Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৭

প্রকাশ : বুধবার, ২০ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৪৫
তাসবিহে ফাতেমিতে বান্দা গোনাহমুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়
মাওলানা মুহম্মাদ আবদুল খালেক

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় কন্যা হজরত ফাতিমা (রা.) অত্যন্ত অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন। গৃহের যাবতীয় কাজকর্ম নিজ হাতে আঞ্জাম দিতেন। এরই মাঝে একদিন প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কয়েকজন গোলাম-বাদী এলো। তখন হজরত আলী (রা.) হজরত ফাতিমা (রা.)-কে পরামর্শ দিলেন তুমি রসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে একজন খাদেম চেয়ে আনো। এতে তোমার কাজকর্মের চাপ কিছুটা হালকা হবে। স্বামীর পরামর্শ অনুযায়ী তিনি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে হাজির হলেন। তখন ছিল সেখানে প্রচুর লোকের সমাগম। এদিকে হজরত ফাতিমা (রা.) ছিলেন মাত্রাতিরিক্ত লাজুক প্রকৃতির। লোকসম্মুখে কিছু বলা তার পক্ষে সম্ভব হলো না তাই ফিরে এলেন।

পরদিন রসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কন্যার বাড়িতে তাশরিফ আনলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, মা ফাতিমা গতকাল তুমি কী জন্য আমার কাছে গিয়েছিলে? হজরত ফাতিমা (রা.) তখনও নিরুত্তর। লজ্জায় তিনি মুখ খুলছেন না। তার নীরবতা লক্ষ্য করে হজরত আলী (রা.) বললেন, ইয়া রসুলুল্লাহ! জাঁতাকলে আটা পিষার দরুন তার হাতে দাগ পড়ে গিয়েছে। মশক ভর্তি পানি বহন করার ফলে বুকে মশকের রশির দাগ পড়ে গিয়েছে। এ ছাড়া ঘর ঝাড় দেওয়ার কারণে প্রায়ই তার কাপড়-চোপড় ময়লাযুক্ত থাকে। এ জন্য আমি তাকে এই বলে পরামর্শ দিয়েছিলাম যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে একজন খাদেম নিয়ে আস।

হজরত আলী (রা.)-এর কথা শুনে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহকে ভয় কর, পরহেজগারী অবলম্বন কর এবং রাব্বুল আলামিনের বিধানসমূহ পালন কর। ঘরের কাজকর্ম নিজ হাতেই সম্পাদন কর, আর রাতে ঘুমানোর আগে ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহ আকবার পাঠ করার পর শয়ন কর। মনে রেখ, এগুলো পাঠ করা খাদেম হতে বহু উত্তম। হজরত ফাতিমা (রা.) উত্তরে বললেন, আমি আল্লাহ ও তার রসুলের সিদ্ধান্তে রাজি আছি। উল্লিখিত এ তাসবিহটি তাসবিহ ফাতেমি নামে পরিচিত। যেহেতু প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত ফাতিমা (রা.)-কে উদ্দেশ করে তাসবিহ পাঠের কথা বলেছিলেন এবং তিনিও নির্দ্বিধায় সেটা মেনে নিয়ে আমরণ যথার্থ গুরুত্বসহকারে এ তাসবিহ পাঠ করতেন।   তাই উল্লিখিত এ তাসবিহকে তাসবিহে ফাতেমি বলা হয়। তাসবিহে ফাতেমি পাঠে বান্দাহ গোনাহমুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়।

লেখক : ইসলামী গবেষক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow