Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:২৩
কোরবানির ফজিলত
মাওলানা মুহম্মাদ সাহেব আলী

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুল (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহতায়ালার কাছে কোরবানির দিনগুলোতে কোরবানি করার চেয়ে অধিক প্রিয় কোনো আমল নেই।

কোরবানির পশু কিয়ামতের দিন তার শিং, পশম, খুরসহ আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে। আর কোরবানির পশু জবাইয়ের পর রক্ত মাটিতে গড়ানোর আগেই আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়। অতএব, তোমরা এতে আনন্দিত হও। (তিরমিযি)

কোরবানির প্রচলন ছিল হজরত আদম (আ.)-এর সময়কালেও। মুসলমানরা ঈদুল আজহায় যে কোরবানি দেয়, এর সঙ্গে জড়িত হজরত ইবরাহিম (আ.) ও তদীয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-এর স্মৃতি। পবিত্র কোরআনের ‘সূরা ছফ্ফা’য় হজরত ইবরাহিম (আ.) কর্তৃক পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি দেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ করা হয়েছে— ‘অতঃপর সে (ইসমাইল) যখন পিতার সঙ্গে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হলো, তখন ইবরাহিম তাকে বলল : পুত্র! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে জবেহ করছি; এখন তোমার অভিমত কি? সে বলল : পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তা-ই করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। যখন পিতা-পুত্র উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইবরাহিম তাকে জবেহ করার জন্য শায়িত করল, তখন আমি তাকে ডেকে বললাম : হে ইবরাহিম, তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে। আমি এভাবেই সৎকর্মীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই এটা এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তার পরিবর্তে দিলাম জবেহ করার জন্য এক মহান জন্তু। ’ জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ এই তিন দিন কোরবানি দেওয়া যায়। এ সময় নিসাব পরিমাণ মালের মালিক যিনি হবেন তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। বকরি ও দুম্বা হলে একজনে একটি কোরবানি দিতে হবে। আর গরু, মহিষ, উট হলে ৭ জন একসঙ্গে কোরবানি দিতে পারবে।   হাদিসে স্পষ্ট করা হয়েছে, বিশ্বাসীদের আদি পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত হিসেবে কোরবানি মুসলমানদের জন্য পালনীয়। যাদের আর্থিক সামর্থ্য আছে, তাদের জন্য কোরবানির তাগিদ দেওয়া হয়েছে। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হে লোকসকল! (জেনে রাখ) তোমাদের প্রত্যেক (সামর্থ্যবান) পরিবারের পক্ষে প্রত্যেক বছরই কোরবানি করা আবশ্যক। ’ (আবু দাউদ, নাসায়ী)

রসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় সাহাবি হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কোরবানি করল না সে ঈদগাহের কাছেও যেন না আসে’। (ইবনে মাজাহ)

উপরোক্ত হাদিসে প্রমাণিত হয় সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি কোরবানি না করেন তবে তিনি রসুলুল্লাহ (সা.)-কে অসন্তুষ্ট করার ভুল করবেন। যা আমাদের জন্য কাম্য হওয়া উচিত নয়। কারণ হাসরের দিন রসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুপারিশ ছাড়া কারও পক্ষে আল্লাহর কৃপা লাভ সম্ভব হবে না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহিভাবে কোরবানি করার তওফিক দান করুন।   আমিন।

     লেখক : ইসলামী গবেষক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow