Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০১:১৩
ঈদ যাত্রায় ভোগান্তি
যানজটে নাকাল লাখ লাখ যাত্রী

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। এবারও বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভয়াবহ যানজট।

যানজটের কারণে বিভিন্ন রুটের বাস নির্ধারিত সময়ে ছাড়া সম্ভব হচ্ছে না। কোনো যানবাহনই সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছতে পারছে না। ট্রেনের ক্ষেত্রে ভিন্ন কারণে শিডিউলে হেরফের ঘটছে। মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে প্রতিটি ট্রেন। প্রতিটি স্টেশনে বিপুলসংখ্যক যাত্রী ওঠানামা করায় যাত্রা বিলম্বিত হচ্ছে। রেললাইনের পাশে কোথাও কোথাও গরুর হাট বসায় ট্রেন চলাচল করছে সতর্কভাবে। ফলে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাচ্ছে ট্রেনের শিডিউল। নদীপথের যাত্রীদের প্রতিটি ঈদের মতো এবারও জীবন হাতে নিয়ে লঞ্চে উঠতে হচ্ছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় কর্তৃপক্ষীয় সতর্কতা সত্ত্বেও প্রতিটি লঞ্চ ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। সড়কপথে এমন কোনো রুট নেই যে পথে যানজট নেই। প্রতিটি মহাসড়কে এখন বিরাজ করছে বিরক্তিকর যানজট। টাঙ্গাইল রুটে গত বৃহস্পতিবার এলেঙ্গা থেকে মির্জাপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরেই চলছে দীর্ঘ যানজট। ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ঈদ উপলক্ষে যানবাহন চলাচল কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং ফিটনেসহীন গাড়ি মাঝ রাস্তায় অচল হয়ে পড়ায় যানজট যাত্রীদের নাকাল করে তোলে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দীর্ঘ এলাকাজুড়ে ছিল যানজট। কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার যানজটে যাত্রীদের নাকাল হতে হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘরমুখো যাত্রীদের ভিন্ন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে। মাওয়া এবং মানিকগঞ্জের ফেরিঘাটে যানবাহনের জট বাড়ায় যাত্রীদের ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। দৌলতদিয়ার চারটি ফেরিঘাটের তিনটিই নদীভাঙনে অস্তিত্ব হারিয়েছে। একটি ফেরিঘাট চালু থাকলেও তার অবস্থা অথৈবচ। স্বজনদের সঙ্গে ধর্মীয় উত্সব পালন করা বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ। এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে দুই ঈদে এবং শারদীয় দুর্গোত্সবে বাংলাদেশের দুই বৃহত্তম ধর্মীয় সম্প্রদায় মুসলমান ও হিন্দুদের মধ্যে সাড়া পড়ে যায়। যানবাহনের ওপর হঠাত্ করে বৃদ্ধি পায় চাপ। ফলে অনেক সময় দ্বিগুণ বা তার চেয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে ঘরে ফিরতে হয়। যাত্রাপথে যানজটের অভিশাপ উত্সবের আনন্দকে কিছুটা হলেও ম্লান করে দেয়। এ অবস্থার অবসানে ঈদ উপলক্ষে পর্যাপ্ত যানবাহনের ব্যবস্থা যেমন করা দরকার, তেমনি যানজট থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার পথও খুঁজে বের করতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow