Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৩২
‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ যেথা শির’
তোফায়েল আহমেদ
‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ যেথা শির’

বাংলার গণমানুষের প্রিয় নেত্রী আজ ৭০ বছরে পদার্পণ করছেন। তার শুভ জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীসহ সারা দেশের মানুষ দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া ও আশীর্বাদ করছে। দীর্ঘ প্রায় তিন যুগ সাফল্যের সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব প্রদানকারী দল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে, গণরায়ে অভিষিক্ত করে তিনবার সরকারে অধিষ্ঠিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি।  নিষ্ঠার সঙ্গে, সততার সঙ্গে, অত্যাচার-অবিচার সহ্য করে, জেল-জুলুম নির্যাতন ভোগ করে আওয়ামী লীগকে বাংলার মানুষের কাছে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ’৭৫-এর পর অনৈক্য আর ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ যখন কঠিন সময় অতিক্রম করছিল, তখন তিনি দলের হাল ধরেছিলেন। সমগ্র সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা তখন সামরিক শাসকের দুঃশাসনের কবলে নিপতিত। দীর্ঘকাল সংগ্রাম করে সেই দুঃসময় থেকে তিনি আমাদের মুক্তি দিয়েছেন। ’৮১-এর সম্মেলনে সবাই ধরে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ বিভক্ত হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা জীবনপণ চেষ্টা করে সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে আওয়ামী লীগের ঐক্য ধরে রেখে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ওপর দলের নেতৃত্বভার অর্পণ করে তার হাতেই তুলে দিয়েছিলাম দলের সংগ্রামী পতাকা। যেদিন তিনি প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে এলেন সেদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মনে করেছিল, শেখ হাসিনার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকেই যেন ফিরে পেয়েছে। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর কতিপয় বিপথগামী বিশ্বাসঘাতকের হস্তে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নির্মমভাবে নিহত হন। ওই সময় তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রবাসে থাকায় ঘাতকদের হাত থেকে রেহাই পান। ’৮১ সালের ১৭ মে নির্বাসন শেষে শেখ হাসিনা স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে প্রিয় মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন। এ বছর দেশজুড়ে পালিত হয়েছে তার ৩৫তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বার্ষিকী। যেদিন প্রিয় নেত্রী স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন, সেদিন শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল না, ছিল সর্বব্যাপী সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দুর্যোগ। সামরিক স্বৈরশাসনের অন্ধকারে নিমজ্জিত স্বদেশে তিনি হয়ে ওঠেন আলোকবর্তিকা-অন্ধকারের অমানিশা দূর করে আলোর পথযাত্রী।

’৮১ সালের ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশন। কাউন্সিলে অনেক আলাপ-আলোচনার পর জাতীয় ও দলীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। আমরা সাব্যস্ত করি মহান জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের নেতৃত্ব প্রদানকারী দল আওয়ামী লীগের সংগ্রামী পতাকা তারই হাতে তুলে দেব। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। তিনি স্বেচ্ছায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসেননি। দলীয় ও জাতীয় ঐক্যের বৃহত্তর ও মহত্তর প্রয়োজনে তার আগমন এবং নেতৃত্ব গ্রহণ। নেতৃত্ব গ্রহণের পর দীর্ঘ প্রায় তিন যুগে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বারবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই তিনি রাজনীতি করছেন। কোনো পদ বা ক্ষমতা নয়, বরং বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতেই দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রস্তাবে তিনি রক্তেভেজা দলীয় ও জাতীয় পতাকা স্বহস্তে তুলে নিয়েছেন। বিগত তিন যুগে প্রমাণ হয়েছে সেদিনের কাউন্সিল অধিবেশনে গৃহীত আমাদের সিদ্ধান্তটি ছিল ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।

নবপ্রজন্মের অনেকেরই জানা নেই কত আত্মত্যাগ আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আজ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। ’৭৫-এর পর কঠিন সময় অতিক্রম করেছি আমরা। স্বৈরশাসক জেনারেল জিয়ার নানারকম ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও সফলভাবে কাউন্সিল অধিবেশন সম্পন্ন করার মাধ্যমে আমরা কায়েমী স্বার্থবাদী চক্রের একটি ঘৃণিত চক্রান্ত ব্যর্থ করতে পেরেছিলাম। কাউন্সিল অধিবেশনের সার্বিক সাফল্য কামনা করে শেখ হাসিনা একটি বার্তা প্রেরণ করে বলেছিলেন, ‘আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে এগিয়ে যান।’ বার্তাটি সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক সম্মেলনে পাঠ করে শুনিয়েছিলেন। দলের শীর্ষ পদ গ্রহণে শেখ হাসিনার সম্মতিসূচক মনোভাব সম্পর্কে কাউন্সিলরদের উদ্দেশে আমি বলেছিলাম, ‘আমরা সবাই একটি সুসংবাদের অপেক্ষায় আছি।’ শেখ হাসিনা তার বার্তায় সর্বপ্রকার দ্বন্দ্ব-বিভেদ ভুলে ‘আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির’ মাধ্যমে কাউন্সিলর ও নেতাদের বঙ্গবন্ধুর কর্মসূচি সোনার বাংলা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে গণবিরোধী স্বৈরশাসকের ভিত কেঁপে উঠেছিল। ’৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার আগে জেনারেল জিয়াউর রহমানের নির্দেশে ‘শেখ হাসিনা আগমন প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীকে এ ব্যাপারে সতর্ক ও সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছিলাম আমরা।  

’৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর সামরিক শাসনবিরোধী তুমুল গণআন্দোলন সংগঠিত করেন। তৎকালীন সামরিক শাসকের নির্দেশে ’৮৩-এর ফেব্রুয়ারিতে তাকে-সহ আমাদের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে সামরিক গোয়েন্দারা চোখ বেঁধে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যায় এবং বিনা কারণে একটানা ১৫ দিন সেখানে আমাদের আটকে রাখা হয়। ’৮৪-এর ফেব্রুয়ারি ও নভেম্বরে তাকে পুনরায় গৃহবন্দী করা হয়। ’৮৫-এর মার্চ মাসে তাকে তিন মাস এবং আমাকে ছয় মাস বিনাবিচারে আটকে রাখা হয়। জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী থাকা সত্ত্বেও ’৮৬-এর নভেম্বরের ১০ তারিখে তিনি যখন সচিবালয় অবরোধ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তখন পুলিশ তার প্রতি গুলিবর্ষণ করে এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গাড়িতে উপবিষ্ট থাকা অবস্থায় তার গাড়ি ক্রেন দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং পরদিন ১১ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে এক মাসের আটকাদেশ দেওয়া হয়। ’৮৮-এর ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার গাড়িবহরে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। অল্পের জন্য নেত্রী প্রাণে বেঁচে যান। সেদিন বঙ্গবন্ধু কন্যাকে রক্ষায় প্রায় অর্ধশত নেতা-কর্মী প্রাণ বিসর্জন দেন। ’৯০-এর ২৭ নভেম্বর স্বৈরাচার কর্তৃক জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর শেখ হাসিনাকে বঙ্গবন্ধু ভবনে অন্তরীণ করা হয়। কিন্তু প্রবল গণরোষের ভয়ে সরকার ওইদিনই তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর ’৯১-এর ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনের প্রাক্কালে ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ’৯৪-এ তার আহ্বানে ট্রেনমার্চের সময় ঈশ্বরদী রেলস্টেশনের উত্তর প্রান্তে বন্দুকধারীরা তার কামরা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। সেদিনও তিনি সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান। ২০০৯-এর ফেব্রুয়ারিতে পিলখানা হত্যাযজ্ঞের পর ইন্টারন্যাশনাল হেরাল্ড ট্রিবিউন ও নিউইয়র্ক টাইমসের ১৪-১৫ মার্চ সংখ্যায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি থামব না, এসব ষড়যন্ত্র উদঘাটন করতেই হবে। আমি নিজের জীবনের জন্য ভীত হয়ে পড়লে গোটা জাতি ভীত হয়ে পড়বে। আমি জানি, কিছু বুলেট আমায় তাড়া করছে।’ সত্যিই ঘাতকের চোখ শেখ হাসিনার ওপর থেকে সরে যায়নি। ঘাতকের সর্বশেষ নিষ্ঠুর আঘাত এসেছিল ২০০৪-এর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মধ্য দিয়ে। সেদিন অল্পের জন্য নেত্রী প্রাণে বেঁচে গেলেও জীবন দিতে হয়েছে আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২৪ নেতা-কর্মীকে। শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ পর্যন্ত সর্বমোট ১৯ বার হামলা হয়েছে। অকুতোভয় শেখ হাসিনার বড় বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর মতোই অসীম সাহসী। সত্যিই চিত্ত তার ভয়শূন্য!

তার নেতৃত্বে একটানা বহু বছর দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও কাছে থেকে কাজ করেছি। এ ছাড়াও মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে কাছ থেকে তাকে দেখেছি। আমার বারবার মনে হয়েছে যখন তার কাছে বসি বা ক্যাবিনেট মিটিং করি বা সভা-সফর করি, তখন বঙ্গবন্ধুর কথা আমার স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে। বঙ্গবন্ধুর জীবনে রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য ছিল তিনি যা বিশ্বাস করতেন তাই পালন করতেন; একবার সিদ্ধান্ত নিয়ে তার সঙ্গে আপস করতেন না এবং ফাঁসির মঞ্চে গিয়েও মাথা নত করতেন না। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাও জাতির পিতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে সেই আদর্শ অর্জন করেছেন। তিনিও লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করেন এবং সেই লক্ষ্য পূরণে থাকেন অবিচল। ’৮৬-তে তিনি প্রথম নির্বাচন করেন এবং দল ও জোটের ১০৪ জন প্রতিনিধির সমর্থনপুষ্ট হয়ে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। ’৯১-তেও বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে উত্তরণে মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করেন। তারপরে মাগুরার একটি উপনির্বাচনে বিএনপি যখন পরাজিত হতে চায়নি এবং জোর করে ভোট ডাকাতি করেছিল তখন বাধ্য হয়ে আমরা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলে আন্দোলন করে বিজয়ী হয়ে ’৯৬ সালে দীর্ঘ একুশ বছর পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব লাভ করেছিলাম। সেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম এবং দায়িত্বভার কাঁধে নিয়েই তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধকে ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট হয়েছেন। একটা কথা আমার প্রায়ই মনে হয়, সেদিন জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতে যদি আওয়ামী লীগের পতাকা তুলে না দেওয়া হতো তাহলে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ও মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাংলার মাটিতে হতো না। ’৯৬-তে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ প্রশস্ত করেছিলেন তিনি। ২০০১-এ ক্ষমতায় এসে খালেদা জিয়া সেই বিচারের পথ বন্ধ করে দেন। আবার ২০০৮-এর নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করে ২০০৯-এ সরকার গঠন করে সেই বিচারের কাজ শেষ করে আদালতের রায় বাস্তবায়নের পথ করে দেন। বাংলার মাটিতে খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। যেখানে বেগম খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধী-মানবতাবিরোধী অপরাধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে বাঙালি জাতিকে কলঙ্কিত করেছিলেন, সেখানে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে বাংলার মানুষকে কলঙ্কমুক্ত করে চলেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন টেলিফোনে অনুরোধ করে কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশ রহিত করতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু জনসাধারণের কাছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শেখ হাসিনাকে টলাতে পারেননি। স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে শির উঁচু করে চলার অগ্রপথিক তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে আমরা যদি দেশের উন্নয়নের দিকে তাকাই তাহলে আমরা দেখব, বিস্ময়কর উত্থান এই বাংলাদেশের। আজ খাদ্যশস্যে আমরা উদ্বৃত্ত শুধু নই, বাংলাদেশ এখন খাদ্য রপ্তানিকারক দেশ। যখন তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তারপর থেকে আমাদের রপ্তানি ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে আজ তা প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার। রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার। প্রবাসীদের থেকে আয় ১৫ বিলিয়ন ডলার। ’৭১-এ দেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৩৯ বছর, আর এখন ৬৯ বছর। ’৭১-এ ৫ বছরের নিচে শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ছিল ২২৫ জন; আর এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ৪৬ জনে। আর্থ-সামাজিক সব ক্ষেত্রেই আমরা এগিয়ে চলেছি। মানব সূচক উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় বিস্মিত জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, ‘অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশের উচিত বাংলাদেশকে অনুসরণ করা।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত বছরগুলোতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মাথাপিছু আয় যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, এই হার অব্যাহত থাকলে সমাজবিজ্ঞানীদের মতে আমরা ২০২১-এর আগেই মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হব। সুতরাং, সামাজিক জীবনের সব ক্ষেত্রেই আজ আমরা শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছি। শিক্ষার হার বেড়েছে, দারিদ্র্যের হার কমেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্বে আমরা যখন যাই তখন আমাদের যারা একদিন তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে বলেছিল, ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’, আজ তারাই বলে, ‘বিস্ময়কর উত্থান বাংলাদেশের’।

২০১৪-এর ৫ জানুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠানের দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দেশকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পথে পরিচালিত করেছেন তিনি। শেখ হাসিনা আজ শুধু একজন প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি বাংলার মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির প্রতীক ও সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। ’৭৩-এ জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু বিশ্ববাসীর উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘বিশ্ব আজ দুভাগে বিভক্ত। শোষক আর শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে।’  জাতির পিতার কন্যা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মহান ব্রতে সেই কথা বারবার প্রমাণ করে চলেছেন। বঙ্গবন্ধু স্পষ্ট করে জাতিসংঘে বলেছিলেন, ‘আমি বৃহৎ শক্তিবর্গের প্রতি অস্ত্র প্রতিযোগিতা হ্রাস করে সে অর্থ দিয়ে দরিদ্র দেশের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। বর্তমানে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় ব্যয় করা বিপুল অর্থের এক-দশমাংশও যদি জনগণের জন্য খরচ করা হয় তবে পৃথিবী থেকে দারিদ্র্য মুছে যাবে এবং তাতে বৃহৎ শক্তিবর্গেরও মর্যাদাই বৃদ্ধি পাবে।’ বঙ্গবন্ধুকন্যাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পিতার বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে তার নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে চলেছেন।

প্রিয় মাতৃভূমির স্বার্থকে সমুন্নত রাখতে জননেত্রী শেখ হাসিনা অঙ্গীকার করেছিলেন, ‘৫০ বছরের গ্যাসের মজুদ না রেখে আমি গ্যাস রপ্তানি করব না।’ সেই অঙ্গীকার তিনি সমুন্নত রেখেছেন এবং দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে শক্তিশালী করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ’৯৬-এ তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বলাভের পর পার্বত্য শান্তি চুক্তি করেছেন। ’৯৮-এর বন্যায় ভিজিএফ কার্ড প্রবর্তনের মাধ্যমে বন্যার্ত প্রায় তিন কোটি মানুষকে নিরবচ্ছিন্নভাবে খাদ্য সরবরাহ করেছেন। যা বিশ্বের ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। ফারাক্কার পানি বণ্টনে বঙ্গবন্ধু সরকার শুষ্ক মৌসুমে পেয়েছিল ৪৪ হাজার কিউসেক পানির নিশ্চয়তা। সেই পানি কমতে কমতে বেগম খালেদা জিয়ার আমলে ৯ হাজার কিউসিকে নেমেছিল। আওয়ামী লীগ ২১ বছর পর রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়ে প্রথমেই পানি সমস্যার সমাধানে ঐতিহাসিক গঙ্গা চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী পাওয়ার কথা ৩৪ হাজার কিউসেক, অথচ শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণে শুষ্ক মৌসুমে ৬৪ হাজার কিউসেক পর্যন্ত পানি পাওয়া গেছে। বঙ্গবন্ধুর মতো শেখ হাসিনারও রাজনীতির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পরিষ্কার ও স্বচ্ছ। তিনি আজ ৩৫ বছর আওয়ামী লীগের সভাপতি; দীর্ঘ কালপর্বে বহু বাধার প্রাচীর তাকে টপকাতে হয়েছে! একটা সময় ছিল যখন আওয়ামী লীগের ঘোর সমর্থকও মনে করত আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন; রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব প্রাপ্তি যেন এক দুঃস্বপ্ন। কিন্তু শেখ হাসিনার বাস্তবোচিত রাজনৈতিক কর্মতত্পরতায় আওয়ামী লীগ তিনবার গণরায় নিয়ে রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনার দায়িত্বভার লাভ করেছে। আজ সমগ্র বিশ্বে বিশেষ করে কৃষি উৎপাদনের পথিকৃৎ বাংলাদেশ। ’৯৬-এ আওয়ামী লীগ যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে তখন দেশের খাদ্য ঘাটতি ছিল ৪০ লাখ মেট্রিক টন। সেই খাদ্য ঘাটতি পূরণ করে বাংলাদেশকে তিনি উন্নীত করেছেন খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে। ধান, গম ও ভুট্টা জাতীয় ফসলে বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে ক্রমেই অগ্রসরমান বাংলাদেশ। বর্তমান বিশ্বে প্রতি হেক্টর জমিতে গড় উৎপাদন প্রায় ৩ টন আর বাংলাদেশে তা ৪ দশমিক ১৫ টন। ২০১৪-এর ৭ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কো প্রধান ইরিনা বোকোভা শেখ হাসিনার হাতে ‘শান্তি বৃক্ষ’ পদক তুলে দেওয়ার সময় বলেছিলেন, ‘সাহসী নারী শেখ হাসিনা সারা পৃথিবীকে পথ দেখাচ্ছেন।’

দারিদ্র্যবিমোচন, শান্তি স্থাপন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শেখ হাসিনা ১৯৯৮-এ ফেলিক্স উফুয়েত শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। তিনি এফএও কর্তৃক সেরেস পদক, পার্ল এস বাক পুরস্কারে ভূষিত হন। এ ছাড়াও বিশ্বের খ্যাতনামা বিভিন্ন বিদ্যাপীঠ তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। ২০১১ সালে বিশ্বের সেরা প্রভাবশালী নারী নেতাদের তালিকায় তিনি সপ্তম স্থানে ছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী নিউইয়র্ক টাইমস ২০১০-এ এক অনলাইন জরিপে বিশ্বের সেরা প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর নারী নেতৃত্বের ১০ জনের নাম নির্বাচিত করে। সেই তালিকায় শেখ হাসিনা ছিলেন ষষ্ঠ স্থানে। এশীয় পর্যায়ে ২০১০-এর ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবসের শতবর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থা সিএনএন ক্ষমতাধর ৮ এশীয় নারীর তালিকা প্রকাশ করে। ওই তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে আসীন ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৩০ ডিসেম্বর, ২০১১-তে শেখ হাসিনাকে বাংলা ভাষার ধারক ও বাহক হিসেবে বাংলা একাডেমি তাদের বার্ষিক সাধারণ সভায় সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করে। ২০১২-এর ১২ জানুয়ারি দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি এবং উন্নয়নে অনন্য অবদানের জন্য ভারতের ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে ডক্টর অব লিটারেচার বা ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে। ২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা জয়ের জন্য তিনি সাউথ সাউথ পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৫-এর ২৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৭০তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দি আর্থ’ প্রদান করা হয় শেখ হাসিনাকে। এ ছাড়া তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন’ পুরস্কার লাভ করেন।

২০০৮-এর নির্বাচনে জয়লাভের পর সফলভাবে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি ও সমুদ্রসীমা নির্ধারণ চুক্তি করেছেন। বিশ্বব্যাংকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে শির সমুন্নত রেখে তিনি পদ্মা সেতু নির্মাণের মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। আসলেই শেখ হাসিনা না থাকলে পদ্মা সেতু হতো না। বঙ্গবন্ধু সেতু, বঙ্গবন্ধু সেতুতে রেলপথ নির্মাণ, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের উদ্যোগ, মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ এসবই তার নেতৃত্বে যুগান্তকারী কাজ। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তিনি বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। পূর্বসূরিদের রেখে যাওয়া বিদ্যুতের বিপুল ঘাটতি সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করে জনজীবন থেকে লোডশেডিং দূর করেছেন। বিগত সাত বছরে রাজধানী ঢাকার উন্নয়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছেন। যার ফলে ঢাকার চেহারাই পাল্টে গেছে। নয়নাভিরাম হাতিরঝিল প্রকল্প, চলাচলের সুবিধার জন্য নিত্য-নতুন ফ্লাইওভার শেখ হাসিনার অবদান।

নির্বাচনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে শেখ হাসিনার দাবি তথা গণদাবি অনুযায়ী ১/১১’র সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও জাতীয় পরিচয়পত্রের দাবি মেনে নিয়ে তা প্রণয়নে বাধ্য হয়েছিল। কারামুক্তির পর জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতির সামনে ঘোষণা করেছিলেন রূপকল্প-২০২১। তাতে তিনি প্রধান দুটি অঙ্গীকার ঘোষণা করেছিলেন— এক. ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন দুই. মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে দুটোই এখন বাস্তব। সম্প্রতি জাপানের উপদ্বীপ ইসে-শিমায় জি-৭ ভুক্ত রাষ্ট্রসমূহের আউটরিচ বৈঠকে অংশগ্রহণ করে দেশকে এক অনন্য-উচ্চতায় তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্ব সম্পদের ৬৪ শতাংশের অধিকারী বিশ্বের শক্তিশালী ও উন্নত রাষ্ট্রসমূহের নেতদের প্রতি পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবিলা এবং ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদমুক্ত বিশ্ব গঠনের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।

তিনি নিয়মিত পড়াশোনা করেন। ক্যাবিনেট মিটিংগুলোতে যথাযথ হোমওয়ার্ক করে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে মিটিংয়ে আসেন। একনেক বা ক্যাবিনেট মিটিংয়ের দু-একদিন আগেই মিটিংয়ের আলোচ্যসূচি, প্রস্তাবাবলি আমাদের ফাইলে দেওয়া হয়। যখন একটি বিষয় প্রস্তাব আকারে পেশ করা হয়, তখন সেই বিষয়ের খুঁটিনাটি সমস্ত বিষয় তিনি সভায় সবিস্তারে তুলে ধরেন এবং সঠিকভাবে প্রতিটি প্রস্তাবের ওপরে সুচিন্তিত মতামত ব্যক্ত করেন। তার এই অবাক করা প্রস্তুতি আমাদের মুগ্ধ করে। সারা দিন তিনি কাজ করেন। ভীষণ পরিশ্রমী, হাস্যোজ্জ্বল এবং আবেগময়ী মানুষ তিনি। ধর্মপ্রাণ হিসেবে প্রতি প্রত্যুষে তাহাজ্জুদ ও ফজরের নামাজ আদায় করে তবেই দিনের কাজ শুরু করেন। পিতার মতোই গরিবের প্রতি তার দরদ অপরিসীম। বঙ্গবন্ধুর ফান্ড আমার কাছে থাকত। তিনি গরিব-দুঃখী মানুষকে অকাতরে সাহায্য করতেন। আমাকে নির্দেশ দিতেন তাদের সাহায্য কর। জাতির পিতার কন্যার কাছে গরিব-দুঃখী মানুষ যখন হাত পাতে পিতার মতো তিনিও তাদের সাহায্য করেন। আমাদের দেশে যারা বুদ্ধিজীবী-কবি-সাহিত্যিক-সমাজসেবক, তাদের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ান তিনি। একাধিক গ্রন্থের প্রণেতা বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক। রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বহু পুরস্কার এবং খেতাবে তিনি বিভূষিত। পিতা-মাতার মতো সাদামাটা জীবনে অভ্যস্ত শেখ হাসিনা সংস্কৃতিমান এবং খাঁটি বাঙালি নারী।

বাংলার মানুষের প্রতি শেখ হাসিনার দরদ এবং মমত্ববোধ, তার জ্যোতির্ময় পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চেতনা থেকে আহরিত। তবে এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে, তিনি কেবল বঙ্গবন্ধুকন্যা হিসেবে পরিচিত; বরং আপন যোগ্যতায় স্ব-মহিমায় বাংলার কোটি মানুষের হৃদয়ে তিনি অধিষ্ঠিত। শুধু বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক না, আন্তর্জাতিক নেতা হিসেবে ইতিমধ্যে বিশ্বজনমত ও নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে তিনি সক্ষম হয়েছেন।  বাংলার মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে নিবেদিত বাঙালির নন্দিত নেত্রী শেখ হাসিনার শুভ জন্মদিনে তার দীর্ঘজীবন কামনা করে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা থেকে নিবেদন করছি—

‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির,

জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর

আপন প্রাঙ্গণতলে দিবসশর্বরী       

বসুধারে রাখে নাই খণ্ড ক্ষুদ্র করি \’

লেখক : আওয়ামী লীগ নেতা, বাণিজ্যমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

     tofailahmed69@gmail.com

এই পাতার আরো খবর
up-arrow