Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪১
ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা
চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ কাম্য

সড়ক দুর্ঘটনায় গত ৬ দিনে সারা দেশে ৬৫ জনেরও বেশি মারা গেছেন। ঈদ উৎসবে শোকের আবহ সৃষ্টি করেছে দুর্ঘটনাজনিত এসব মৃত্যু।

সড়ক দুর্ঘটনা অনেক সময় এড়ানো সম্ভব হয় না এটি একটি সত্যি। পাশাপাশি কোনো কোনো দুর্ঘটনাকে নিছক হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করা যেতে পারে। ঈদের পর দিন রাজধানীতে মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক দম্পতি। শুধু রাজধানী নয় সারা দেশের জনমনে এ মৃত্যুর ঘটনা শোকের পাশাপাশি ঘাতকদের প্রতি ক্ষোভেরও সৃষ্টি করেছে। শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের ফুটপাথে সিএনজি অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলেন এক বয়স্ক দম্পতি। এ সময় একটি বেপরোয়া প্রাইভেট কার রাস্তা ছেড়ে ফুটপাথে উঠে তাদের ধাক্কা দেয়। প্রাণ হারান তারা দুর্ঘটনা নামের এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, প্রাইভেট কারের চালক ও যাত্রী যুবকরা সবাই ছিল মদ্যপ অবস্থায়। গাড়ি থেকে তারা পালিয়ে যেতেও সমর্থ হয়। ঘাতক গাড়িতে মিলেছে মদের বোতলও। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিটি ঈদে একের পর এক দুর্ঘটনা যেন নিয়তির লিখন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চালকদের বেসামাল আচরণের কারণে ঘটছে বেশির ভাগ দুর্ঘটনা। উৎসবরত মানুষকে হঠাৎ করেই গ্রাস করছে প্রিয়জন হারানোর শোক। ঈদুল ফেতরের সময় এ বছর সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ১৮৬ জন। আহতের সংখ্যা ছিল দুই হাজারের বেশি। যাদের অনেককেই সারা জীবন পঙ্গুত্বের অভিশাপ ভোগ করতে হবে। স্বজনদের জীবনে এসব হতাহতের ঘটনা বয়ে আনছে সীমাহীন দুর্ভোগ ও ভোগান্তি। দেশে প্রতিবছর যে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে তার বেশির ভাগই ঘটছে চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও অসতর্কতার কারণে। প্রশিক্ষণ ছাড়াই এ দেশে গাড়ি চালানোর লাইসেন্স মেলে উেকাচের বদৌলতে। লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ি চালানোর ঘটনা ঘটছে অহরহ। সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে এসব দিকে সরকারকে নজর দিতে হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। দেশের মানুষের জীবন রক্ষায় এটি সরকারের দায়িত্ব বলে বিবেচিত হওয়া উচিত।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow