Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৭
ইসলাম সচ্চরিত্রের অধিকারী হওয়ার শিক্ষা দেয়
মাওলানা মুহাম্মদ শাহাবুদ্দিন

অসৎ ব্যক্তিদের পক্ষে কখনোই জান্নাতে যাওয়া সম্ভব হবে না। সৎ চরিত্রের অধিকারী হওয়া ইমানদারদের জন্য এক অপরিহার্য শর্ত।

আল্লাহ সৎ চরিত্রের অধিকারীদের জান্নাতবাসী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনের সূরা আল-নাযিয়াহ’র ৪১ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে, ‘পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি নিজ প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোর ভয় রেখেছে এবং কু-প্রবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রেখেছে, অবশ্যই জান্নাত হবে তার প্রকৃত ঠিকানা। সৎ চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তিরা পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য সম্পদ। যারা এই গুণকে ধারণ করেন মহান আল্লাহ তাদের আখেরাতের দিন তার আরশের ছায়াদান করবেন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি তার দুই চেয়ালের মধ্যবর্তী স্থান (অর্থাৎ জিহ্বা) এবং দুই ঊরুর মধ্যবর্তী স্থান (অর্থাৎ লজ্জাস্থান) হেফাজতের দায়িত্ব নেবে আমি তার জন্য জান্নাতের জামিন হলাম। ’ (বুখারি)। অর্থাৎ যে ব্যক্তি তার জবানের ক্ষেত্রে সংযম পালন করবে, কাউকে অযথা কষ্ট দেবে না, যার জবান কোনো অশ্লীল কথা উচ্চারণ করবে না, মিথ্যাচারের সঙ্গে যুক্ত করবে না, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জান্নাতের জন্য জামিন হবেন। একইভাবে যারা অশ্লীলতা, অবৈধ সম্পর্ক থেকে বিরত থাকবে তারাও আখেরাতের জীবনে জান্নাতবাসী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করবেন। নিজেকে সৎ চরিত্রের অধিকারী হতে হলে অসৎ কর্ম থেকে দূরে থাকার ব্যাপারে দৃঢ়প্রত্যয়ী হতে হবে। সব ধরনের অবৈধ কাজ থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে হবে। সদা সর্বদা আখেরাতের কথা ভাবতে হবে। সৎ চরিত্রের অধিকারীরা পরিবার ও সমাজে সবার আস্থা অর্জন করে। তাদের সংস্পর্শে মানুষ নিজেদের নিরাপদ ভাবে। সৎ চরিত্রের অধিকারী যারা তারা কোনো অন্যায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে না। তারা কোনো অবস্থায় লোভ-লালসার কাছে আত্মসমর্পণ করে না। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সৎ চরিত্রের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সেই অন্ধকার যুগেও তিনি আল আমিন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিধর্মীরাও এ জন্য তাকে সমীহ করত। সৎ চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তির পক্ষে কোনো অন্যায় কাজে সায় দেওয়া সম্ভব হয় না। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা তাদের কাছে নিরাপদ থাকে। সচ্চরিত্রের ব্যক্তিরা সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য কখনই হুমকি হিসেবে বিবেচিত হন না। এ কারণে ইসলামে সচ্চরিত্রের অধিকারী হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হযেছে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সৎ চরিত্রের অধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন।

     লেখক : ইসলামী গবেষক

এই পাতার আরো খবর
up-arrow