Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪১
শ্রমবাজারে অচলাবস্থা
বাজার পুনর্গঠনে উদ্যোগ নিন

দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স আয় প্রাণভোমরার ভূমিকা পালন করছে দীর্ঘদিন ধরে। শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজার থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা বহুক্ষেত্রে যে মূলধন হিসেবে অবদান রেখেছে সন্দেহ নেই।

রেমিট্যান্স আয়ের রমরমার কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ভারতের পরেই বৈদেশিক মুদ্রার সমৃদ্ধ রিজার্ভের অধিকারী। এক সময় দেশের রেমিট্যান্স আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ঈর্ষণীয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা বেড়েছে প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুতগতিতে। কিন্তু গত ৭/৮ বছর যাবৎ এ ক্ষেত্রে চলছে নেতিবাচক অবস্থা। দেশের বড় বড় দুই শ্রমবাজার প্রায় বন্ধ রয়েছে প্রায় ৭ বছর ধরে। শ্রমবাজার আবারও চালুর ক্ষেত্রে আশ্বাসের ফুলঝুরি থাকলেও তার বাস্তবায়ন নেই বললেই চলে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবের মতো বৃহৎ বাজার কাগজে-কলমে খুলে গেলেও অদৃশ্য সব সংকটে এই দুই দেশে জনশক্তি প্রেরণ আটকে আছে। এরই মধ্যে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জঙ্গিবাদে জড়ানোর খবর তৈরি করেছে নতুন উৎকণ্ঠা। ২০০৯ সালে বন্ধ হওয়া মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের বন্ধ্যত্ব যেন মামদো ভূতের মতো চেপে বসে আছে এই খাতটির ঘাড়ে। কয়েক বছর ধরে বারবার ঘোষণা দিয়েও মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো যাচ্ছে না। প্রথমে ‘জিটুজি’ পদ্ধতি নিয়ে শুরু হলেও লোক পাঠানোর শম্বুক গতি শুভঙ্করের ফাঁকিতে পরিণত হয়। জিটুজির ব্যর্থতায় গত বছরের জুনে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বিটুবি পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত হচ্ছে। এর দুই মাস পর ঘোষণা করা হয়, বিটুবি নয়, জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানো হবে। এ পদ্ধতিতে সরকারি নিয়ন্ত্রণে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিও কর্মী পাঠাবে। এ নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই করা হলেও অচলাবস্থা কাটেনি। একই পরিস্থিতি দেশের অপর বৃহত্তম শ্রমবাজার সৌদি আরবেও। সেখানেও চলছে একের পর এক আশ্বাস। ছয় বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে সৌদি আরব। এ বছরের ১১ আগস্ট সৌদি আরব সব ধরনের কর্মী নিয়োগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর শুরু হয়েছে ৮-১০ লাখ টাকায় ভিসা কেনাবেচা। ফলে নতুন করে অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণে আটকে আছে সৌদি শ্রমবাজার। শ্রমবাজার নিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে তা কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়। দেশের রেমিট্যান্স আয় হ্রাস পেলে অর্থনীতিতে যে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সহজে অনুমেয়। কর্মসংস্থানেও পড়বে বিরূপ প্রভাব। যা এড়াতে এ খাতের পুনর্জাগরণে আরও বেশি তত্পর হতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow