Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৫৯
পাকিস্তানের অশোভন প্রতিক্রিয়া
কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী

বাংলাদেশের কোনো যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় কার্যকর হওয়ার পর তার নিন্দা জানানো পাকিস্তানের মজ্জাগত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে মিরপুরের কসাই কাদের মোল্লার ফাঁসি থেকে শুরু করে একাত্তরের ঘাতক আলবদর বাহিনীর প্রধান মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর হওয়ার পর তারা মুখ খুলেছে অশোভনভাবে। চট্টগ্রামের কসাই ও বাঙালি খান হিসেবে অভিহিত মীর কাসেমের বিচারের রায় কার্যকরের পরও সে অশোভন আচরণের ব্যত্যয় ঘটেনি। তুরস্কের ‘নব্য অটোমান সুলতান’ প্রেসিডেন্ট এরদোগান সরকারও পাকিস্তানের মতো অভিন্ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে যেভাবে পাকিস্তানিদের সুগ্রিব দোসরের ভূমিকা পালন করেছে তা শুধু নিন্দনীয়ই নয়, কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রকাশ্য আদালতে। অভিযুক্তরা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেয়েছেন পূর্ণাঙ্গভাবে। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী কী নৃশংসতার পরিচয় দিয়েছে তা সে সময়কার বিশ্বগণমাধ্যমের পাতা খুললেই অনুধাবন করা যাবে। এ গণহত্যায় যারা নৃশংসতার পরকাষ্ঠা রেখেছে আলবদর বাহিনীর চট্টগ্রাম শাখার প্রধান মীর কাসেম তাদেরই অন্যতম। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিচার পদ্ধতিতে মীর কাসেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দণ্ড দেওয়া ও তা কার্যকর করা হয়েছে। পাকিস্তান যেভাবে বাংলাদেশের বিচার পদ্ধতিকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেছে তা কূটনৈতিক শালীনতাবিবর্জিতই শুধু নয়, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপের শামিল। বাংলাদেশে তারা যে গণহত্যা চালিয়েছে তা জাতি হিসেবে পাকিস্তানিরা কতটা কলঙ্কিত সে পরিচয়ই বহন করে। কাদের মোল্লা থেকে মীর কাসেম পর্যন্ত শাস্তিপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীরা আমৃত্যু মনেপ্রাণে পাকিস্তানি ছিলেন এবং তাদের জন্য জাতভাইদের দরদ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু তাদের বোঝা উচিত পাকিস্তানি হিসেবে নয়, গণহত্যায় ভূমিকা রাখার জন্যই যুদ্ধাপরাধী হিসেবে তাদের বিচার হয়েছে এবং স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ায় রায় কার্যকর হয়েছে। আমরা আশা করব বাংলাদেশের বিচার প্রক্রিয়া বা অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে অপচর্চা থেকে পাকিস্তান বিরত থাকবে। অন্যের ব্যাপারে নাক না গলিয়ে পাকিস্তানের উচিত হবে নিজেদের দেশে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় যত্নবান হওয়া। তুরস্কও একই ধরনের শুভবুদ্ধির পরিচয় দিলে তা অনেক বেশি

শোভনীয় বলে বিবেচিত হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow