Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৫
ট্রুডোকে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা
প্রমাণিত হলো বাঙালিরা কৃতজ্ঞ জাতি

মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে অ্যালিওট ট্রুডোকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে বাঙালি জাতির কৃতজ্ঞতা বোধের প্রকাশ ঘটেছে। মুক্তিযুদ্ধের সাড়ে চার দশক পরে হলেও এ সম্মাননা প্রদানের ঘটনা কানাডার সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। মুক্তিযুদ্ধে যেসব বিশ্ব নেতা বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেছেন ট্রুডো তাদেরই অন্যতম। বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানের ক্ষেত্রে কানাডা ছিল প্রথম কাতারের দেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কানাডা সফরকালে রাজধানী অটোয়ায় সে দেশের প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন। স্মর্তব্য, জাস্টিন ট্রুডো কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডোর পুত্র। বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিয়েরে ট্রুডোর পুত্রের হাতে সম্মাননা তুলে দিয়ে বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পিয়েরে ট্রুডো বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মুক্তবুদ্ধি ও মুক্ত বিবেকের অধিকারী সারা বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন। পাকিস্তানি হানাদারদের পক্ষে এক পরাশক্তি এবং অন্য এক দাপুটে দেশের সমর্থন থাকায় তা মোকাবিলায় এ সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড এবং একাত্তরের পরাজিত শত্রুদের অভ্যুদয়ের কারণে মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি বন্ধুদের প্রতি সম্মাননা প্রদান ও জাতির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা সময়মতো সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ চার দশক পরে হলেও বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি বন্ধুদের অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বীকার করার মাধ্যমে প্রকারান্তরে নিজেদের সম্মানিত করেছে। বিশেষ করে পিয়েরে ট্রুডোর প্রতি সম্মাননা কমনওয়েলথভুক্ত দুটি দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। বাঙালিরা কৃতজ্ঞ জাতি এমন ভাবমূর্তি গড়তেও সম্মাননা প্রদানের ঘটনা অবদান রাখবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্বরূপে আবির্ভূত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। জাতির কয়েক হাজার বছরের ইতিহাসের এটি যেমন সেরা ঘটনা তেমনি সেরা অর্জন। এ অর্জনের ক্ষেত্রে যারা অবদান রেখেছেন সেই মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি জাতির কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। জাতীয় জীবনের সেই কঠিন দিনগুলোতে যেসব বিদেশি বন্ধু সহমর্মিতার প্রকাশ ঘটিয়েছেন তাদের প্রতিও আমাদের কৃতজ্ঞতা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow