Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৩
জাতিসংঘ অভিবাসী সম্মেলন
সমস্যা মোকাবিলায় ঐকমত্যের বিকল্প নেই

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চ পর্যায়ের প্ল্যানারি বৈঠকে শরণার্থী ও অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় বিশ্বের সব দেশের দায়িত্বশীলতা ও ঐকমত্যে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বৈঠকে যে কোনো পরিস্থিতিতে অভিবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেছেন তিনি। বলেছেন, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি রক্ষার জন্য অভিবাসী ও শরণার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘে শরণার্থী ও অভিবাসন সমস্যা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সময়ের বিচারে তাত্পর্যের দাবিদার। শরণার্থী ও অভিবাসী একটি বিশ্বজনীন সমস্যা। দুনিয়ার কোনো দেশের মানুষ নিজেদের ইচ্ছায় শরণার্থী হয় না, অভিবাসী হওয়ার পেছনেও রয়েছে অভিন্ন বাস্তবতা। এ মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অস্থির অবস্থা লাখ লাখ মানুষকে শরণার্থী হতে বাধ্য করেছে। জাতিগত সংঘাত, জঙ্গিবাদের উত্থান, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ উদ্বাস্তুতে পরিণত হচ্ছে। দারিদ্র্য এবং কর্মসংস্থানের অভাবেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ অগ্রসর দেশগুলোয় অভিবাসী হতে বাধ্য হচ্ছে। জাতিসংঘ যে শরণার্থী ও অভিবাসীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন, প্রথমবারের মতো উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনের আয়োজন তারই ইঙ্গিত দেয়। বিশ্বনেতাদের এ বৈঠকে অভিবাসী ও শরণার্থীদের বিষয়ে নিউইয়র্ক ঘোষণা গৃহীত হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে এ ঘোষণার আলোকে শরণার্থী এবং অভিবাসীদের সম্পর্কে ধনী দেশগুলো আরও দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে। মানবসভ্যতার শুরু থেকেই মানুষের মধ্যে দেশান্তরী হওয়ার প্রবণতা সক্রিয়। আজকের আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া গড়ে উঠেছে অভিবাসীদের জনপদ হিসেবে। দুুনিয়ায় এমন দেশও রয়েছে যেগুলো জনসংখ্যার ভারে নুয়ে পড়ার মতো অবস্থায়, অন্যদিকে এমন দেশের সংখ্যাও কম নয় যেখানে বিদ্যমান জনসংখ্যার কয়েক গুণ অভিবাসীকে স্থান দেওয়া সম্ভব। এ অবস্থার নিরিখে শরণার্থী ও অভিবাসী সমস্যা সম্পর্কে পৃথিবীর সব দেশকে উদার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। মানুষে মানুষে সহমর্মিতার পরিবেশ সৃষ্টিতে পৃথিবীর যে কোনো এলাকার এ-সংক্রান্ত সমস্যাকে বিশ্বসমাজের সমস্যা বলে মনে করতে হবে। বিশ্বশান্তির জন্য এই সহমর্মিতার কোনো বিকল্প নেই। পৃথিবীর সব জাতির মধ্যে মৈত্রী ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ গড়ে তুলতে এ বিষয়ে সবার মনোযোগ আজ সময়ের দাবি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow