Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:০১
মসজিদে অবস্থান করার ফজিলত
মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমূদুল হাসান

কোনো ভালো বরকতময় স্থানে সংশ্রব নেওয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। স্থানের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হলো মসজিদ।

সুতরাং মসজিদের সংশ্রব তথা মসজিদে বেশি সময় অবস্থান করাটা কাম্য হওয়া উচিত। মসজিদে প্রবেশ করেই ইতিকাফের নিয়ত করবে, এরপর যতক্ষণ মসজিদে অবস্থান করবে প্রতি মুহূর্তেই তার আমলনামায় নেকি লেখা হবে, চাই সে কিছু না করুক। কেয়ামতের দিন সাত প্রকার ব্যক্তি আল্লাহতায়ালার আরশের নিচে ছায়া পাবে। সেদিন আরশের ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়াই থাকবে না। তার মধ্যে একজন হলো যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। অর্থাৎ বেশির ভাগ সময় অন্তর মসজিদে থাকে। যখন কাজকর্ম করে, তখনো মসজিদের দিকে টান থাকে যে, কখন আজান হবে আর নামাজ পড়তে যাবে। তাই তো দেখা যেত বুজুর্গগণ নিজেদের প্রয়োজনীয় কাজ সেরে বাকি সময় মসজিদে অবস্থান করতেন। তবে মসজিদের কিছু হক আছে, তাহলো ইতিকাফের নিয়তে থাকবে, দুনিয়াবি কথা বলা যাবে না আর যথাসম্ভব ইবাদত করবে। হজরত আবদুুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) মসজিদে থাকতেন। একদা স্বপ্নে দেখেন, কিছু লোক তাকে জাহান্নামের আগুনের কাছে নিয়ে যাচ্ছে। সাহাবিগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্ন শোনাতেন আর তিনি ব্যাখ্যা করে দিতেন। কিন্তু এ লজ্জাজনক স্বপ্ন তিনি কীভাবে নবীকে বলবেন? তাই লজ্জায় স্বীয় বোন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্নী হজরত হাফসা (রাজি.) কে স্বপ্নের কথা বললেন। রসুলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনে বললেন, আবদুল্লাহ অত্যন্ত ভালো মানুষ, যদি সে রাতে নামাজ পড়ত! কিন্তু তিনি তো নামাজ যথেষ্ট পড়তেন, তাহলে এই অনুযোগ্য বাক্য কেন? এর উদ্দেশ্য হলো, যেহেতু তিনি মসজিদে থাকেন আর মসজিদে থাকার হক হলো আরও অধিক নামাজ, ইবাদত করা। সুতরাং এর দ্বারা বোঝা যায় মসজিদ যেমন পবিত্র এবং বরকতের স্থান, তেমনি সেখানে অবস্থানকারীদের ওপর অতিরিক্ত কিছু দায়িত্ব এসে যায়।

মাদ্রাসার জায়গা সংকটের কারণে অনেক ছাত্র মসজিদে থাকে, আবার যারা মসজিদে তাবলিগের জন্য আসে, তাদের সবার উচিত মসজিদের হকের প্রতি লক্ষ রাখা। মসজিদ যাতে নোংরা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা এবং শেষ রাতে উঠে নামাজ পড়া, এটাও মসজিদের হক। মসজিদ এক দিক দিয়ে নেয়ামত, অপরদিক দিয়ে মুসিবত। মসজিদে থেকে যদি মসজিদের হকসমূহ সঠিকভাবে আদায় করে তাহলে এটা হবে নেয়ামত। পক্ষান্তরে মসজিদে থেকে যদি তার হক সঠিকভাবে আদায় না করতে পারে, তাহলে এটা হবে মুসিবত। কারণ আদব রক্ষা না করার দরুন আখেরাতে শাস্তি পেতে হবে, অথচ মসজিদে না থাকলে এটা হতো না। শুধু যে আখেরাতের শাস্তি হবে তাই নয়, বরং দুনিয়াতেও শাস্তি আছে। তা হলো মসজিদে অবস্থান করে যদি মসজিদের আদব সঠিকভাবে পালন করতে না পারে, তাহলে ইলমে দীন থেকে বঞ্চিত হবে। তাই মসজিদে অবস্থানকারীদের জন্য অনেক আদব আছে। তার মধ্যে একটা এই যে বেশি বেশি নামাজ পড়তে হবে, শুধু ফরজ আদায় করলেই চলবে না অন্যান্য নামাজও পড়তে হবে। আল্লাহতায়ালা আমাদের মসজিদের আদব রক্ষা করার তৌফিক দান করুন।   (আমিন)।

লেখক : খতিব, গুলশান সেন্ট্রাল জামে মসজিদ।

up-arrow