Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ জুলাই, ২০১৬ ২৩:১৭
তুরস্কে জনতা রুখে দিল ক্যু
ক্ষমতালোভীদের জন্য উচিত শিক্ষা

তুরস্কের জনগণ সরকার উত্খাতের ক্যু ব্যর্থ করে দিয়েছে। শুক্রবারের রাতের সেনা অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনীর একাংশ দেশের রাজধানী আঙ্কারা ও বৃহত্তম নগরী ইস্তাম্বুলের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দখলে আনে।

ট্যাংক নামিয়ে রাস্তায় অবস্থান নেয় তারা। সেনা অভ্যুত্থানকারীদের বিমান প্রেসিডেন্ট এরদোগানের প্রতি অনুগতদের ওপর বোমাবর্ষণও করে। কিন্তু জনতা সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসায় রক্ষা পায় নির্বাচিত সরকার। সাধারণ মানুষ ট্যাংকের সামনে বুক পেতে দিলে থেমে যায় চাকার গতি। তুরস্ক ও সেনা অভ্যুত্থান বহু ক্ষেত্রেই একে অপরের অনুষঙ্গ। বার বার এ দেশটির ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের নজির রেখেছে তারা। ১৯৬১, ১৯৭১ ও ১৯৮০ সালে সরাসরি ক্ষমতা দখলের ধৃষ্টতা রেখেছে সে দেশের চক্রবক্র ভূতেরা। ১৯৯৭ সালে সরাসরি ক্ষমতা দখল না করলেও তাদের দেওয়া বিভিন্ন প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হয় নির্বাচিত সরকার। এর মধ্যে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত এবং তার দলকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও ছিল। ২০০৩ সাল থেকে তুরস্কের ক্ষমতায় রয়েছে ডানপন্থি জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি। সেনাবাহিনীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব এড়িয়ে এ দলটির এতদিন টিকে থাকা সত্যিই এক বিস্ময়কর ব্যাপার। গত শুক্রবারের ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে বন্দুকের নল নয় জনগণই ক্ষমতার উৎস। জনসমর্থনের কাছে ট্যাংক সাজোয়া বহরও হার মানতে বাধ্য হয়। শুক্রবারের অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অভিন্ন সুরে কথা বলেছে সে দেশের সব রাজনৈতিক দল। সরকার ও বিরোধী দলের অবস্থান দুই মেরুর হলেও রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর নাক গলানোকে দুই পক্ষই নিন্দনীয় বলে মনে করেছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট অভ্যুত্থানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের ইন্ধন থাকার অভিযোগ করেছেন। গুলেন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন অভ্যুত্থান একটি সাজানো নাটক। এরদোগানের এক সময়ের মিত্র ফেতুল্লাহ গুলেন ধর্মীয় ক্ষেত্রে উদারপন্থি এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীল। তার অভিযোগ এরদোগান সব ক্ষমতা নিজের হাতে কুক্ষিগত করে স্বৈরশাসন কায়েম করেছেন। তুরস্কের বাস্তবতায় এ অভিযোগের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ কম। তারপরও নির্বাচিত সরকারকে বন্দুকের নল দিয়ে উত্খাতের প্রয়াস যে নিন্দনীয় তা একটি অনস্বীকার্য বিষয়। তুরস্কে জনগণের কাছে সেনা অভ্যুত্থানকারীদের পরাজয় দুনিয়ার সব দেশের লোভী সেনা কর্মকর্তাদের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে আমরা এমনটিই আশা করতে চাই। তুরস্কের জনগণকে অভিনন্দন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow