Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৫৬
প্রশ্ন ফাঁস ও ফল জালিয়াত চক্র
কর্তৃপক্ষের কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙুক

পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ফল জালিয়াতি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবনেই এমন এক অসততার মুখোমুখি হচ্ছেন যা তাদের মনোজগতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। পরীক্ষায় সাফল্যের জন্য পড়াশোনায় অধ্যবসায়ী হওয়ার বদলে তাদের একাংশ ছুটছে প্রশ্ন ফাঁস ও ফল জালিয়াতদের পেছনে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জালিয়াত চক্রের সদস্যরা ফল পরিবর্তনের কথা বলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। অতি সম্প্রতি এইচএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা শিক্ষার্থীদের টার্গেট করেও সংঘবদ্ধ চক্র মাঠে নেমেছে। জিপিএ-৫ সহ ভালো ফলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। আসন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে দেওয়ার কথা বলে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একাধিক চক্র। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অ্যানি বোর্ড কোয়েশ্চন’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে বৃহস্পতিবার একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। যাতে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে ‘দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পরিচয় গোপন করে সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরে ফোন করলে বলা হয়, যারা ফেল করেছে তাদের দুই বিষয়ে এ গ্রেড করে দেওয়ার জন্য লাগবে মোট ৬ হাজার টাকা। এ ছাড়া যারা পাস করেছে কিন্তু ফল ভালো নয় তাদের ক্ষেত্রে দুই বিষয়ের জন্য দিতে হবে মোট ৮ হাজার টাকা। প্রতারকদের ভাষ্য, রেজাল্ট পরিবর্তনের আগে সব টাকা দেওয়া লাগবে না। সাবজেক্টপ্রতি মাত্র ১০০ টাকা বিকাশ করলেই চলবে। জালিয়াত চক্রের দাবি তারা কয়েক বছর ধরে জেএসসি থেকে এইচএসসি পর্যন্ত টাকার বিনিময়ে ফল পরিবর্তনের কাজ সফলভাবে করে আসছে। মেডিকেলের প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিশ্রুতিতেও একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে পরিচয় গোপন করে পরীক্ষার্থী হিসেবে আরেকটি মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে মেডিকেলে সুযোগ পাওয়ার জন্য ৪ লাখ টাকা দাবি করা হয়। নিবন্ধনহীন মোবাইল সিমকার্ড বাতিল করার পর দেশে যেসব সিমকার্ড ব্যবহার হচ্ছে, সেগুলোর ব্যবহারকারীকে আইনের আওতায় আনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য কঠিন কিছু নয়।   তারপরও মোবাইল ফোন ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ফল জালিয়াত চক্রের সদস্যরা কীভাবে তাদের অবৈধ কার্যক্রম চালায় তা একটি বিস্ময়কর বিষয়।   জনস্বার্থে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙবে এমনটিই প্রত্যাশিত।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow