Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩১ আগস্ট, ২০১৬ ২৩:১১
শুদ্ধভাবে হজ পালনে যা যা করা দরকার
মাওলানা আবদুর রশিদ

হজ এমন এক ইবাদত যা পালনে ব্যাপক প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য ছাড়া এ ইবাদত করা কঠিন। যারা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার অধিকারী এবং হজ পালনের মতো আর্থিক সামর্থ্য রাখেন তাদের জন্য হজ ফরজ বা অবশ্য পালনীয় ইবাদত। হজের মাধ্যমে অতীতের সব পাপ বা গুনাহ থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ ঘটে। যে কারণে হজ পালনে সমস্ত নিয়মকানুন যথাযথভাবে মেনে চলা উচিত। হজ পালনে আর্থিক সামর্থ্যের প্রয়োজন হলেও এর অপরিহার্য মূলধন হলো তাকওয়া বা আল্লাহর ভয়। শুদ্ধভাবে হজ পালনে হজের ফরজ, ওয়াজিব এবং সুন্নতগুলো মেনে চলতে হবে।

হজের ফরজ তিনটি : ১. ইহরাম। ২. অকুফে আরাফা বা আরাফার ময়দানে অবস্থান। ৩. তাওয়াফে জিয়ারত। মাথা মুণ্ডন বা মাথার চুল ছাঁটার পরে কাবা শরিফ প্রদক্ষিণ করা।

হজের ওয়াজিব সাতটি : ১. সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানে সাতবার সাঈ করা এবং সাফা থেকে সাঈ আরম্ভ করা। ২. মুজদালিফায় অবস্থান করা। ৩. মিনায় জামরাসমূহের ওপর রমী অর্থাৎ পাথর নিক্ষেপ করা। ৪. হজে কেরান ও হজে তামাত্তু সমাপনকারীদের জন্য দমে শোকর আদায় করা। ৫. ইহরাম ভাঙার পর মাথার চুল ছাঁটা অথবা মুণ্ডানো। ৬. তাওয়াফে জিয়ারত আইয়্যামে নহরের মধ্যে সম্পাদন করা। ৭. মক্কার বাইরের লোকদের জন্য তাওয়াফে বিদা অর্থাৎ বিদায়কালীন তাওয়াফ করা।

হজের সুন্নত নয়টি : ১. ইফরাদ ও কেরান হাজীগণের জন্য তাওয়াফে কুদুম অর্থাৎ সর্বপ্রথম তাওয়াফ করা। ২. তাওয়াফে কুদুম ও তাওয়াফে জিয়ারতে রমল করা। ৩. ইমামের তিন জায়গায় খুতবা দেওয়া অর্থাৎ ৭ জিলহজ মক্কা শরিফে, ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে আর ১১ জিলহজ মিনায়। ৪. ৮ জিলহজ জোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং ৯ জিলহজ ফজরের নামাজ এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মিনায় আদায় করা এবং সেখানে রাতযাপন করা। ৫. জিলহজের ৯ তারিখ সূর্য উদয়ের পর মিনা থেকে আরাফাতের দিকে গমন করা। ৬. আরাফাতের গোসল করা। ৭. আরাফার ময়দান থেকে সূর্যাস্তের পর মুজদালিফায় রওয়ানা হওয়া। ৮. জিলহজের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ মিনায় রাতযাপন করা। ৯. মিনা থেকে মক্কা শরিফে ফেরার সময় মুহাস্সাব নামক স্থানে অতি অল্প সময়ের জন্য হলেও অবস্থান করা।

     লেখক : ইসলামী গবেষক

এই পাতার আরো খবর
up-arrow