Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৩২
মা-বাবার প্রতি ভালোবাসা
মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী
মা-বাবার প্রতি ভালোবাসা

মা-বাবার প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, মা-বাবার সঙ্গে কোমল আচরণ করা, তাদের প্রতি দয়াপরবশ হওয়া, মা-বাবার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা, তাদের প্রতি যত্নবান হওয়া এবং তাদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে সেবাযত্ন করা ও তাদের যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করা সন্তানদের কর্তব্য বলে বিবেচিত।

ইমাম আবুল লাইস সমরকন্দী (রহ.) সন্তানের ওপর মা-বাবার অধিকার এবং মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার সম্পর্কে লিখেছেন— তাদের যখন পানাহারের প্রয়োজন পানাহার করানো। তাদের পোশাকের প্রয়োজন হলে পোশাক-পরিচ্ছেদ দেওয়া। তাদের সেবাযত্নের প্রয়োজন হলে সেবা প্রদান করা। ডাকলে সানন্দে সাড়া দেওয়া, কোনো কাজের আদেশ করলে পালন করা,  তাদের সঙ্গে বিনয়ের সঙ্গে কথা বলা, তাদের নাম ধরে না ডাকা, তাদের আগে না হাঁটা, তাদের সামনে ও উপরে না বসা। তাদের পেছনে ও নিচে বসা এবং সব সময় তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। তাদের নাফরমানি ও অবাধ্যতা থেকে দূরে থাকা।

আল্লাহতায়ালা বলেন, তোমার প্রতিপালক ফায়সালা করে দিয়েছেন যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত করবে না এবং মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে। (সূরা বনি ইসরাঈল : ২৩)।

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে— আমি বনি ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছি, তোমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারও উপাসনা করবে না এবং মা-বাবার সঙ্গে উত্তম আচরণ করবে। (সূরা আল-বাকারা : ৮৩)।

তোমরা আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি কর, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক কর না, মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর। (সূরা আন-নিসা : ৩৬)।

অন্য এক আয়াতে রয়েছে— তোমার মা-বাবা যদি আমার সঙ্গে এমন সব বিষয়কে শরিক করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সঙ্গে কল্যাণময় সহঅবস্থান করবে। (সূরা লুকমান : ১৫)।

পবিত্র কোরআনুল কারিমেও মা-বাবার হক পালনে প্রশংসা করা হয়েছে। হজরত ইয়াহইয়া (আ.)-এর প্রশংসায় আল্লাহতায়ালা বলেন, হে ইয়াহইয়া! দৃঢ়তার সঙ্গে এ গ্রন্থ ধারণ কর আমি তাকে শৈশবেই বিচার-বুদ্ধি ও প্রজ্ঞা দান করেছিলাম এবং নিজের পক্ষ থেকে দয়া ও পবিত্রতা দান করেছি। সে ছিল পরহেজগার। মা-বাবার অনুগত এবং সে উদ্ধত নাফরমান ছিল না। (সূরা মারইয়াম : ১২-১৪)।

ইসা (আ.) বলেন, আল্লাহ আমাকে যতদিন জীবিত থাকি ততদিন নামাজ কায়েম ও জাকাত আদায় করতে এবং জননীর অনুগত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। (সূরা মারইয়াম : ৩১-৩২)।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাসিসরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব

     www.selimazadi.com

এই পাতার আরো খবর
up-arrow