Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৪
কংগ্রেসের দায় কম নয়

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সাম্প্রদায়িকতাকে ভিত্তি করে। এজন্য দায়ী করা হয় মুসলিম লীগ নেতাদের। কিন্তু বাস্তবে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য মুসলিম লীগ নেতাদের চেয়ে তথাকথিত অসাম্প্রদায়িক দল কংগ্রেসের দায় কম নয়। ভারতীয় উপমহাদেশের সংখ্যালঘিষ্ঠ জনগোষ্ঠী মুসলমানদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের কায়েমি স্বার্থবাদী নেতাদের অনুদার মনোভাবই পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় মদদ জোগায়। মুসলিম নেতাদের সিংহভাগই অখণ্ড ভারতে বিশ্বাসী ছিলেন। পাকিস্তানের রাষ্ট্রপিতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ শুরুতে ছিলেন কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত। ব্যক্তিগত জীবনে আপাদমস্তক পশ্চিমা ধ্যান-ধারণায় বিশ্বাসী ছিলেন তিনি। ধর্মের সঙ্গে তার দূরতম সম্পর্ক ছিল না এমন কথাও বলেন অনেকে। অসাম্প্রদায়িক ও উদার মনোভাবের জন্য জিন্নাহকে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রতীক বলে অভিহিত করা হতো। কায়েদে আজম উপাধিটিও তিনি পেয়েছিলেন কংগ্রেসে থাকা অবস্থায়। কংগ্রেস নেতাদের ওপর বিরক্ত হয়েই জিন্নাহ মুসলিম লীগে যোগ দেন। এ দলের সভাপতিও নির্বাচিত হন। জিন্নাহ মুসলিম লীগে যোগদানের আগে সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে এ দলের কোনো প্রভাবই ছিল না। অভিজাত মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করত এ দলটি। জিন্নাহ মুসলিম লীগের নেতৃত্ব গ্রহণের পরও তার টার্গেট ছিল মুসলিম স্বার্থ রক্ষা করা। ভারত বিভক্তির কথা তিনি ভাবেননি। মুসলিম লীগের তথাকথিত পাকিস্তান প্রস্তাবও ছিল একটি অবাস্তব প্রস্তাব। দরকষাকষির জন্য এ প্রস্তাব তোলা হয়। জিন্নাহ পাকিস্তানের পক্ষে ভারতীয় মুসলমানদের সমর্থন নিশ্চিত করতে ব্যাপক সাংগঠনিক তত্পরতা শুরু করেন। এ তত্পরতাকে নস্যাৎ করতে কংগ্রেস নেতারা মুসলমান ধর্মীয় নেতাদের মাঠে নামিয়ে দেন। ‘জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ’ নেতারা পাকিস্তান প্রস্তাবের বিরুদ্ধে মাঠে নামলে বাধ্য হয়ে জিন্নাহও মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের অন্য অংশকে মাঠে নামান। লক্ষণীয়, কংগ্রেসের মদদে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধাচরণে দেওবন্দপন্থি আলেমদের যে সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দকে মাঠে নামানো হয়, তারা ছিলেন অপেক্ষাকৃত গোঁড়া।

     গ্রন্থনা : জাফর খান

এই পাতার আরো খবর
up-arrow