Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : শনিবার, ২৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:১১
অবস্থাপন্ন মুমিনদের জন্য ফরজ ইবাদত হজ
মাওলানা মুহম্মাদ সাহেব আলী

হজ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ইচ্ছা বা সংকল্পবদ্ধ হওয়া। তবে ইসলামী বিধানে হজ বলতে বোঝায় বায়তুল্লাহ শরিফকে প্রদক্ষিণ করা। হজ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের অন্যতম। সাংসারিক প্রয়োজন মিটিয়ে কাবা শরিফ পর্যন্ত যাতায়াতের অর্থসংস্থানের সুযোগ যাদের রয়েছে তাদের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ পালন ফরজ। হজ পালনকালে নিজেকে আল্লাহর দরবারে হাজির ভাবতে হয়। হজ পালনের জন্য ইহরাম অবস্থায় থাকাকালীন অর্থাৎ ১০ জিলহজ পর্যন্ত স্ত্রীর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন না করার বিধান রয়েছে। হজের প্রধান কাজ হলো তালবিয়াহসহ পবিত্র কাবাঘর তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করা।

হজের ফরজ তিনটি : প্রথমত, ইহরাম বাঁধা অর্থাৎ হজের নিয়তে মিকাত হতে দুখণ্ড সেলাইবিহীন কাপড় পরে সবসময় বেশি বেশি তালবিয়াহ অর্থাৎ লাব্বায়কা আল্লাহুম্মা লাব্বায়ক্ লাব্বায়কা লা শারিকা লাকা লাব্বায়ক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্ নি’মাতা লাকা ওয়াল্ মুল্ক, লা-শারিকা লাক (আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি হাজির, আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সব প্রশংসা ও নেয়ামত তোমারই আর সাম্রাজ্যও তোমার, তোমার কোনো শরিক নেই) পাঠ করা। দ্বিতীয়ত, জিলহজের ৯ তারিখে ফজর নামাজের পর আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা। আরাফাতের ‘নামরা’ নামক স্থানে জোহর ও আসরের নামাজ, এক আজান ও দুই একামতসহ কসর পড়ে নামাজ সম্পন্ন করা এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা। তৃতীয়ত, কাবাঘর তাওয়াফে জিয়ারত করা।

হজের ওয়াজিব পাঁচটি : (১) আরাফাতের ময়দান থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় মুযদালিফায় অবস্থান করা এবং সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করা, (২) সাফা ও মারওয়া পাহাড় দুটির মাঝে দৌড়ানো, (৩) কঙ্কর নিক্ষেপ করা, (৪) তাওয়াফে ছদর অর্থাৎ মক্কার বাইরের হাজীদের জন্য বিদায়কালীন তাওয়াফে আলবেদা করা, (৫) মাথার চুল মুড়িয়ে ফেলা এবং মহিলাদের জন্য চুল কেটে ছোট করা।

হজের কিছু সুন্নাত : ১. মক্কা শরিফে পৌঁছেই পবিত্র কাবাঘর তাওয়াফ করা, ২. ছতর ঢেকে তাওয়াফ করা ৩. মিনা ময়দানে রাতযাপন করা ৪. বিভিন্ন জায়গায় মাছনুন দোয়াগুলো পাঠ করা। ৫. নিজে হেঁটে তাওয়াফ করা ৬. নিজ ডানদিক থেকে কাবা শরিফের তাওয়াফ আরম্ভ করা ৭. তাওয়াফের পর দুই রাকাত নামাজ আদায় করা ইত্যাদি। হজ পালনের জন্য কোনো মুমিন যখন নিয়ত করে, তখন সে আল্লাহর পথে নিজেকে সমর্পণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। নিজের সব পাপ থেকে আল্লাহর কাছে মাফ চায়।   উন্নত ও পবিত্র চরিত্রে নিজেকে আলোকিত করার শপথ নেয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হজ পালনের এবং তার পথে সমর্পিত হওয়ার তওফিক দান করুন।

     লেখক : ইসলামী গবেষক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow