Bangladesh Pratidin

ফোকাস

  • নিকোলাস মাদুরো ফের ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন
  • চাটাইয়ে মুড়িয়ে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান!
  • কেরানীগঞ্জে বাচ্চু হত্যায় ৩ জনের ফাঁসি, ৭ জনের যাবজ্জীবন
  • ৩ মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে খালেদার আবেদন
  • হালদা নদীর পাড়ের অবৈধ স্থাপনা ভাঙার নির্দেশ
  • আফগানিস্তানের বিপক্ষে টাইগারদের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা
  • কাদেরের বক্তব্যে একতরফা নির্বাচনের ইঙ্গিত: রিজভী
  • কলারোয়া সীমান্তে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ বাংলাদেশিকে ফেরত দিল বিএসএফ
প্রকাশ : সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৬
নবাব সিরাজউদ্দৌলার জন্মদিন আজ
নওয়াবজাদা আলি আব্বাসউদ্দৌলা
নবাব সিরাজউদ্দৌলার জন্মদিন আজ

১৭২৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিরাজউদ্দৌলা নামক ফুটফুটে সুন্দর এক ফুল ফুটল বাংলার বাগিচায়। এভাবেই জায়েন উদ্দিন ও আমিনা বেগমের ঘর আলো করে পৃথিবীতে আসেন সিরাজউদ্দৌলা। সিরাজের শিক্ষাজীবন কেটেছে নানা নওয়াব আলিবর্দী খানের কাছে। নবাব আলিবর্দী খান শাসনকাজ পরিচালনা ও একজন যুবরাজের জন্য দরকারি সব গুণাবলিতে তাঁকে পারদর্শী করে তোলার চেষ্টায় কোনো ত্রুটি রাখেননি। তাইতো আলিবর্দী খান ঘোষণা দিয়েছিলেন : ‘আমার পরে সিরাজউদ্দৌলা বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার মসনদে আরোহণ করবে।’ আলবর্দী খান নিজেই ইরাজ খানের কাছে তার কন্যা লুত্ফুন্নিসার জন্য সিরাজের বিয়ের প্রস্তাব দেন। ১৭৪৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দুই পরিবারের সম্মতিতে সিরাজ ও লুত্ফার শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়। তাদের ঘর আলোকিত করে একমাত্র কন্যা উম্মে জোহরা। বেগম লুত্ফুন্নিসা ১৭৬৭ সালে কন্যা উম্মে জোহরাকে ১৪ বছর বয়সে সিরাজের ভাই ইকরামউদ্দৌলার পুত্র মুরাদউদ্দৌলার সঙ্গে বিয়ে দেন। দুই আপন ভাইয়ের ছেলে-মেয়ের বিয়ে হওয়াতে সিরাজউদ্দৌলার পরিবারের বংশের বাতি জ্বলতে থাকল, যা আজও বর্তমান। বাংলার স্বাধীনতার নাম নিলেই যার নাম উচ্চারণ অনিবার্য হয়ে ওঠে তিনিই হচ্ছেন বাংলার শেষ স্বাধীন নওয়াব ও বাংলার স্বাধীনতার প্রথম শহীদ বীর নবাব সিরাজউদ্দৌলা। চার চারটি যুদ্ধের সফল অধিনায়ক, স্রেফ একটি বিশ্বাসঘাতকতার যুদ্ধে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়। মাত্র ১৪ মাস ১৪ দিনের রাজত্বকালের পুরো সময়টা কেটেছে অস্থিতিশীল অবস্থার মধ্যদিয়ে। তা সত্ত্বেও তার দৃঢ়তা, সাহস ও স্বদেশ প্রেম তাকে জাতীয় বীরের মর্যাদা দান করেছে। পারিবারিক জীবনেও তিনি স্ত্রী লুত্ফুন্নিসা এবং কন্যা উম্মে জোহরার সঙ্গে সুখী জীবনযাপন করেছেন। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ ফজলুল হকের মতে, ‘সিরাজ ছিলেন আদর্শবান ও মহান দেশপ্রেমিক নবাব। আদর্শ চরিত্রের ছিলেন বলেই তার তরুণী স্ত্রী তার মৃত্যুর পর প্রায় অর্ধশতাব্দী স্বামীর কবরে পবিত্র কোরআন শরিফ পড়ে ইবাদত বন্দেগি করে কাটিয়ে দিয়েছিলেন।’ নবাব সিরাজউদ্দৌলার সন্তান এবং ৯ম রক্তধারা সৈয়দ গোলাম আব্বাসের প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘ঝঐঅই ফ্রেন্ডশিপ গার্ডেন’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরিষদ বাংলাদেশ’ এবং ‘সেন্টার ফর মিলিটারি হিস্ট্রি ঢাকা’ ঐতিহ্যের ভালোবাসায় দীর্ঘদিন যাবৎ নবাব সিরাজউদ্দৌলার শুভ জন্মদিন পালন করে আসছে। আজ ১৯ সেপ্টেম্বর নবাব সিরাজউদ্দৌলার শুভ জন্মদিনে সিরাজ পরিবারের নতুন প্রজন্ম বাংলার প্রতিটি হৃদয়ের দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করছে, যাতে আগামী দিনগুলোয় লাল-সবুজের বাংলায় সিরাজের আর্দশ, ভালোবাসা, চেতনা জেগে থাকে প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে।

লেখক : নবাব সিরাজউদ্দৌলার ৯ম বংশধর

www.shabplus.yolasite.com

এই পাতার আরো খবর
up-arrow