Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:০৪
চা উৎপাদনে সাফল্য
প্রান্তিক চা চাষি ও শ্রমিকদের কল্যাণ বয়ে আনুক

চা উৎপাদনে চলতি বছর অতীতের সব রেকর্ড ভাঙা সম্ভব হবে এমন সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। বাংলাদেশে চা চাষ শুরু হয়েছিল ১৬২ বছর আগে।

রপ্তানির লক্ষ্যকে সামনে রেখেই শুরু হয় চা চাষ। নিজেদের ব্যবসা বাড়াতে চা কোম্পানিগুলো এ দেশের মানুষও যাতে চা পানে আগ্রহী হয়ে ওঠে সে জন্য নানামুখী প্রণোদনামূলক পদক্ষেপ নেয়। ফলে চা পানের অভ্যাস গড়ে ওঠে এদেশের নাগরিকদের একাংশের মধ্যে। তারপরও উৎপাদিত চায়ের সিংহভাগই রপ্তানি হতো। কিন্তু এক দশক আগে দেশে চায়ের চাহিদা বৃদ্ধি অন্যদিকে উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় রপ্তানির বদলে চা আমদানিকারক দেশে পরিণত হয় বাংলাদেশ। তারপর থেকে চায়ের উৎপাদন বাড়াতে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তার ফলশ্রুতিতে কয়েক বছর ধরে বছরে ১৩ লাখ কেজি চা বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। গত বছর দেশে চা উৎপাদনের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়। উৎপাদিত হয় ৬৭.৩৮ মিলিয়ন কেজি চা। চলতি বছর দেশের ১৬২ বছরের চা উৎপাদনের সব রেকর্ড ভেঙে উৎপাদন ৭০ মিলিয়ন কেজি ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত বছর জুন পর্যন্ত দেশের ১৬২টি বাগানে চা উৎপাদন হয়েছিল ১৭.২২ মিলিয়ন কেজি। চলতি বছরের একই সময়ে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫.৩৮ মিলিয়ন কেজি। বছরের শেষ পর্যন্ত উৎপাদনের এ ধারা ঠিক থাকলে তা গত ১৬২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ চা উৎপাদনের রেকর্ড বলে বিবেচিত হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, কুয়েত, ওমান, সুদান, পাকিস্তান, ভারত, পোল্যান্ড, রাশিয়া, ইরান, আফগানিস্তান, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, বেলজিয়ামসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চা রপ্তানি হচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদেশে চা রপ্তানিও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের সিলেট বিভাগ ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাশাপাশি পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়েও অর্গানিক পদ্ধতিতে চায়ের চাষ হচ্ছে এবং এ চা বিদেশি ক্রেতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছে। চা উৎপাদন বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি সুখবর বলে বিবেচিত হচ্ছে।   এ সাফল্যকে ধরে রাখতে চা উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আরও বেশি উদ্যোগী হতে হবে। দেশের চায়ের যে সুনাম রয়েছে তা অক্ষুণ্ন রাখার দিকেও নজর দিতে হবে। চা উৎপাদন বৃদ্ধি প্রান্তিক চা চাষি ও চা শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নতি যাতে নিশ্চিত করতে পারে সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাই নজর দেবেন এমনটিও প্রত্যাশিত।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow