Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪৪
বায়তুল মোকাররমের খুতবা
পবিত্র কোরআন পাকের হক
হাফেজ মুফতি মাওলানা মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী পেশ ইমাম, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ।

সব প্রশংসা আল্লাহতায়ালার জন্য এবং সালাত ও সালাম আম্বিয়া কেরামদের ওপর বিশেষ করে হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও তার সাহাবিদের ওপর। আল্লাহতায়ালা মানুষকে সম্মানিত করে সৃষ্টি করেছেন।

মানুষ দুনিয়াতে এসে যেন গোমরাহির মাধ্যমে সেই সম্মান নষ্ট না করে হেদায়েতের ওপর অবিচল থেকে আল্লাহতায়ালার রেজামন্দি নিয়ে দুনিয়ার জীবনে অতিবাহিত করতে পারে ও দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে পারে, তার জন্য যুগে যুগে নবী পাঠিয়েছেন এবং সঙ্গে মানুষকে সৎ পথের দিশা দেওয়ার জন্য নবীদের ওপর কিতাবও নাজিল করেছেন। এর ধারাবাহিকতায় মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ (সা.)কে শেষ নবী হিসেবে পাঠিয়েছেন এবং মানুষকে সৎ পথে আহ্বান করার জন্য তাঁর ওপর শেষ কিতাব কোরআনুল কারিম নাজিল করেছেন। এ কোরআন যদিও মানুষকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য নাজিল করা হয়েছে; তবে কোরআনের বিশুদ্ধতা প্রমাণের জন্য আল্লাহতায়ালা এ কোরআনকে বিভিন্ন অলৌকিকত্ব সম্পন্ন করেছেন। যুগের চাহিদার সঙ্গে চলতে গিয়ে কোরআন তার ভিন্ন ভিন্ন অলৌকিকত্ব প্রকাশ করে যাচ্ছে। সাহিত্যের যুগে সাহিত্যিক অলৌকিকত্ব ও বিজ্ঞানের যুগে বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব কোরআন থেকে বিচ্ছুরিত হচ্ছে। যার কারণে চৌদ্দশ’ বছর পরেও কেউ কোরআনের কোনো ত্রুটি খুঁজে বের করতে পারেনি এবং পারবেও না। মজার ব্যাপার হলো বহু অমুসলিম কোরআনের ত্রুটি খুঁজতে গিয়ে কোরআন অধ্যয়ন শুরু করার পর কোরআনের অলৌকিকত্ব ও তত্ত্বের কাছে হার মেনে মুসলমান হয়ে যাচ্ছে আর আমরা যারা কোরআনে বিশ্বাসী তারা কোরআন নিয়ে গবেষণা তো দূরের কথা কোরআনের প্রতি আমাদের কী হক বা আমাদের কাছে কোরআনের কী দাবি সেটাও ভুলতে বসেছি। প্রত্যক মুসলমানের ওপর কোরআনের পাঁচটি হক রয়েছে। ১. পবিত্র কোরআনের ওপর ইমান। ২. পবিত্র কোরআনের তেলাওয়াত। ৩. পবিত্র কোরআনের অর্থ বোঝা, বিশেষ করে নিজ নিজ দৈনন্দিন জীবনের করণীয় বর্জনীয় সম্পর্কে কোরআনের নির্দেশনা জানা। ৪. পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমল করা। ৫. তাঁর পয়গাম অপরের কাছে পৌঁছে দেওয়া তথা পারিভাষিক অর্থে কোরআনের প্রতি দাওয়াত।

প্রথম হক কোরআনের প্রতি ইমান বা বিশ্বাস, এর অর্থ হলো কোরআনে আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে নাজিল হয়েছে বিধায় কোরআন সম্মানের পাত্র। কোরআনের অনুসরণেই আমাদের কল্যাণ এর বিপরীতে অকল্যাণ। এতে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি নেই। এভাবে বিশ্বাস করার নামই হচ্ছে কোরআনের প্রতি বিশ্বাস অর্থাৎ কোরআন আল্লাহতায়ালা কর্তৃক নাজিলকৃত সম্মানীয় অনুসরণীয় ও ত্রুটিমুক্ত।

কোরআনের ব্যাপারে এ বিষয়গুলো মনে-প্রাণে বিশ্বাস করলেই আমরা দাবি করতে পারব আমরা কোরআনে বিশ্বাসী। বহু মুসলিম রয়েছেন যারা কোরআনকে এভাবে বিশ্বাস করেন না। তবে সামাজিক রাজনৈতিক কারণে তারা কোরআনকে এভাবে বিশ্বাস করেন না সেটা স্পষ্ট করে বলে না। পার্থিব রীতি অনুযায়ী তাদের পরিচিতি মুসলিম হলেও আল্লাহতায়ালার কাছে তারা মুসলিম নহেন। আবার কিছু মুসলিম আছে যারা কোরআনকে সম্মানের চোখে দেখেন— তবে সন্দেহ পোষণ করেন যে, কোরআনের এত বিধি-নিষেধ মেনে চললে পার্থিব জীবনে সফলতা অর্জন হবে কিনা? এরা কোরআনকে সম্মান দেখানোর পরও কোরআনের প্রতি যথাযথ ইমান না থাকার কারণে তাদেরও কোরআনের প্রতি বিশ্বাসী বলা যাবে না বরং এরা হলো ওই ব্যক্তির মতো যে ব্যক্তি নিজের বাবাকে বাবা হিসেবে সম্মান করতে রাজি আছে তবে বাবা বৃদ্ধ হওয়ায় বুদ্ধিশুদ্ধি লোপ পেতে বসেছে বিধায় তার আদেশ নিষেধ পরামর্শ মানা যাবে না।

তদ্রূপ কোরআনের প্রতি এ ধরনের বিশ্বাসী লোকেরা মনে করেন যে, কোরআন আল্লাহতায়ালার কিতাব সেহেতু সম্মানীয়, তবে প্রাচীন যুগের কিতাব আধুনিক যুগে তার কতটুকু কার্যকারিতা থাকতে পারে বা যুগের সমস্যার কতটুকু সমাধান দিতে পারে? অতএব তারা মনে করেন কোরআন সম্মানীয়, তবে অনুসরণীয় নয়।

এসব বিষয় পর্যালোচনা করে প্রত্যেককে বুঝতে হবে আমরা নিজেকে নিজে মুসলমান দাবি করলেও কোরআনের প্রতি আমাদের কতটুকু ইমান রয়েছে। বরং এক পর্যায়ের সংশয়যুক্ত ইমান নিয়ে লাঞ্ছিত হলে বা বেইজ্জতির হার গলায় নিয়ে ঘুরলে কোরআনকে দোষারোপ করে লাভ কী? জগাখিচুড়ির চিকিৎসা যেরকম রোগীকে সুস্থতা দিতে অক্ষম তদ্রূপ কোরআনের বিধানকে কাটছাঁট করে কোরআনের সঙ্গে জোড়াতালি দিয়ে গঠিত জগাখিচুড়ির বিধান আজকের এই মুসলিম সমাজকে মুক্তি দেবে না। আমাদের সঠিকভাবে কোরআনের প্রতি ইমান আনতে হবে। কোরআনের প্রতি সঠিকভাবে ইমান আনলেই কোরআনের প্রতি ইমান আনার হক আদায় হবে এবং সেই ইমানই আমাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। কোরআনের প্রতি ইমানের হক আদায়ের সঙ্গে সঙ্গে তার তেলাওয়াতের, তার অনুধাবনের, তার অনুসরণের, তার প্রচারের হকগুলোর প্রতিও আমাদের সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে। কোরআনের হক আদায়ের মাধ্যমেই ইহকাল ও পরকালের সফলতা ও মুক্তি অর্জন হবে। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে কোরআনের হক আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow