Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ জুলাই, ২০১৬ ২৩:২৬
শিশুদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধকরণ
জঙ্গিবাদ রোধের প্রকৃষ্ট উপায়

দেশের ২৩ শতাংশ প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয় না। জাতীয় পতাকা উত্তোলন হয় না ৯ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। ৮৮ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রন্থাগার নেই। ৪৫ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় না। ৪১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং ৭০ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্কাউটিংয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। গত ডিসেম্বরে গণসাক্ষরতা অভিযানের প্রাথমিক শিক্ষাসংক্রান্ত প্রকাশিত এডুকেশন ওয়াচ রিপোর্ট ২০১৫ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে তুলে ধরা বৈসাদৃশ্যগুলো নতুনভাবে প্রাসঙ্গিকতা পেয়েছে গুলশান ও শোলাকিয়ার জঙ্গি হামলার পর। এ হামলার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার কারণে ইতিমধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের দেশের ইতিহাস জানানো, তাদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করা এবং ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক চর্চায় যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশিষ্টজনরা। শিক্ষাবিদরা মনে করেন প্রাথমিক শিক্ষা শিশুদের দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। সেখান থেকেই শিশুরা যাতে দেশ ও সমাজ সম্পর্কে জানতে পারে সে ব্যবস্থা থাকা উচিত। শিশুদের সুকুমারবৃত্তি চর্চারও প্রাথমিক পর্যায় এটি। অথচ প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উৎকর্ষ সাধনে দেশে নেই পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ না হওয়া এবং সংস্কৃতি চর্চার অভাবে তারা বিপথে হাঁটছে। শিশুদের এক বড় অংশ পরগাছা হিসেবে বেড়ে উঠছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদসহ তরুণ সমাজে বিদ্যমান অপরাধ প্রবণতা ঠেকাতে স্কুল শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিশু শিক্ষার্থীদের মানবতামূলক বক্তৃতা শোনানোর উদ্যোগ নিচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এখন থেকে স্কুল অ্যাসেমব্লিতে জাতীয় সংগীতের পর শিক্ষকরা ১০ মিনিট করে বাচ্চাদের দেশপ্রেম ও সদাচারণ শিক্ষা দেবেন। এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়াও হয়েছে। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় সংগীত গাওয়ার বিধান ছিল প্রথম থেকেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের দ্বারা পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত গাওয়া কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়। ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও অনুসৃত হয় এই অশুভ প্রবণতা।   দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধারদের দেশপ্রেম জাগ্রত করা এবং সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow