Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৫৮
আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বকে তুলে ধরে হজ ও উমরাহ
মাওলানা মুহম্মাদ আশরাফ আলী

হজ ও উমরাহর উদ্দেশ্য প্রায় অভিন্ন। কাবাঘর তাওয়াফ করার উদ্দেশ্যেই উভয় ইবাদত করা হয়।

হজ ও উমরাহর মধ্যে গুণগত মিল থাকায় অনেকে উমরাহকে ছোট হজ বলেও অভিহিত করেন। যে নামেই অভিহিত করা হোক হজ ও উমরাহর সুস্পষ্ট পার্থক্যও রয়েছে। ৯ জিলহজ অকুফে আরাফার বা আরাফায় অবস্থানের আগে হজের ইহরাম বেঁধে বেশ কিছু আমল পালন করার নামই হলো হজ। আর্থিক সামর্থ্যের অধিকারীদের জন্য হজ ফরজ। পক্ষান্তরে ইহরাম বাঁধা অবস্থায় কাবা শরিফ তাওয়াফ এবং সাফা মারওয়ায় সাই করার পর হলক বা মাথা মুণ্ডন করে ইহরামমুক্ত হওয়াকে উমরাহ বলে। হজ ও উমরাহের মধ্যে ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে। হজের ইহরামের পর যেসব বিষয় হারাম, মাকরূহ, সুন্নত এবং মুবাহ উমরাহর ক্ষেত্রেও তা পালনীয়। হজ ও উমরাহর মধ্যে আটটি পার্থক্য রয়েছে :

১. হজের জন্য একটি বিশেষ সময় নির্ধারিত রয়েছে, কিন্তু উমরাহ বছরের যে কোনো সময় আদায় করা যায়। কেবল হজের নির্দিষ্ট দিনসমূহে অর্থাৎ ৯ জিলহজ থেকে ১৩ জিলহজ পর্যন্ত উমরাহ পালন করা নিষেধ— মাকরূহে তাহরীমী। ২. হজ ফরজ, কিন্তু উমরাহ ফরজ নয়। ৩. হজ বিনষ্ট হতে পারে কিন্তু উমরাহ বিনষ্ট হতে পারে না। ৪. হজে আরাফা ও মুযদালিফায় অবস্থান, দুই নামাজের একত্রীকরণ, খুত্বা প্রভৃতি আছে, কিন্তু উমরাহতে নেই। ৫. হজের তাওয়াফে কুদুম এবং তাওয়াফে বিদা প্রভৃতি অপরিহার্য, কিন্তু উমরায় তা নেই। ৬. উমরা ফাসেদ করলে অথবা নিষিদ্ধ কাজ সংঘটিত করার অবস্থায় তাওয়াফ করলে বকরি জবাই করলেই যথেষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু হজে তা যথেষ্ট হয় না। ৭. উমরাহর মিকাত সব লোকের জন্যই হিল্ল এলাকা। কিন্তু হজে তার বিপরীত। মক্কাবাসীকে হরম থেকে হজের ইহরাম বাঁধতে হয়। বাইরের কোনো লোক যখন উমরাহ পালনের ইচ্ছায় আগমন করেন, তখন তারা নিজ নিজ মিকাত থেকেই ইহরাম বেঁধে আসেন। ৮. উমরাহর তাওয়াফ শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই তালবিয়া পাঠ মুলতবি করতে হয়, কিন্তু হজে জামরায়ে উখরায় রমী বা কঙ্কর নিক্ষেপ আরম্ভ করার সময় থেকে মুলতবি করতে হয়। হজ ও উমরাহ পালনের উদ্দেশ্য সর্বশক্তিমান আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা।   আল্লাহ এক এবং তার কোনো শরিক নেই এই সত্যকে বুকে ধারণ করে জীবন যাপনের শপথ নেওয়া।

লেখক : ইসলামী গবেষক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow