Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ জুলাই, ২০১৬ ২৩:১৫
দুর্নীতি ও জঙ্গি অর্থায়ন
জাতিকে সতর্ক থাকতে হবে

দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সংবাদপত্র ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বলেছেন, দুর্নীতির টাকাই জঙ্গিবাদে ব্যবহৃত হয়। অর্থনৈতিক সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে আজকের বিশ্বের ভয়াবহ সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেছেন, এগুলোকে প্রতিহত করতে না পারলে আমরা কেউই নিরাপদ থাকব না। দুর্নীতির সঙ্গে জঙ্গিবাদের সম্পর্ক নিয়ে দুদক চেয়ারম্যান যে অভিযোগ করেছেন তা প্রাসঙ্গিকতার দাবিদার। জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধ করতে না পারলে এই ভয়ঙ্কর শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই ফাঁকা মাঠে তলোয়ার ঘোরানোর নামান্তর হয়ে দাঁড়াবে। বাংলাদেশে জঙ্গি অর্থায়নে বেশ কিছু ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যয় করা হয় এটি একটি ওপেন সিক্রেট। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায় ধর্মীয় উগ্রতার চর্চাকারী একটি বিশেষ দলের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো উগ্রবাদীদের চাকরিতে নিয়োগ করার পাশাপাশি নানাভাবে তাদের অর্থায়নে ভূমিকা রাখছে। ওয়াহাবিতন্ত্রে বিশ্বাসীরা মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিভিন্ন দেশে নানা কৌশলে অর্থ পাঠাচ্ছে জঙ্গিবাদ লালনের জন্য। বাংলাদেশ ব্যাংক জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও এখনো পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সাফল্য যে অর্জন করা যায়নি তা একটি বাস্তবতা। এ ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে যেমন সক্রিয় হতে হবে তেমন জনসচেতনতাও গড়ে তুলতে হবে। এ ব্যাপারে দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলো যাতে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারে সে ব্যাপারে পরিবেশ সৃষ্টিতেও নজর দিতে হবে। দুর্নীতিবাজরা নিজেদের ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখার জন্য সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টিতে মদদ জোগায়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জঙ্গিবাদ উত্থানের পেছনে একাত্তরের পরাজিত শক্তির জিঘাংসা জড়িত বলে মনে করা হয়। বাংলাদেশের সব অর্জনকে ধ্বংস করার জন্য একাত্তরের পরাজিত শক্তির পক্ষ থেকে মদদ জোগানোর বিষয়টি একটি পরীক্ষিত সত্যি এবং এ ব্যাপারেও জাতিকে সতর্ক থাকতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow