Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৫৮
মীর কাসেমের ফাঁসি
কলঙ্ক মুক্তির পথে বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের কসাই মীর কাসেমকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে জাতি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি তাদের দায়বোধের প্রকাশ ঘটাল। ধনকুবের এই সাবেক আলবদর নেতা শাস্তি ঠেকাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লবিস্ট নিয়োগ করে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় করেও রেহাই পেলেন না।

টাকায় সব হয় এই প্রবচনের কারণে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে নানা গুজব ও শঙ্কা। কিন্তু গত বুধবার সর্বোচ্চ আদালত মীর কাসেমের রিভিউ আবেদন খারিজ করে ফাঁসি বহাল রাখলে নিশ্চিত হয় আলবদর নেতার প্রাপ্য শাস্তি কিছুতেই এড়ানো যাবে না। সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ের চার দিনের মাথায় তাকে ঝুলানো হলো ফাঁসির দড়িতে। গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে শনিবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে কার্যকর হয় মৃত্যুদণ্ডাদেশ। একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামীদের মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে উঠেছিলেন যে আলবদর নেতা তাকে শেষ পর্যন্ত প্রাপ্য শাস্তি পেতেই হলো। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা চলাকালে প্রসিকিউশন আলবদর বাহিনীর এ ঘাতক নেতাকে বাঙালি খান অভিধায় অভিযুক্ত করে। ট্রাইব্যুনালে মীর কাসেম মৃত্যুদণ্ড এবং ৭২ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। এ রায়ের বিরুদ্ধে যে আপিল করা হয় তাতেও বহাল থাকে মৃত্যুদণ্ড। রিভিউ আবেদনেও তা এড়ানো যায়নি। স্মর্তব্য, মীর কাসেমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী ১৪টি অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে। এর মধ্যে ১০টিই সাক্ষ্য-প্রমাণে প্রমাণিত হয়। আদালতে সাক্ষীদের জবানবন্দিতে উঠে আসে চট্টগ্রামের মহামায়া হোটেলকে ডালিম হোটেলে রূপান্তরিত করে সেখানে টর্চার সেল বসিয়েছিল আলবদর বাহিনীর সদস্যরা। মীর কাসেমের নেতৃত্বে তারা যে নৃশংসতা দিখিয়েছে তার কোনো তুলনাই নেই। মুক্তিযুদ্ধের পর অপরাধের সাজা এড়াতে মীর কাসেম আত্মগোপন করলেও ১৯৭৫ সালের পর আবির্ভূত হন স্বমূর্তিতে। একাত্তরের ঘাতক সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ ইসলামী ছাত্রশিবির নামে আবির্ভূত হলে তিনি তার প্রথম সভাপতির দায়িত্ব পান। ১৯৮৫ সাল থেকে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের কাতারে অন্তর্ভুক্ত হন তিনি। দলের অলিখিত কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও ভাবা হতো তাকে। মীর কাসেমকে ৪৫ বছর আগের অপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝোলানোর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো হত্যাকাণ্ডের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সাড়ে চার দশক পরও তামাদি হয় না। প্রমাণিত হলো টাকা দিয়ে সব করা সম্ভব বলে যে প্রবচন আছে, তার সবটাই সত্যি নয়। মীর কাসেমের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যারা অবদান রেখেছেন তাদের সবাইকে আমাদের অভিনন্দন।

up-arrow