সংক্রান্ত এজেন্ডা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সন্ত্রাস ও চরমপন্থা দমন, সমুদ্রসীমা সুরক্ষা ও নিরাপত্তা, মানব পাচার ও মাদক চোরাচালান, সাইবার নিরাপত্তা ও সাইবার অপরাধের মতো বিষয়ে অভিন্ন স্বার্থের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে। জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে উলান বাটোর ঘোষণায়। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুখী ও সমৃদ্ধ শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার দৃঢ় সংকল্পও উচ্চারিত হয়েছে আসেম নেতাদের কণ্ঠে। ঢাকার গুলশান ও শোলাকিয়া এবং ফ্রান্সের নিসে জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে আসেম সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপের যে তাগিদ ঘোষিত হয়েছে এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশের নেতাদের পক্ষ থেকে তা এক আশাজাগানিয়া ঘটনা। সন্ত্রাসবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং বিচ্ছিন্নভাবে এ জটিল সমস্যার সমাধান যে সম্ভব নয় তা একটি বাস্তবতাও বটে। বিশ্বের সিংহভাগ মানুষের বসতস্থল এশিয়া ও ইউরোপীয় নেতাদের কণ্ঠে সন্ত্রাসবাদ দমনের যে প্রত্যয় ঘোষিত হয়েছে তাতে সারা বিশ্বের মানুষের কণ্ঠস্বরই প্রতিধ্বনিত হয়েছে। যেটিকে আসেম এর সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে ধরা যায়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow