Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৫৫
ইতিহাস
মুদ্রানীতি

ফিরোজ শাহ মুদ্রানীতির সংস্কার সাধন করেন। তিনি রৌপ্য ও তাম্র মিশ্রিত মুদ্রার প্রচলন করেন।

ফিরোজ শাহই ভারতে প্রথম সিকি, আধুলি প্রভৃতি খণ্ড মুদ্রার প্রচলন করেছিলেন। মুহম্মদ তুঘলকের আমলে যেসব মুদ্রা অসমর্থিত হয়, ফিরোজের সময়ে সে মুদ্রার সম্বন্ধে কোনো আপত্তি ওঠেনি।

অত্যন্ত সুদৃঢ় নীতির ওপর ভিত্তি করে সাম্রাজ্যে বিচারকার্য পরিচালিত হতো। শরিয়তের বিধানানুযায়ী মুফতি ও কাজীগণ বিচার করতেন। মুফতি আইন ব্যাখ্যা করতেন এবং কাজী বিচারের রায় দিতেন। সুলতান আইনবিধি রদবদল করে অমানুষিক উত্পীড়ন ও নৃশংসতার বিলোপ সাধন করেন।

প্রজাসাধারণের মঙ্গলার্থে ফিরোজ শাহ কয়েকটি নতুন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। এদের ‘পিতামহীসুলভ ব্যবস্থা’ বলা হয়। এদের একটির নাম ‘বিবাহ দফতর’ এবং অপরটির নাম ছিল ‘চাকরি দফতর’। যৌতুকের অভাবে যাতে বিবাহযোগ্য কোনো মুসলিম বালিকার বিয়েতে অসুবিধা না ঘটে, তিনি তার ব্যবস্থা করেছিলেন। বিধবা ও অনাথদেরও আর্থিক সাহায্য দেওয়া হতো। যারা কেরানি ও শাসনবিভাগীয় চাকরি পেতে ইচ্ছা করত কেবল তাদের জন্যই ‘চাকরি দফতর’ খোলা রাখা হয়। বেকার ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব ছিল দিল্লির কোতোয়ালের ওপর। সুলতান নিজে তাদের অবস্থা ও গুণাবলি পরীক্ষা করতেন এবং উপযুক্ত চাকরিতে বহাল করতেন। দরিদ্র ও দুস্থ প্রজাদের সাহায্যের জন্য তিনি একটি দান বিভাগ স্থাপন করেন। তিনি দিল্লিতে একটি বিরাট হাসপাতাল নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে সুদক্ষ চিকিৎসকগণ রোগীদের চিকিৎসা করতেন এবং গরিব রোগীদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় খরচে ওষুধ বিতরণ ও খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ করা হতো।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow