Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩১ আগস্ট, ২০১৬ ২৩:১২
বিচিত্রিতা
বাওবাব গাছ
বাওবাব গাছ

বাওবাব গাছ মূলত পাওয়া যায় শুষ্ক ভূমিতে। বিশেষত আফ্রিকা এবং আরবের মরু অঞ্চলের বৃক্ষহীন তৃণভূমিতে এই গাছ দেখা যায়। আফ্রিকা, আরব এবং অস্ট্রেলিয়া এর আদি নিবাস। এ গাছের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- গাছটি একহারা গড়নের। মাটি থেকে বিশাল আকারের কাণ্ড লম্বা হয়ে সোজা উপরের দিকে উঠে গেছে। একেবারে মাথায় ঝোপঝাড়ের মতো কিছু ডালপালা ছড়ানো আছে। দেখে মনে হয় ছাতার মতো। তবে পাতাগুলো এমন যে দূর থেকে দেখে কেউ ভুল করে ভাবতে পারে গোড়া থেকে গাছটিকে উপড়ে নিয়ে মাথার দিকটা মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে এবং গাছের শিকড়-বাকড়গুলো উপরের দিকে ছড়ানো। তবে বছরের বারো মাসের মধ্যে নয় মাসই এ গাছে কোনো পাতা থাকে না। তখন একে অনেকটা মরা গাছের মতো দেখায়। এই গাছ উচ্চতায় প্রায় ৭৫ ফুট লম্বা হয়। মরু অঞ্চলের গাছ বলে খুব কম পানিতেই এর প্রয়োজন মিটে যায়। বর্ষাকালে এ গাছ তার দীর্ঘ কাণ্ডের মধ্যে পানি জমিয়ে রাখে। সবচেয়ে অবাক বিষয় হলো- এ গাছ কয়েক হাজার বছর বেঁচে থাকে। বাওবাব গাছ মরু অঞ্চলের মানুষের অনেক উপকারে আসে। এ গাছের প্রতিটি অংশই মানুষের সরাসরি কাজে আসে। গাছের বাকল দিয়ে পোশাক ও শক্ত দড়ি তৈরি হয়। এ গাছের ফল খাওয়া যায় এবং পাতা থেকে চাটনি তৈরি করা যায়। এছাড়া এ গাছের পাতা থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধও তৈরি হয়। গাছের কাণ্ড এত বিশাল যে, এর গুঁড়ির গর্তে মানুষ বসবাস করতে পারে। মরুঝড়ে মানুষ এ গাছের গুঁড়ির গর্তে আশ্রয় নিয়ে থাকে।

up-arrow