Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৭

প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ জুলাই, ২০১৬ ২৩:২৮
শাওয়াল মাসের রোজার ফজিলত
মুফতি ড. ইমাম হোসাইন

পবিত্র মাহে রামাদানের পর মুসলিম উম্মাহর সামনে আরবি যে মাসটি এসেছে তার নাম শাওয়াল। এ মাসের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো ছয় দিন রোজা রাখা। ফরজ নামাজের আগে ও পরে কিছু সুন্নাত ও নফল নামাজ পড়তে হয়, ঠিক রামাদানের ফরজ রোজার পরেও কিছু সুন্নাত ও নফল রোজা রাখতে হয়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শাওয়াল মাসের রোজা। শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখ বাদ দিয়ে যে কোনো তারিখে মোট ছয়টি রোজা রাখা সুন্নাত। এ রোজাগুলো একাধারেও রাখা যায়, আবার সুবিধামতো একটি একটি করেও রাখা যায়। এ রোজা একবার রাখলে প্রতি বছর রাখা বাধ্যতামূলক নয়। এ রোজার জন্য তারাবির নামাজ পড়তে হয় না। এ রোজাগুলো সোমবার ও বৃহস্পতিবার রাখলে একই সঙ্গে শাওয়ালের রোজা ও সোমবার, বৃহস্পতিবারের রোজার সাওয়াবও পাওয়া যাবে। আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেন : ‘যে ব্যক্তি রামাদান মাসের রোজা রাখল, তারপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখল তাহলে তা সারা বছর রোজা রাখার মতো হবে (সহিহ মুসলিম)। ’

রসুল (সা.)-এর এ বাণীর মধ্যে একটি যুক্তি রয়েছে। উম্মাতে মুহাম্মদী (সা.)-এর বৈশিষ্ট্য হলো একটি নেক আমল করলে দশগুণ সাওয়াব দেওয়া হয়। তাহলে রামাদানে ২৯-৩০ দিন রোজা রাখলে ৩০ী১০= ৩০০ দিনের সমান হয়। বাকি ৫৪ দিনের জন্য ছয়টি রোজার প্রয়োজন হয়। তাই রামাদানের রোজার পর ছয়টি রোজা রাখলে তা সারা বছর রোজা রাখার মতো হয়ে যাবে। উম্মি নাবীর বিজ্ঞানপূর্ণ বাণী সত্যিই অসাধারণ। এ রোজার আরও অনেক ফায়েদা রয়েছে :

১. সুন্নাত ও নফল নামাজের মাধ্যমে যেমন ফরজ নামাজ পরিপূর্ণতা লাভ করে, ঠিক এ ছয়টি রোজার মাধ্যমে রামাদানের রোজা পরিপূর্ণতা লাভ করে।

২. এ ছয়টি রোজা রাখা রামাদানের রোজা কবুল হওয়ার দলিল। কারণ আল্লাহতায়ালা যখন কোনো বান্দাহর আমল কবুল করেন, তখন তাকে নেক আমল করার যোগ্যতা দান করেন।

৩. রামাদানের ইবাদতসমূহের মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয় এবং ঈদুল ফিতরের দিন পুরস্কার বিতরণ হয়। গুনাহ মাফ ও পুরস্কার পাওয়ার চেয়ে বড় নিয়ামত আর কী হতে পারে? এ নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় হয় এ মাসে ছয়টি রোজা রাখার মাধ্যমে।

৪. পূর্ববর্তী উম্মাতদের অনেকের ওপর মাসে ৩ দিন রোজা রাখা ফরজ ছিল, তাহলে মোট রোজা হতো ১২ী৩= ৩৬ দিন। সে উম্মাতদের থেকে যাতে আমাদের রোজা কম না হয়।

৫. সর্বোপরি নবী (সা.)-এর একটি সুন্নাতকে ভালোবাসা হবে।

৬. নামাজে ভুলত্রুটি হলে সাহু সিজদা এবং পরবর্তীতে সুন্নাত নামাজের ব্যবস্থা থাকে, যাতে ওই ভুলের কাফ্ফারা হয়ে যায়। ঠিক রামাদানের রোজায় কোনো ভুলত্রুটি হলে এ রোজাগুলো তার জন্য সাহু সিজদার মতো কাফ্ফারা হয়ে যায়।

ড. আহমাদ মুস্তাফা ‘শাওয়ালের ছয়টি রোজার ২৬টি ফজিলত’ শিরোনামে কোরআন ও সুন্নাহর দলিল দ্বারা আরবিতে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন। আল্লাহতায়ালা আমাদের শাওয়ালের ছয়টি সুন্নাত রোজা রাখার মাধ্যমে এর ফজিলত  লাভ করার তাওফিক দিন।

লেখক : খতিব, উত্তরা ১১নং সেক্টর বায়তুন নূর জামে মসজিদ, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow