Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৩ জুলাই, ২০১৬ ২৩:০১
উত্তরাঞ্চলে বন্যার ছোবল
দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে হবে

দেশের উত্তরাঞ্চলে একটানা বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা ঢলে কুড়িগ্রাম ও সিরাজগঞ্জে বন্যা ছোবল হেনেছে। একটানা বৃষ্টিতে দেশের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিপুল এলাকা বন্যাকবলিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যার পাশাপাশি কোথাও কোথাও চলছে নদীভাঙনের তাণ্ডব। হাজার হাজার মানুষ ইতিমধ্যে অসহায় অবস্থায় পড়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে। বন্যা ও অতি বৃষ্টির কারণে হঠাৎ করে তরিতরকারির দাম দ্বিগুণ এমনকি তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্যায় সবজির খেত ডুবে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন সবজি চাষিরা। বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টিপাত খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। উজান থেকে ঢল নেমে আসার বিষয়টিও স্বাভাবিক। যুগ যুগ ধরে এ ভূখণ্ডের মানুষ এ বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে আসছে প্রতিবছরই। চলতি বছর এ যাবৎ যে বৃষ্টি হয়েছে তা কোনোভাবেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি নয়। কিন্তু নদ-নদীর পানি ধারণক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় একটানা বৃষ্টি হলেই বন্যা ছোবল হানছে। উজান থেকে আসা ঢল বন্যা পরিস্থিতিকে বেসামাল করে তুলছে। উত্তরাঞ্চলের বন্যাকবলিত এলাকায় ইতিমধ্যে মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে কষ্ট পাচ্ছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ। কুড়িগ্রাম ও সিরাজগঞ্জের বন্যাকবলিত এলাকার খাবার পানির অভাব মেটাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসনকে এ ব্যাপারে যেমন হাত বাড়াতে হবে তেমন এলাকার সম্পন্ন মানুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে। উজান থেকে আসা ঢল এবং একটানা বৃষ্টিকে অভিশাপের বদলে আশীর্বাদে পরিণত করার জন্যও উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে। নদ-নদীর পানি ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে বন্যা সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। এটি সম্ভব হলে শুষ্ক মৌসুমে চাষের জন্য পানি সহজলভ্য হবে, পাশাপাশি মাছ চাষের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।   কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও তা ইতিবাচক অবদান রাখবে। নদ-নদীর নাব্য বৃদ্ধি পেলে কম খরচে নৌপথে চলাচল ও পণ্য পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ ব্যাপারে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে আমরা এমনটিই দেখতে চাই।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow