Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৪
মানবাধিকারের ধর্ম ইসলাম
মাওলানা মুহাম্মদ আশরাফ আলী

মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামের ভূমিকা গর্ব করার মতো। মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি সেরা জীবের মর্যাদা দিয়েছেন।

এ মর্যাদাকে সমুন্নত রাখার শিক্ষা দেয় ইসলাম। যে কারণে ইসলামকে মানবাধিকারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জীবন বিধান বলে অভিহিত করা হয়। ইসলামে মানবাধিকারকে আল্লাহ প্রদত্ত মানুষের সহজাত অধিকার হিসেবে ভাবা হয়। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করেছিলেন এক অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগে। সে যুগে আরব সমাজে মানবাধিকার ছিল লুণ্ঠিত। কন্যা সন্তানের জন্মগ্রহণকে আরব সমাজে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হতো। তাদের জীবন্ত কবর দেওয়াও হতো কোনো কোনো ক্ষেত্রে। কথায় কথায় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতো আরব সমাজে।

নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলাম প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। কন্যা শিশু হত্যার বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করা হয়েছে, ‘তোমাদের সন্তানদিগকে দারিদ্র্য ভয়ে হত্যা করিও না। উহাদিগকেও আমিই রিজিক দিই এবং তোমাদিগকেও। নিশ্চয়ই উহাদিগকে হত্যা করা মহাপাপ। ’ সূরা বনী ইসরাইল আয়াত নং-৩১। নরহত্যা আরব সমাজের সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছিল। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ প্রবণতার বিরুদ্ধে ইরশাদ করেন, ‘সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ হচ্ছে আল্লাহর সঙ্গে কাউকে অংশীদার করা এবং মানুষ হত্যা করা। ’ বুখারি

মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে ন্যায়বিচারের বিকল্প নেই। যে কারণে ইসলামে ন্যায়বিচারের ধারণাকে উৎসাহিত করা হয়েছে। সূরা নিসার ১৩৫ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ তোমরা ন্যায়বিচারে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাকিবে আল্লাহর সাক্ষীস্বরূপ, যদিও ইহা তোমাদের নিজেদের অথবা পিতা-মাতা এবং আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে হয়। ’

মানবাধিকার সমুন্নত করার জন্য রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মানুষের প্রতি অন্য মানুষের ক্ষমাশীল মনোভাব ও দয়া প্রদর্শনকে উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, জমিনে যারা আছেন তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন কর তাহলে আসমানে যিনি আছেন তিনি তোমার প্রতি সদয় হবেন। (আবু দাউদ)

বিদায় হজে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ভাষণ দেন তা মানবাধিকারের ইতিহাসের এক স্মরণীয় ঘটনা। মানব সমাজকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, ‘নিশ্চয় তোমাদের পরস্পরের জীবন, সম্পদ এবং সম্ভ্রম তোমাদের (অবৈধ হস্তক্ষেপ থেকে) পবিত্র, যেমন আজকের এই দিন, এই মাস এবং শহর পবিত্র।   বুখারি।

লেখক : ইসলামী গবেষক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow