Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪৩
বায়তুল মোকাররমের খুতবা
কোরবানির তাৎপর্য ও গুরুত্ব
মুফতি মিজানুর রহমান,সিনিয়র পেশ ইমাম

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ। সব প্রশংসা ওই আল্লাহর জন্য যিনি মানবজাতিকে অসংখ্য নিয়ামত দান করে তা ভোগ করার নিয়মনীতি শিক্ষা দিয়েছেন। দরুদ ও সালাম ওই মহান রসুলের (সা.) প্রতি যিনি কোরবানির যাবতীয় আহকাম শিখিয়েছেন। যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ দানকারী ও ভীতি প্রদর্শনকারী বান্দা ও রসুল। হে আল্লাহ দরুদ, সালাম ও বরকত নাজিল করুন তার ওপর ও তার পরিবারবর্গ ও সাহাবাগণের ওপর।

হে মুসলিম সমাজ! আল্লাহতায়ালা আমাদের জন্য বহু পশু অনুগত করে দিয়েছেন যেগুলো আমাদের কথা মানে এবং আমাদের গৃহেই প্রতিপালিত হয়। আমরা উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা প্রভৃতি দ্বারা নিজেদের প্রয়োজন মিটাই। আমরা এগুলোর গোশত খাই, দুধ পান করি, এগুলোর চামড়া, হাড়, শিং, চর্বি এবং পশম দ্বারা হাজারো প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করে থাকি। এসব পশু ব্যবহার করার অধিকার আল্লাহ আমাদের দান করেছেন। কিন্তু কোনো পশুকেই মানুষকে ব্যবহার করার অধিকার দেওয়া হয়নি। কেননা মানুষের প্রয়োজন মিটানোর জন্য পশু সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু কোনো মানুষকে পশুর প্রয়োজন মিটানোর জন্য সৃষ্টি করা হয়নি। যে আল্লাহতায়ালা মানুষকে এত বড় সম্মান ও ইজ্জত দান করলেন সেই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা কি মানুষের কর্তব্য নয়? আল্লাহতায়ালা বলেন— ‘তারা কি দেখে না আমি তাদের জন্য আমার নিজ হাতের তৈরি জিনিস দ্বারা চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছি আর এগুলোর মালিক তারাই, আমি এগুলোকে তাদের বাধ্য করে দিয়েছি ফলে এগুলোর কিছু তাদের বাহন, আর কিছু তারা ভক্ষণ করে। তাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে অনেক উপকারিতা ও পানীয় রয়েছে। তবুও কেন তারা শুকরিয়া আদায় করে না?’ সূরা ইয়াসিন ৭২-৭৩।

পশু কোরবানিকে আল্লাহতায়ালা শুকরিয়া আদায়ের একটি নিয়ম বানিয়ে দিয়েছেন। কোরবানির গোশতের তিন ভাগের একভাগ ফকির মিসকিনদের আরেক ভাগ আত্মীয়স্বজনকে বিলিয়ে দেওয়ার পর বাকি সবটুকু গোশত ভোগের অধিকার কোরবানিকারীর রয়েছে। তাহলে শুকরিয়ার গুরুত্বটা কী? মূলত এখানে আল্লাহর নামে জবেহ করাই হলো আসল জিনিস। আল্লাহতায়ালা বলেন— ‘আর উটকে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর নিদর্শন বানিয়ে দিয়েছি। এতে তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে। জবেহ করার জন্য আল্লাহর নাম স্মরণ কর। অতঃপর যখন তারা কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তা থেকে তোমরা আহার কর আর খাওয়াও যে চায় না তাকে আর যে চায় তাকেও। এমনিভাবে আমি এগুলোকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছি যাতে তোমরা শুকর গুজার হও।’ সূরা হজ-৩৬।

যখন কোরবানির পশু আল্লাহর ওয়াস্তে তারই সন্তুষ্টির জন্য এবং তারই হুকুম পালনের উদ্দেশে পেশ করা হয় তখন এর দ্বারা আল্লাহর শুকরিয়ার জজবা পয়দা হয়। আল্লাহর কাছে এই খাটি মন ও জজবাই পৌঁছে কেননা আল্লাহতায়ালা বান্দাদের কাছে কোরবানির গোশত চান না। যেমন আল্লাহতায়ালা বলেছেন— ‘কোরবানির (জবেহকৃত পশুর) গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, তার কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। এভাবে আল্লাহ এদের তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর বড়ত্ব প্রকাশ কর। এ জন্য যে তিনি তোমাদের পথপ্রদর্শন করেছেন। সুতরাং নেক্কারদের সুখবর শুনিয়ে দিন।’ সূরা হজ-৩৭।

মূলত প্রত্যেক ইবাদতের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহপাকের নৈকট্য অর্জন। আর নৈকট্য লাভের উপায়ই হলো বান্দার ইচ্ছাকে আল্লাহর ইচ্ছার কাছে কোরবানি করা। কোরবানির উদ্দেশ্য হলো পশু প্রবৃত্তির অনুসরণ না করে আল্লাহর অনুগত হওয়া। এভাবে মানুষ আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী জীবনের সব কাজ আনজাম দিক এটাই ইমানের দাবি। আল্লাহপাক আমাদের সঠিকভাবে কোরবানি করা এবং নিজেদের মধ্যে ত্যাগের শিক্ষাকে ধারণ করে মানুষের কল্যাণে, সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow