Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ২০ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৩৯
জঙ্গিবাদ ও ‘স্যাড জেনারেশন’
রোবায়েত ফেরদৌস
জঙ্গিবাদ ও ‘স্যাড জেনারেশন’

কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতার মূল উপজীব্য বিষণ্নতা ও হতাশা। রবীন্দ্রনাথে বিষণ্নতা আছে, কিন্তু কোথাও কোনো হতাশা নেই; নৈরাশ্য নেই এক ফোঁটাও।

রবীন্দ্রনাথ সব সময়ই আশাবাদী, আজীবন আলোর সন্ধানী। বিপরীতে জীবনানন্দ আমৃত্যু হতাশাগ্রস্ত আর বিষাদময় এবং এর প্রতিফলন তার কবিতার ছত্রে ছত্রে। জীবনানন্দ এক সময়কার তরুণদের কাছে, বিশেষ করে ষাটের দশকে, তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন।   কারণ তরুণরা তখন হতাশা আর বিষণ্নতায় ডুবে ছিলেন; ওই প্রজন্মকে বলা হতো ‘স্যাড জেনারেশন’। এখন মনে হচ্ছে আবার সেই বিষণ্নতা, হতাশা আর দুঃখবাদী সমাজ নির্মাণ হচ্ছে। নতুন এক ‘স্যাড জেনারেশন’ এখন জঙ্গি হয়ে উঠছে। গুলশান ও শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের হামলার কয়েক দিন পর বণিক বার্তা পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫% শিক্ষার্থীই হতাশ ও বিষাদগ্রস্ত। খবরটি একটি দিক চিহ্নিত করে দেয় তা হলো, বিষাদগ্রস্তদের সহজে জঙ্গিবাদে কব্জা করা যায়। তার মানে শুধু আর্থিক অসচ্ছলতা নয়, হতাশ তরুণদের জঙ্গিবাদে দীক্ষা দেওয়া সহজ। তরুণটি কোন পরিবারের সেটা মুখ্য নয়। মুখ্য হলো সে কোনো আশার আলো দেখতে পাচ্ছে কিনা। একটি বিষয় লক্ষ্য করলে দেখা যাবে এই সময়ে তরুণরা তাদের সামনে কোনো আশার আলো দেখতে পাচ্ছে না। তাদের সামনে নেই কোনো রোল মডেল— যাকে তারা আদর্শ জ্ঞান করে অনুসরণ করতে পারে। সবখানেই একটা অস্থিরতা বিরাজ করছে। কর্মক্ষেত্রে অর্ধেক শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করার পর কোনো কাজে যোগ দিতে পারছে না। মানে তারা পূর্ণদৈর্ঘ্য বেকার। এ নিয়ে এক ধরনের হতাশা তৈরি হচ্ছে। এর দায়িত্ব কিন্তু অনেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর বর্তায়। কারণ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার পর তাকে শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, তার চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার সব পথ তৈরি ও পরিবেশ তৈরি করে দেওয়ার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি সেই পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারছে? অকপটে স্বীকার করতে হবে আমরা এখনটায় ব্যর্থ হয়েছি। আর তাই কোমলমতি এই তরুণরা ঝুঁকছে ভার্চুয়াল জগতে। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রতিদিন গড়ে ১ থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। ৪ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যবহার করেন এমন শিক্ষার্থীর হার ৩৭ শতাংশ। আর দৈনিক ৮ ঘণ্টার বেশি সময় ইন্টারনেটে ব্যয় করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ১১ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশই রাত জেগে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। (বণিক বার্তা, ১১ জুলাই) হতাশাজনক হলেও সত্য যে, এটা শুধু নর্থ সাউথের চিত্র নয়, এটা সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাধারণ চিত্র। ইন্টারনেট ব্যবহার খারাপ কিছু নয় কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার ভালো কিছুও নয়। দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করলে এর ওপর নির্ভরতা বাড়তে থাকে। পাশাপাশি একটি মোহ তৈরি হতে থাকে। ফলে ইন্টারনেটে আসক্ত ব্যক্তি অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক বিষয়গুলোও বিশ্বাস করতে শুরু করে। কারণ সে আর আসলে বাস্তব জগতে বিচরণ করে না। বিচরণ করে ভার্চুয়াল জগতে— কাল্পনিক এক অলীক দুনিয়ায়, এক মোহনীয় কিন্তু মায়াবী জগতে। ইন্টারনেট তাকে এক লাফে টেনে নিয়ে যায় স্বপ্নময় এক হাতছানির জগতে। তাদের সামনে মেকি এক ‘বাস্তবতা’ নির্মাণ করে দিচ্ছে— এ এক ‘ফলস্ কন্সট্রাকশন অব রিয়েলিটি’। এর ফাঁদে তারা পড়ছে। সারাক্ষণ সেলফোন, ট্যাব, ল্যাপটপে মুখ গুঁজে রাখতে; এ যেন এক ‘মাথা-গুঁজা-জেনারেশন’— অদ্ভুত আর আজব! সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো এই সুযোগটাই নিচ্ছে। অস্ত্র, মাদক, যৌনতা আর জেমস বন্ডের মতো মানুষ খুনের থ্রিলে তাকে ঘুরপাক খাওয়াচ্ছে। জঙ্গি স্পন্দিত বুকে সে নিজেকেই ০০৭-এর বন্ড ভাবতে শুরু করেছে। এক রোমাঞ্চকর আর শিহরণ জাগানো অনুভূতির আমেজ তার মগজে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। এক মিথ্যে, বর্বর আর নিষ্ঠুর সংস্কৃতি খুব দ্রুত তার মাথায় আর মগজের কোষে কোষে চালান করে দিচ্ছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, একজন শিক্ষার্থী ভার্চুয়াল জগতে বিচরণ না করে করবে কী? বিশ্ববিদ্যালয় (বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) কি তাদের জন্য কোনো ক্যাম্পাস দিতে পেরেছে? খেলার মাঠ, জিমনেশিয়াম, দিগন্ত বিস্তৃত সবুজের সমারোহ? একটি বিল্ডিং ভাড়া করে সেখানে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। সব কিছুর অভাব সেখানে। আলো-বাতাস, বিশুদ্ধ পানি, শৌচাগার, বিশুদ্ধ খাবার সব সবকিছুর অভাব। সেই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় চাপের মধ্যে রয়েছে সপ্তাহ শেষে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া, লাগাতার পরীক্ষা। পক্ষান্তরে গবেষণা বা জার্নাল প্রকাশের সুযোগ কিন্তু নেই এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের।

এই বাস্তবতা শুধু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও বটে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশের ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩ জনকে জঙ্গি সম্পৃক্ততা শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে নর্থ-সাউথের ১১ জন, বুয়েটের ৬ জন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ জন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ জন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ বিভাগের ২ জনসহ এক শিক্ষককেও (বাংলা ট্রিবিউন ১৪ জুলাই)। তার মানে শুধু শিক্ষার পরিবেশ ঠিক করলেই হবে না ঠিক করতে হবে আরও অনেক কিছু। হিযবুত তাহরীর এক সময়কার প্রধান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর বহিষ্কৃত শিক্ষক মহিউদ্দিন আহমেদের কথা মনে আছে? কিংবা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত শিক্ষক হাসনাত করিম? জঙ্গিদের কাছে বাসা ভাড়া দেওয়া শিক্ষক ড. গিয়াস? আদর্শচ্যুত এসব শিক্ষককে দিয়ে আপনি যত ভালো পরিবেশে শিক্ষা দেন না কেন ফলাফল শূন্য। বরং ভালো পরিবেশ পেলে ভালোমানের জঙ্গি তৈরি হবে, তৈরি হবে আন্তর্জাতিকমানের সন্ত্রাসী।

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে প্রাণঘাতী জঙ্গি হামলার ঘটনা আমাদের একাধিক নির্মম সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এর আগে বিভিন্ন ঘটনায় দেখা গেছে, এসব হামলায় অংশ নেওয়া উন্মাদরা বিভিন্ন্ন মাদ্রাসা বা অসচ্ছল পরিবারের সন্তান। কিন্তু গুলশান ও শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে হামলায় অংশ নেওয়া তরুণের মধ্যে চারজন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং এরা প্রত্যেকেই সচ্ছল পরিবারের সন্তান। বিভিন্ন সময় বলাও হয়েছে, আর্থিক অসচ্ছলতা আর হতাশ তরুণরা জঙ্গিবাদে দীক্ষা নিয়ে থাকে। কিন্তু ইংরেজি মাধ্যমের নামকরা স্কুল আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া এসব শিক্ষার্থীর বেলায় সেই যুক্তি খাটছে না। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা স্কলাসটিকা স্কুলে পড়া কোনো শিক্ষার্থী পরিবারের যে টাকার অভাব নেই এটা প্রায় সুনিশ্চিত। তাহলে তারা কেন জঙ্গি হচ্ছে? আসল কথা হলো পেটের দায়ে কেউ জঙ্গি হয় না। হয় মতাদর্শের দায়ে। সে মতাদর্শ ভুল বা ঠিক হোক।

গভীর খেদ নিয়ে যে প্রশ্ন করা দরকার তা হলো, বিশ্ববিদ্যালয় যদি এভাবে জঙ্গি তৈরির কারখানা হয় তবে মানুষ তৈরি করবে কারা? সরকার ও এর গোয়েন্দা সংস্থা এতদিন নীরব ছিল কেন? তাদের কাছে কি এই সমস্যাটাকে সমস্যা মনে হয়নি? আজ সরকার, বিরোধী দল, বিএনপি সবাই এক সুরে কথা বলছে। তার মানে এত দিনে তারা মনে করছে অন্তত এই ইস্যুতে হলেও তাদের এক হওয়া প্রয়োজন! বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি তদন্ত দলের রিপোর্টে উল্লেখ আছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির গ্রন্থাগার পরিদর্শন করতে গেলে তারা সেখানে নিষিদ্ধ জঙ্গি তত্পরতামূলক হিযবুত তাহরীরের বই পান। তবে এসব বই পাওয়া গেলেও কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কেন? কার ব্যর্থতা এটা? প্রশাসন কী করল? এর আগে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মিরপুরে ব্লগার রাজীব হায়দার শোভনকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনায় পুলিশ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফয়সাল-বিন-নাঈম ও রেজওয়ানুল হককে গ্রেফতার করে এবং পরে তারা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও সরাসরি অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও দেয়। এরা কাদের মাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে তাদের কেন চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে না? কারা এর মাস্টারমাইন্ড?

এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে আলোচিত কিছু প্রস্তাব তুলে ধরতে চাইছি। যেমন : এক. দেশে একটি সাংস্কৃতিক গণজাগরণ তৈরি করতে হবে; জেলা-উপজেলায় শিল্পকলা একাডেমি-শিশু একাডেমিগুলো এখন ঘুমুচ্ছে— এদের জাগিয়ে তুলতে হবে; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার মতো সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। দুই. প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে জঙ্গিবাদবিরোধী কমিটি থাকতে হবে। তিন. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যেসব স্থানে জঙ্গিবাদ নিয়ে বৈঠক হতে পারে সে জায়গাগুলো চিহ্নিত করে নজরদারি বাড়াতে হবে। চার. মসজিদ বা নামাজের স্থানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কোনো গোপন সভায় মিলিত হতে পারবে না। পাঁচ. শিক্ষার্থীরা অনিয়মিত হলে অবশ্যই অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ছয়. লাইব্রেরিতে জঙ্গিবাদের  কোনো বই-পুস্তক থাকলে তা সরিয়ে ফেলতে হবে। সাত. সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মসূচিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশ নিতে হবে। আট. একাডেমিক কার্যক্রমেও জঙ্গিবাদবিরোধী বিষয় থাকতে হবে— এখানে এথিকস ও নন্দনতত্ত্বের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। নয়. নিয়মিতভাবে বাঙালি/জাতিসত্তার সাংস্কৃতিক চর্চা থাকতে হবে। দশ. যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে পুলিশকে জানাতে হবে। এগার. অপরাধে জড়িত বলে সন্দেহ হলেই কাউন্সিলিংয়ের আওতায় আনতে হবে। বার. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসবাদবিরোধী গবেষণা হতে হবে।

কিন্তু সংশয় একশভাগ, এগুলোর কি বাস্তবায়ন হবে? যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা প্রশাসন এর সঙ্গে জড়িত থাকে তারা কি এসব করতে রাজি হবে? সেক্ষেত্রে তাদের বাধ্য করতে হবে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ‘জিরো টলারেন্স’ বা ‘শূন্য সহনশীলতার’ কথা বলেছেন— কাজেকর্মে তার অনুবাদ করতে হবে। তার থেকে বড় কথা তরুণরা যা চাইছে তা কী আমরা দিতে পারছি? তাদের কী আমরা স্বপ্ন দেখাতে পারছি ভালো কিছু করার? ভালো কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করাতে পারছি? তরুণরা আদর্শ খোঁজে, বিশ্বাস আঁকড়ে ধরতে চায়, রোমাঞ্চ খোঁজে।   এটা কী আমরা দিতে পারছি?

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

robaet.ferdous@gmail.com

এই পাতার আরো খবর
up-arrow