Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৩ জুলাই, ২০১৬ ২৩:০৩
বিচিত্রিতা
নীলফামারীর নীলচাষ

আঠারো শতকের গোড়ার কথা যখন নীলফামারীসহ প্রায় পুরো বঙ্গ দেশেই নীলচাষে বাধ্য করা হয়েছিল কৃষকদের। নীলফামারীর কৃষকরা তাদের নিজস্ব পাট ও ধানচাষ ছেড়ে নীলচাষে আগ্রহী ছিল না সে কারণে নীলকররা বিভিন্ন স্থান থেকে প্রান্তিক বর্গীয় দারিদ্র্যগ্রস্ত, ভূমিচ্যুত মানুষ সংগ্রহ করে নিম্নমজুরি দিয়ে নীলচাষে বাধ্য করত। নীলচাষকে কেন্দ্র করে সে সময় বঙ্গদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের আগমন ঘটে নীলফামারীতে। নীলকুঠিগুলোর পাশেই দীনদৈন্য, হতদরিদ্রের ন্যায় জীবনযাপন করত সে মানুষগুলো। নীলকররা চাষিদের সঙ্গে ক্রীতদাসের মতো ব্যবহার করত। অতীতে নীলফামারীসহ বঙ্গদেশের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিদেশে রপ্তানি হতো। সঙ্গত কারণে বঙ্গদেশ চিরকালই ছিল রপ্তানিকারক দেশ এবং এ অঞ্চলের কৃষক কাঁচামাল উৎপাদনে দক্ষ কারিগর ছিল। ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬৫-৬৭ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দেওয়ানি লাভের পর বাংলা থেকে তুলা ও রেশম রপ্তানি করতে শুরু করে। ইংল্যান্ড ঘুরে সেই তুলা ও রেশম থেকে বস্ত্র উৎপাদিত হয়ে আবার বাংলায় আসত আমদানি পণ্য হয়ে। ফলে বাংলা তখন হয়ে দাঁড়ায় কাঁচামাল সরবরাহকারী ও পাকামাল আমদানিকারক দেশ। ১৮২০ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গদেশ যখন আমদানিকারক দেশে পরিণত হয়, তখন Balance of Trade-এ ঘাটতিতে পড়ে যায়। বাণিজ্যস্থিতির এ ভারসাম্য রক্ষার জন্য নতুন রপ্তানি পণ্য হিসেবে নীলকর ব্রিটিশ বেনিয়াদের আবিষ্কার নীল বা Indigo। উত্তরবঙ্গে নীলচাষের ক্ষেত্রে নীলফামারীর নাম অগ্রগণ্য, কেননা নীলফামারীর মাটি উর্বর দো-আঁশ হওয়ায় নীলের ব্যাপক উৎপাদন হতো। শুধু নীলফামারীর মাটির গুণেই নয় বরং এ অঞ্চলের সস্তা শ্রমবাজার নীলকরদের নীলকুঠি প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত করেছিল।

-অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow