Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৩১
ভারত পাকিস্তান সংঘাত
যুদ্ধ নয় কূটনৈতিক পথে সমাধান খুঁজুন

ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক তিক্ততার শেষ ধাপে উপনীত হতে চলেছে। কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী উরি সেনা ঘাঁটিতে পাকিস্তান থেকে আসা জঙ্গিদের হামলায় গত রবিবার ১৮ জন ভারতীয় সৈন্য নিহত হওয়ার পর দিল্লির মোদি সরকার প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েছে বলেই মনে হয়।

ভারতীয় সেনাবাহিনী এ জঙ্গি হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে মনে করছে এবং তারা প্রতিঘাত করে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে উঠেছে। উরি ঘটনার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটার মতো আরও কিছু ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ভারতে অনুপ্রবেশের সময় সেনাবাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের গোলাগুলি শুরু হলে ১১ জন নিহত হন। নিহতদের ১০ জনই জঙ্গি এবং একজন ভারতীয় সেনা। ভারতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ভারতীয় ভূখণ্ডে ওইদিন গুলিবর্ষণও করেছে। কাশ্মীর সীমান্তে হঠাৎ করে উত্তেজনা বৃদ্ধির পেছনে জঙ্গি সংগঠন না পাকিস্তানের সেনা গোয়েন্দা সংস্থার কারসাজি জড়িত তা স্পষ্ট নয়। তবে মুজাহিদ কিংবা জঙ্গি সংগঠনের নামে কাশ্মীরে অপতত্পরতা চালানোর অতীত রেকর্ড রয়েছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর। কারগিলে ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আগ্রাসন চালিয়ে এটিকে কাশ্মীরি মুজাহিদদের কাজ বলে সাফাই গেয়েছিল। পরবর্তীতে ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল পারভেজ মোশাররফ এবং চিফ অব দ্য স্টাফ জেনারেল আজিজের রেকর্ডকৃত টেলিফোন আলাপ ফাঁস করে দেওয়া হলে পাকিস্তান মাথানত করতে বাধ্য হয়। প্রমাণিত হয় পাকিস্তান সরকারকে না জানিয়ে সে দেশের সেনাবাহিনী কারগিলে অভিযান চালিয়েছে নির্বাচিত সরকারকে বিব্রত অবস্থায় ঠেলে দেওয়ার জন্য। উরির ঘটনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য দিক থেকে মোদি সরকার চাপের মুখে থাকলেও দুটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে তা নিয়ন্ত্রণ রাখা যে কঠিন হবে সে বিষয়টিও ভেবে দেখতে হবে। সংঘর্ষের বদলে ভারত পাকিস্তান সরকারের ওপর আন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করলে তা অনেক বেশি কাজের কাজ বলে বিবেচিত হবে। পাকিস্তান সরকার নিজেদের দোষ এড়ানোর স্বার্থেই উরি ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। যুদ্ধে জড়িয়ে দেশের অর্থনীতির বারোটা না বাজিয়ে কূটনৈতিকভাবে পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই হবে বিধেয়। ভারত সে পথ এগোবে বন্ধুদেশ হিসেবে আমরা তেমনটিই দেখতে চাই।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow