Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩১ আগস্ট, ২০১৬ ২৩:১০
টিসিবির ট্রাক সেল
বাজার নিয়ন্ত্রণেরও পদক্ষেপ নিন

খোলাবাজারে যখন চিনি, মসুরের ডাল ও ভোজ্যতেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী তখন বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবি রাজধানীসহ সারা দেশে খোলাবাজারে তিনটি ভোগ্যপণ্য বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজধানীর ৩০টি পয়েন্টসহ সারা দেশের বিভাগীয় ও জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ১৮০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে গতকাল থেকে পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এ কার্যক্রম। ট্রাক সেলে প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকা, সয়াবিন ৮০ টাকা এবং মসুর ডাল প্রতি কেজি ৮৯ টাকা ৯৫ পয়সা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ৫ লিটার সয়াবিন, দুই কেজি চিনি ও দুই কেজি মসুর ডাল কিনতে পারবেন। ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খোলাবাজারে চিনি, তেল ও মসুরের ডাল বিক্রির সিদ্ধান্ত দৃশ্যত প্রশংসনীয় হলেও তা বাজার নিয়ন্ত্রণে কতটা ভূমিকা রাখবে তা স্পষ্ট নয়। রাস্তায় লাইন দিয়ে পণ্য কেনার মানসিকতা পোষণ করেন এমন মধ্যবিত্ত স্তরের ক্রেতা সত্যিকার অর্থেই কম। তাছাড়া চিনি, তেল ও ডাল কেনার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিয়ে সময়ের যে অপচয় হয় তাতে প্রকৃত লাভের চেয়ে লোকসান হওয়ারই আশঙ্কা থাকে। বাজারে দেশে পরিশোধিত বিদেশি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে। চিনির দাম মাত্র তিন মাস আগে ছিল কেজি প্রতি ৪০-৪২ টাকা। সরকারি চিনিকলগুলোকে টিকিয়ে রাখতে আমদানিকৃত চিনির ওপর শুল্ক বৃদ্ধির পরিণতিতে সেই যে দাম বেড়ে যায় আর কমার নাম নেই। প্রশ্ন হলো লাগাতার লোকসান দেওয়া সত্ত্বেও সরকারি খাতের চিনিকলগুলোকে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে কেন? দেশের মানুষ সরকারি চিনিকলগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনবে, অন্যদিকে একই অজুহাতে আমদানিকৃত চিনির ওপর শুল্কের বোঝা চাপিয়ে দেশবাসীর পকেট কাটা হবে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধিতে কোনো যৌক্তিক কারণ না থাকলেও ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এ পণ্যটির দাম বেড়েছে। ডালের বাজারে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে তারও যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। সাধারণ মানুষের ভোগান্তির অবসানে টিসিবির উদ্যোগে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রিই শুধু নয়, নিত্যপণ্যের বাজারে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে তার লাগাম টেনে ধরতেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

up-arrow