Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৪
কারাগারের অমানবিক অবস্থা
দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

দেশের কারাগারগুলো অব্যবস্থা ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। কারাবন্দীদের যে খাবার দেওয়া হয় তার কোনো মান নেই।

কারাবিধি অনুযায়ী একজন বন্দীর প্রতি বেলায় মাছের পরিমাণ থাকার কথা ৩৬ গ্রাম। তবে সরবরাহকৃত খাদ্যে জোটে মাত্র ১২ থেকে ১৪ গ্রাম। ডাল ১৪৫ গ্রাম দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে ১০ থেকে ১২ গ্রাম। মাছের দেখা খুব কমই মেলে। কারা-ক্যান্টিনে সবকিছুর দামই বাইরের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ বেশি। কারাগারে বন্দীদের সঙ্গে দেখা করার জন্য দর্শনার্থীদের ফ্রি স্লিপের ব্যবস্থা থাকলেও তা শুধু কাগজে-কলমে। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বরত কারারক্ষীদের অতিরিক্ত টাকা না দিলে অনেক ক্ষেত্রে বন্দী স্বজনের সঙ্গে দেখাও মেলে না। হতাশ হয়ে ফিরেও আসতে হয় ভুক্তভোগী দর্শনার্থীদের। ভিআইপি বন্দীকক্ষে দেখা করতে চাইলে দর্শনার্থীদের গুনতে হয় ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকা। রাজধানীর তুলনায় বেশি অমানবিক চিত্র বিদ্যমান সারা দেশের  কারাগারগুলোতে। গত ২৩ আগস্ট কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন শেষে কারাগারে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এমন মন্তব্য করেছিলেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। দেশের কারাগারগুলোর বন্দী ধারণক্ষমতা ৩৪ হাজার। তবে এসব কারাগারে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত আটক বন্দীর সংখ্যা ছিল সাড়ে ৭৭ হাজার। এক সপ্তাহ আগে বন্দীর সংখ্যা ছিল ৭৯ হাজার। অতিরিক্ত বন্দীর পানীয়জল, থাকা, খাওয়া ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। ফলে কারাগারে দেখা দিয়েছে মানবিক বিপর্যয়। বন্দীরা পড়েছে চরম দুর্ভোগে। কারাগারের দুর্নীতিবাজ সদস্যদের জাঁতাকলে পড়ে ওষ্ঠাগত হয়ে ওঠে বন্দীদের জীবন। একদণ্ড শান্তির আশায় বন্দীরা দুর্নীতিবাজ সদস্যদের চাহিদা পূরণে বাধ্য হন। যারা অক্ষম হন তাদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। কারাবন্দীরাও দেশের নাগরিক। সরকার কারাবন্দীদের পিছনে যে অর্থ ব্যয় করে তা তাদের থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার জন্য প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। কিন্তু এ অর্থের সিংহভাগই লুটপাটের শিকার হয়। কারাগারের খাদ্যের মানহীন অবস্থা জানান দেয় কারাবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে নির্মমভাবে।   কারাগারগুলোর দুরবস্থার জন্য ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দী রাখার বিষয়টি যেমন দায়ী তেমন দায়ী দুর্নীতি। কারা পরিস্থিতিকে মানবিক করতে হলে এই দুই ক্ষেত্রেই নজর দিতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow